বিমানমন্ত্রীর বিদেশ সফরসংগি আওয়ামী দোসর : মন্ত্রণালয়ের জিও সম্পন্ন

স্টাফ রিাের্টার: বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের বিদেশ সফরসংগি হিসেবে সরকারের প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত সচিবসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃৃপক্ষ -বেবিচকে আওয়ামী দোসর চলতি দায়িত্বের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আনোয়ার হোসেন, বেবিচক কর্মচারিরা যাকে আওয়ামী দানব খেতাবে তার অপসারণ চেয়ে ব্যানার নিয়ে সমাবেশ করেছে, এবারও তিনি বিদেশে সফরে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যেই তাদের জিও হয়েছে। মন্ত্রীর ৬ জনের সফরসংগির মধ্যে তার নাম ৫ নম্বরে। তিনি গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বরও বিদেশ সফর করেন।
চলতি দায়িত্বের উপ-পরিচালক যার মূল পদবী সহকারি পরিচালক (সিএনএস) মো: আনোয়ার হোসেনসহ ৬ সদস্য এবার ‘আওকাও’ সম্মেলনে মন্ট্রিল, কানাডা যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এদের মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিও’ হয়েছে। ১৬-২০ নভেম্বর তারা কানাডায় অবস্থান করবেন। আগামী ১৫ নভেম্বর তারা বাংলাদেশ থেকে কানাডার উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন।
এ ব্যাপারে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে গত ০৪ নভেম্বর জিও হয়েছে। যার স্মারকনং-৩০.০০.০০০০.০১৪.১৮.০০৩.২০১৮৯ (পার্ট-১)-৭৪৪, তারিখ: ০১.১০.২০২৬খ্রি:।
জিও-তে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব গোলাম কবীর।
এর আগে গত ০১ অক্টোবর জিও’র জন্য বেবিচক থেকে মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়। যার স্মারকনং-সিএএবি,রেফারেন্সনং-৩০.৩১.০০০০.০০০.১১৭.২৫.০০০১.২৫.৪৪ তারিখ: ০১.১০.২০২৬ খ্রি:।
জিও’র অনুলিপি বেবিচক চেয়ারম্যান, সিজিএ ভবনের ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রধান একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রধান একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।
বিমান মন্ত্রীর সফরসংগি হিসেবে যারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে বেবিচকের ডিডি আনোয়ার হোসেনের নাম সবার মুখে মুখে।
সরকারের অতিরিক্ত সচিব, মেম্বার এডমিন এসএম লাভলুর রহমানের নামও আলোচিত। তিনি ৩ সরকারের আমল থেকে বেবিচকে কর্মরত। তার বদলির দাবী ওঠলেও এখনও তিনি বেবিচকেই বহাল।
এর আগের বিদেশ সফরে তার নাম ( এসএম লাভলুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব, মেম্বার এডমি) জিও-তে থাকলেও সে সফরে তাকে ওভারটেক করে সরকারের আরেক অতি. সচিব , সেমসুর নির্বাহী পরিচালক মো. ওয়াদুদ বিদেশ সফরে যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
এবার বিমান মন্ত্রীর সফরসংগি হিসেবে যারা যাচ্ছেন তারা হলেন: অতিরিক্ত সচিব, মেম্বার এডমিন এসএম লাভলুর রহমান, মেম্বার এফএসআর এয়ার কমোডর মনিরুল হক, বিমান মন্ত্রীর পিএস, উপসচিব সোহেল পারভেজ, ডিডি (সিএনএস-এএনএস) সিসি মো: আনোয়ার হোসেন এবং বেবিচকের এএনএস ইন্সপেক্টর সিএনএস ফয়সল আহমদ।
বিমান মন্ত্রীর সফরসংগিদের মধ্যে বেবিচকের চলতি দায়িত্বের উপপরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন আওয়ামী দোসর দানব খ্যাত, তার সহযোগি আরো ৫ জন। এই ৬ আওয়ামী দানবকে নিয়ে বেবিচক কর্মচারিরা ব্যানারসহ এদের অপসারণে ইতিপূর্বে সমাবেশ করেছে। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে ১৯ আগস্ট/২০২৪ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। দি ফিন্যান্স টুডে-তে ২৫ সেপ্টেম্বর/২০২৪ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্ত এতোকিছুর পরও বার বার এই আওয়ামী দানব অনোয়ার হোসেনকে বিদেশ সফর করানো হচ্ছে। এর অগে গত ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি কানাডা সফর করেন।

বেবিচকের ৬ ‘দানবের’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, চাকরিচ্যুত করার দাবি

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ৬ কর্মকর্তাকে ‘দুর্নীতিবাজ-দানব’ উল্লেখ করে তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলা বেবিচক কার্যালয়ে সকাল থেকে কর্মচারীরা তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

বেবিচকের ওই ৬ কর্তা হলেন— বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক রাশিদা সুলতানা, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, ভাণ্ডার শাখার সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক আনন্দ মন্ডল এবং প্রশাসন বিভাগের আরও একজন।

বিক্ষুব্ধ সাধারণ কর্মচারীরা বলেন, তারা খুনি হাসিনা রেজিমের দোসর। তারা গত ১৫ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে বেবিচকের কর্মকর্তাদের ওপর অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে দানবে পরিণত হয়েছেন তারা। আমরা অনতিবিলম্বে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি চাই।

এক কর্মচারী বলেন, এই কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য করেছেন। যাকে যেখানে খুশি বদলি করেছেন, প্রোমোশন আটকে রেখেছেন, বিদেশে যেতে বাধা দিয়েছেন, তাদের কথামতো কাজ না করলেই বিএনপি-জামায়াতসহ দলীয় ট্যাগ দিয়ে অফিসিয়াল প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতেন। কর্মকর্তাদের অনেকেই আবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হলেও তাদেরকে তা দেননি তারা। আমরা তাদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানাই।

জসীম নামে এক কর্মচারী বলেন, এই কর্মকর্তারা বেবিচকের নানা টেন্ডারবাজির সঙ্গেও জড়িত। তারা অনেকের বিরুদ্ধে ডিজিএফআই এবং এনএসআইয়ের কাছে তথ্য দিয়ে প্রোমোশন আটকানোর কাজ করতেন। তাদের নানা কাজে মদদ দিতেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোকাম্মেল হোসেন। আমরা তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।