বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্সে এমটি সেকশনে কর্মরত এমটি ড্রাইভার সবুজকে বদলির জের হিসেবে সিএএবি নেতারা বুধবার বিমান অফিস ঘেরাও করে। রাতভর সিবিএ অফিসে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হলে ওভারটাইম বন্ধ করে দেয়া হবে, কেউ ওভারটাইম করবে না, তখন কর্তৃপক্ষ লোক না পেয়ে বদলি প্রত্যাহার করে নেবে। উল্টো সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের ভাই পরিচয়ধারি ‘ওপরে আ‘লীগ ভিতরে ছাত্রদল কর্মী মনির খানকেই এমটি সেকশন থেকে বদলি করে দেয়ার দাবি করেন সিবিএ নেতারা।
উল্লেখ্য, সরকার দলীয় শ্রমিক সংগঠন বিমান শ্রমিক লীগের সাথে জড়িত সবুজ নামের একজন এমটি ড্রাইভারকে এমটি সেকশন থেকে ঢাকার বাইরের সেটশনে বদলি করা হয়। বদলি করেন এমটি ম্যানেজার সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খানের ভাই পরিচয়ধারি মনির খান। এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়্ । ঘটনার জের হিসেবে সিবিএ নেতৃবৃন্দ বুধবার রাতভর মিটিং করেন, দিনের বেলা বিমান অফিস ঘেরাও করেন। তার বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাবি না মানলে ওভারটাইম বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
সিবিএ নেতৃবৃন্দ আলাপচারিতায় জানান, সাবেক বিমানমন্ত্রীর ছোট ভাই পরিচয়ধারি মনির খান ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রদল করতো। এখনও সে ধারাবাহিকতা রয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানকে অনুরোধ করে মনির খানকে কেবিনক্রু হিসেবে বিমানে চাকরি দেয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর আ‘লীগ সরকারে আসার পর রাতারাতি মনির খান ছাত্রদলের কর্মী থেকে নব্য আ‘লীগার সেজে যান। সখ্যতা গড়ে তুলেন সরকার দলীয় একজন প্রভাবশালী সাংসদের সাথে। বিমানবন্দরে ওই সাংসদের প্রটোকল করতে থাকেন। তৎকালিন বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপ্টেন নাসিরকে পরিচয় করিয়ে দেন ওই সাংসদের সাথে। এ সুবাধে ক্যাপ্টেন নাসির পুরস্কার হিসেবে মনির খানকে বিমানের নিয়মনীতি ভংগ করে তার মাস্টার চাকরি কেবিনক্রু পদ থেকে গ্রুপ-৪ থেকে গ্রুপ-৭-এ পদায়ন করা হয় অর্থাৎ ব্যবস্থাপনার দিকে চলে যান মনির খান। প্রথমে সহকারি ব্যবস্থাপক প্লানিং-এ নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে মনির খান ফুল ব্যবস্থাপক এবং ম্যানেজার এমটি পদে কর্মরত।
মনির খানের স্ত্রীও বিমানের একজন কেবিনক্রু। মনির খান যখন কেবিনক্রু পদে কর্মরত সে সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ট্যাক্সএবল পণ্য ট্যাক্স ব্যতীত বিমানবন্দর দিয়ে নিয়ে যাবার সময় তাকে (মনির খান) ও তার স্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ কাস্টমস হলে আটকা থাকার রেকর্ড রয়েছে বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে বিমানের এমটিপুলে গিয়েও মনির খানকে না পেয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
