বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা আজ : কি বার্তা দেবেন খালেদা

একুশে বার্তা ডেক্স : আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিনকে সামনে রেখে আজ ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’-এর গ্রান্ড বলরুমে সকাল ১০টার বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠক থেকে দেশবাসী এবং নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন তিনি। তার আগে রায় ঘিরে বিএনপি নেতাদের মনোভাব কী তা জানতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুনবেন খালেদা জিয়া। এ সভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলে দু-একদিনের মধ্যে সিলেট যেতে পারেন তিনি। সেখানে হজরত শাহজালাল (র) মাজার জিয়ারত করবেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি নেতারা বলছেন, আজকের সভায় খালেদা জিয়া আগামী দিনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজপথে থেকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবেন।

জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ  বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সিলেট আসা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আজ অথবা আগামীকালকের মধ্যে এটি নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের আগে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছিল। নির্বাহী কমিটির আজকের সভা থেকে আগামী দিনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজপথে থেকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর সব অন্যায়-অত্যাচার পরিহার করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানাবেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিস্থিতি, একাদশ সংসদ নির্বাচন, সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লন্ডন থেকে বক্তব্য রাখবেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির সভা সরাসরি সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির এ বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের এই বছরে চলমান রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির এ সভাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ সভা থেকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন। এ সভায় দেশের চলমান রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে কী করণীয় সে সম্পর্কে তৃণমূলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত শুনবেন চেয়ারপারসন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, ৭৮ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং ১১ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬৯৪ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গতকাল বিকালে আমন্ত্রণকারীদের পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শোক প্রস্তাবও তৈরি হয়ে গেছে। বৈঠকের অনুষ্ঠানস্থলের অঙ্গসজ্জার কাজও শেষ পর্যায়ে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভার দ্বিতীয় অধিবেশনটা গুরুত্বপূর্ণ। এ বৈঠকেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এবার সিদ্ধান্ত নেবে নেতারা। কারণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে আদালতকে ব্যবহার করে আগামী দিনে নির্বাচনে অযোগ্য করার একটি ষড়যন্ত্র করছে। যেহেতু ম্যাডামের মামলা। এতদিন ম্যাডাম আমাদের জন্য করেছেন, এখন ম্যাডামের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ আমাদের এসেছে। সেটা আমরা অবশ্যই করব।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চরম সংকট মুহূর্তে নির্বাহী কমিটির এ বৈঠক। থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ে সাজা হলে দলের করণীয় কী হবে, তা নিয়েই চূড়ান্ত গাইড লাইন তৈরি হবে এ সভায়। রায়ের ফলে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা সে ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা থাকবে। মামলার রায় নেতিবাচক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়ও নির্ধারিত হবে নির্বাহী কমিটির সভায়। বিশেষ করে বেগম জিয়া জেলে গেলে দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলবে, সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও দুপুরের খাবারের বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশন হবে রুদ্ধদ্বার। সেখানে শুধু নির্বাহী কমিটির সদস্যরাই অংশ নেবেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্তও হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা আলোর মুখে দেখেনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান  বলেন, নানা অন্যায়-অত্যাচারের মধ্যেও বিএনপি নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। এ অবস্থায় আজ জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হচ্ছে। এ বৈঠক থেকে শুধু নেতাকর্মী নয়, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ¦ান জানাবেন। একই সঙ্গে সরকারকে বলবেন, অন্যায়-অত্যাচারের পথ থেকে ফিরে গণতন্ত্রের পথে আসতে। এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ভোট করার ব্যবস্থা করতে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এ সভায় কেউ যেন নিজের পাওয়া না পাওয়ার ক্ষোভ বিক্ষোভ সভায় প্রকাশ না করে সে ব্যাপারেও সবাইকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার আগ মুহূর্তে দলের নেতৃত্বে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। তা ছাড়া দল কীভাবে চলবে তা নিয়ে গুটি কয়েক নেতাকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সমালোচনায় ফেটে পড়েন। তাদের দাবি ছিল, তাদের কেউ সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেননি। বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বেগম জিয়াকেও জানানো হয়। তাই এবার আগে থেকেই দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত গাইড লাইন দিয়ে যেতে চান বেগম জিয়া। এরই অংশ হিসেবে আজ নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা যেন সফল না হয় সে জন্য সরকার নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। নেতাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে দিচ্ছে না। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।