বিমানের ৩ স্থাপনায় ক্লিনিং টেন্ডার নিয়ে তোঘলকি কারবার : পরিচালক প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুন: তদন্ত নির্দেশ

: সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসসমূহে পরিছন্নতা কাজের আহবানকৃত দরপত্রে বিমানের জামায়াত সম্পৃক্ত কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে তুলি এন্টারপ্রাইজকে চূড়ান্ত কার্যাদেশ প্রদানের পাঁয়তারা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ডিজিএম কামাল উদ্দিন ফেসে যেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিষয়টি পুন: তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পরিচালক প্রশাসন। নতুন করে  ম্যানেজার ইন্ডাট্রিয়াল পার্ক মজিবর রহমান বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের অফিসসমূহ, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনের অফিসসমূহ ও বিমান অপারেশন ভবনের পরিছন্নতা কাজে ২ বছররে জন্য দরপত্র আহবান করলে ৭টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। তন্মধ্যে সর্বনি¤œ দরদাতা ঐশি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স নাহিদ টেডার্স, মেসার্স গাজী এন্ড ব্রাদার্স, মেসার্স রাতুল এন্টারপ্রাইজ, ক্রাউন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভলমেন্ট লিঃ, মেসার্স এ, এ, ট্র্রেডিং ও মেসার্স তুলি এন্টারপ্রাইজ হয়। তমধ্যে বিমান কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী মেসার্স নাহিদ ট্রেডার্স ও মেসার্স গাজী এন্ড ব্রাদাসের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। অন্য ৫টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র বেশীরভাগই সঠিক নয়। ্ তুলি এন্টারপ্রাইজের দাখিলকৃত অভিজ্ঞতার সনদ ও ১৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ ভূয়া ও বানোয়াট। এ বিষয়ে সম্প্রতি মেসার্স নাহিদ ট্রেডার্সের মালিক বিমানের পরিচালক প্রশাসনকে বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের জন্য আবেদন করেন। । অথচ জামায়াতে ইসলামের সক্রিয়কর্মী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের, ডিজিএম (হিউম্যান রিসোর্সেস) কামাল উদ্দিন আহমেদ, এস্টেট ম্যানেজার জনাব আলি ও জামায়াতে ইসলামের রোকন ক্লিনার এটেনডেন্ট মনি বেগমের যোগসাজশে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তুলি এন্টারপ্রাইজকে চূড়ান্ত কার্যাদেশ  দেয়ার পাঁয়তারা করছে।
অতি সম্প্রতি বিমানের পরিচ্ছন্নতা কাজের দরপত্র নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক প্রশাসন জিয়া উদ্দিন আহমেদ  সততা ও ন্যায়ের স্বার্থে বিষয়টি তদন্তের জন্য বিমানের  ব্যবস্থাপক (ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল রিলেশন) মো: মুজিবুর রহমানকে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নিদের্শ দেন। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বিমানের ব্যবস্থাপক (ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল রিলেশন) মো: মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি বিমানের পরিচালক প্রশাসন মহোদয় আমাকে এ বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বিষয়টি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করব।
উল্লেখ্য, বিমান কর্তৃক সিডিউলে অনিয়ম রয়েছে।দরপত্রে প্রক্কলন ব্যায় এক বছরে ২৪ লাখ টাকা ধরা হয় ।পরবর্তিতে টেন্ডার ওপেনিংয়ে দেখা যায়, দুই বছরে প্রক্কলন ব্যায় ২৮ লাখ ৪৪হাজার টাকা।বিমানের সম্পত্তি ও সাধারন সুবিধা বিভাগ ইজিপির দোহাই দিয়ে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যায়। মূলত,বিমানের সম্পত্তি ও সাধারন সুবিধা বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের পছন্দমত ঠিকাদারদের পূর্বেই বাজেট এবং ১০শতাংশ কম/বেশি এর বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন।অথচ সিডিউলে ২ বছরে ২৮ লাখ ৪৪হাজার টাকা ১০ শতাংশ কম/বেশি এর কোন কথাই উল্লেখ ছিলনা । তাই অনেক ঠিকাদার সঠিক দর প্রস্তাব করতে পারেননি।এমতাবস্তায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অতি সম্প্রতি দরপত্রটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহবানের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, মেসার্স তুলি এন্টারপ্রাইজের অভিজ্ঞতার সনদটি বাংলাদেশ ফ্রেইড ফরোয়ারডিং এসোসিয়েশন মালিক সমিতি কর্তৃক প্রদত্ত।কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ফ্রেইড ফরোয়ারডিং এর কোন ক্লিনিং কাজ নেই।এদের কাজ হলো শুধুমাত্র এক্সপোর্ট বা রপ্তানি ভবনে কার্টুনে স্টিকার লাগানোর পর স্টিকারের অপসারিত অংশটুকু (কাগজ)ফ্রেইড ফরোয়ারডিং এর নিজস্ব স্টাফ দ্বারা বস্তাজাত করে।সেই বস্তাগুলি তুলি এন্টারপ্রাইজ নিজস্ব গাড়ি দ্বারা সপ্তাহে তিনদিন অপসারন করে মাত্র।বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসিক ১৫হাজার টাকায় ৭/৮ মাস এই গাড়ি ভাড়ার কাজটি করে। একই কাজটি বর্তমানে ক্রাউন প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিঃ করছে।তাই মেসার্স তুলি এন্টারপ্রাইজের প্রদত্ত অভিজ্ঞতার সনদ জাল ও ভুয়া।বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে।আরো উল্লেখ্য ১৪ লক্ষ টাকার কার্য্যাদেশের জায়গায় বি এফসিসি থেকে গার্বেজ ক্রয়ের মাধ্যমে অপসারন করে মাত্র।সেখানকার কার্য্যাদেশ এই দরপত্রে দাখিল করে ,যেটা ক্লিনিং কাজের কার্য্যাদেশ নয়। কোম্পানিটির বাফা কর্তৃক ভুয়া অভিজ্ঞতা ও বিএফসিসি কর্তৃক গার্বেজ ক্রয়ের কার্য্যাদেশ দাখিল সম্পূর্ণ চৌর্জবৃত্তি ও চাতুরতা মাত্র।যা বিমানের ক্লিনিং দরপত্রের চাহিদার পরিপন্থি। বিষয়গুলি বিচার বিশ্লেষণ করে তুলি এন্টারপ্রাইজের কাগজপত্র বাতিলসহ  জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করতে মেসার্স  নাহিদ ট্রেডার্স গত ২৯ এপ্রিল বিমানের পরিচালক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন।