ডেক্স রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গঠিত ৪টি টিম রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এই ৪টি টিমের নেতৃত্ব দেন।
গতকাল সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে মাহবুব-উল আলম হানিফের নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকাল ৪টায় রাজধানীর ওয়ারী থানার ৩টি ওয়ার্ড, ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে গঠিত টিম গুলশান-২ কাঁচাবাজার এলাকা, জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকাল ৪টায় মোহাম্মদপুর থানার ৩টি ওয়ার্ড ও আবদুর রহমান এমপির নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকাল ৪টায় রাজধানী পল্টন থানার ৩টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির সমন্বয় করছেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এদিকে কর্মসূচির উদ্বোধন করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে কোনো পাল্টাপাল্টি নয়, আওয়ামী লীগ নিরীহ কর্মসূচি পালন করবে। আমরা জনগণের কাছে যাবো, উত্তেজনা ছড়াবো না।
কোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়াবো না। তিনি বলেন, আমরা মারামারি, হানাহানি, পাল্টাপাল্টির মধ্যে নেই। তবে বিএনপিসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি আবারো সহিংসতা, নাশকতা করে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করবো। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। অক্টোবর মাসে বিএনপির রাজপথ দখলের কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজপথ কে দখল করতে আসে দেখবো।
রাজপথ দখল করতে আসলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে। বিএনপি সাত দফা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের এই সাত দফা দাবি অযৌক্তিক, অবাস্তব এবং কোনো কোনটি সংবিধানবিরোধী। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি। কাজেই, এর মধ্যে এসব অবাস্তব দাবি মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে নিতে পারবে না। অসংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারে না। তিনি বলেন, এই দাবিগুলো তারা শুধুমাত্র বলার জন্য বলছে, তাদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এইসব আবোল-তাবোল বকছে। তারাও জানে এই দাবিগুলো মেনে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণসংযোগ কোনো প্রার্থীর নয়, গণসংযোগ হবে নৌকার। সকল ওয়ার্ড মহানগর জেলা উপজেলা ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে এটাই প্রথম প্রোগ্রাম। ক্যামেরার সামনে লোক দেখানো গণসংযোগ করবেন না। রোববার বিএনপির জনসভায় গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গে জোট করবো এমন মন্তব্য করেছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়। তার পাল্টা জবাবে ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেন শয়তানের সঙ্গে জোট করে তারা, যারা নিজেরাই শয়তান। এ সময় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও গণসংযোগে অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তরে সধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ। এর আগে কর্মসূচি পালন করতে বিবৃতি দেন ওবায়দুল কাদের। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন-এই স্লোগানে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। বিবৃতিতে তিনি যে কোনো ধরনের হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থেকে সকল ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, বিএনপিও এ ভাবে রাজধানিতে লিফলেট বিতরণ করে। অনেকে মনে করেন এটা কি বিএনপি স্টাইলে আওয়ামীলীগ রাজধানিতে লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে।
