বিমানের ক্লিনিং টেন্ডার : অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা : অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ ভুলুন্ঠিত : ১৮ ক্লিনার নিয়োগে দুর্নীতি : বিমানে বছরে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে কোটি টাকার ওপরে

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ বিমানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্লিনিং টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম,দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। গত ফেব্রুয়ারির ক্লিনিং টেন্ডারে অনিয়ম, দুর্নীতি বিমানের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠে আসার পর বিমানের ৩ স্থাপনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ২৮.০৫.২০১৩ তারিখের গেজেটকারে প্রকাশিত ৭-(ক),৭-(খ) ধারা লংঘন করে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণ না করে হ্যাংগার থেকে ১০ জন ক্লিনার ধার করে এনে ক্লিনিং কাজ করানো হচ্ছে।
গত ১২.০৯.২০১৯ তারিখের বিমানের ৩ স্থাপনায় ক্লিনিং টেন্ডারেও অনিয়ম, দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার পরিচালক প্রশাসন বরাবর অভিযোগের পর ওই ৩ স্থাপনায় নিজস্ব ক্লিনার দিয়ে ক্লিনিং কাজ করানোর পায়তারা করা হচ্ছে। । এতে করে বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছে। বিমানকে মাসে কোটি টাকার ওপরে খরচ করতে হবে বিমানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্লিনিং কাজে। এর সাথে জড়িয়ে পড়ছে বিমানের পূর্ত বিভাগের বদলিকৃত এক জিএম, সম্পত্তি ম্যানেজার জনাব আলি, সম্পত্তি অফিসার দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার এটেন্ডডেন্ড মনি বেগম।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিমানের গত ৬.২.২০১৯ তারিখের টেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তুলি এন্টারপ্রাইজ’কে কার্যাদেশ দিতে না পেরে তদন্ত প্রতিবেদনের পর বাতিলকৃত (টেন্ডার) ডমেস্টিক ভবন, মহাব্যবস্থাপক এয়ারপোর্ট ও অপারেশন ভবন- এই ৩ স্থাপনায় ক্লিনিং কাজ সম্পন্ন করতে হ্যাংগার থেকে ১০ ক্লিনার ধার করে এনে ক্লিনার জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন ও ক্লিনিং পণ্য ক্রয় বাবদ মাসে ২০ হাজার টাকাসহ বিমানের এক বছরে খরচ হবে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অথচ আউট সোসিং-এ টেন্ডারের স্বচ্ছতার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ওই ৩ স্থাপনায় ক্লিনিং কাজ করানো হলে বিমানের মাসে ২৭ হাজার ৭ শত টাকা করে বছরে খরচ হতো ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪ শ টাকা। আউট সোসিং-এর মাধ্যমে কাজ না করানোর ফলে বিমান এই ৩ স্থাপনায়-ই বছরে অতিরিক্ত খরচ করবে ৩৫ লাখ টাকার ওপরে।
১২.০৯.২০১৯ তারিখের বিমানের ৩ স্থাপনায় টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া সংক্রান্ত বিমানের এমডি বরাবর আবারও অভিযোগের পর পুরনো ৩ স্থাপনার মতো করে নিজস্ব ক্লিনার দিয়ে ক্লিনিং কাজ করানোর পায়তারা করা হচ্ছে। এর সাথে বিমানের পূর্ত বিভাগের বদলিকৃত জিএম, সম্পত্তি অফিসার দেলোয়ার হোসেন এবং ক্লিনার এটেন্ডডেন্ড মনি বেগমের নাম অভিযোগে ওঠে এসেছে।
বিমানের ১৬০ জন ক্লিনার, সুইপার মালি শ্রমিক ইউনিয়ন করে কাজ না করে বছরের পর বছর বেতনভাতা নিতো। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ায় ১৬০ ক্লিনার তৎকালিন পূর্ত জিএম মোসাদ্দেককে বেলচা-ঝাড়– নিয়ে তার অফিসে আটকে রাখে, তৎকালিন বিমানের এমডির হস্তক্ষেপে এর সুরাহা হয়। ওই ১৬০ ক্লিনারকে বিমানের বিভিন্ন বিভাগে চাকরি স্থায়ীকরন করা হয়। সেই ১৯৮৮ সাল থেকে বিমানের ১৪ স্থাপনায় ক্লিনিং কাজে আউট সোসিং-এর মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্লিনার দিয়ে ক্লিনিং কাজ করিয়ে আসছে বিমান। হঠাৎ করে ১৮.০৮.২০১৬ তারিখে পূর্ত জিএম আজিজের নেতৃত্বে সম্পত্তি অফিসার দেলোয়ার হোসেন ও ক্লিনার এটেনডেন্ট মনি বেগমের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ১৮ জন ক্লিনার ও ২ জন সুপারভাইজারকে বিমানের নিয়োগ শাখা থেকে নিয়োগপত্র না দিয়ে পূর্ত বিভাগ থেকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এতে করে বিমানের ১৮ জন ক্লিনার ও ২ জন সুপারের মাসিক বেতনভাতা বাবদ বছরে খরচ হচ্ছে ৭৫ লাখ টাকার ওপরে। ক্রমশ-