বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করলেন প্রকৌশলী মিহির : প্রকল্পের প্রকৌশলীদের কি প্রধান প্রকৌশলী করা হচ্ছে?

স্টাফ রিপোর্টার : পদোন্নতি প্রদানের দাবি এবং ২ জুনিয়র প্রকৌশলী শুভাশিষ বড়–য়া ও জাকারিয়াকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেবার প্রতিবাদে নিজের অধিকার ক্ষুন্নের ব্যাপারে অধিকার ফিরে পেতে বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন মামলা করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ইএম মিহির চাদ দে। আগেও তিনি বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মামলা করেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরে জেনারেটর দুর্নীতি মামলায় দুদকের মামলার আসামী প্রকৌশলী মিহির চাদ দে বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ট্রাইব্যুনাল মামলা করেন। পরে মামলা প্রত্যাহার করার পর এবং জনপ্রশাসন, অর্থ, আইন, বিমান মন্ত্রণালয় এবং বিমান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত গত সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বেবিচক কর্তৃৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান প্রকৌশলী ইএম মিহির চাদ দে-কে বেবিচকে স্বপদে ( নির্বাহী প্রকৌশলী ইএম) যোগদানের সুযোগ করে দেন। এবং এ সংক্রান্ত প্রঙাপনে সাবেক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান স্বাক্ষর করেন। সে থেকে তিনি (প্রকৌশলী মিহির) বেবিচকে ইএম বিভাগে প্রধান প্রকৌশলীর পাশের রুমে বসে বেবিচকের ঠিকাদারি কাজের একিউজ করছেন।
এবার তিনি তার পদোন্নতি এবং তার জুনিয়র ২ প্রকৌশলী জাকারিয়া এবং শুভাশিষ বড়–য়াকে একইদিনে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়ার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর : ৪৭৭৪/২২ , মামলায় বিমান সচিব, বেবিচক চেয়ারম্যান, সদস্য এডমিন, পরিচালক এডমিনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রকৌশলী মিহির চাদ দে জানান, প্রকৌশলী বড়–য়া ও জাকারিয়া প্রকল্পের লোক, প্রকল্প শেষ হলেও তাদের চাকরি শেষ হয়নি। বোর্ডিং ব্রীজ এ প্রকল্পে তাদের সাথে আরো ৪ প্রকৌশলীও আছেন।
বিষয়টি জানতে প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজের সেল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
মামলার বাদি প্রকৌশলী মিহির চাদ দে আরো জানান, ট্রাইব্যুনালে নয়- উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলা করেছি। আমাকে পদোন্নতি বন্ঞিত ও আমার জুনিয়র ২ প্রকৌশলীকে পদোন্নতি প্রদান করার প্রতিবাদে মামলা করেছি।
এ দিকে প্রকৌশলী মিহির চাদ দের ডিপিসি সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী মিহিরকে পদোন্নতি না দেয়া পর্যন্ত প্রকৌশল বিভাগে সবার পদোন্নতি না করার স্দ্ধিান্ত গ্রহীত হয়। এতে মেম্বার এডমিন জোরালো ভুমিকা পালন করেন বলে জানা যায়। এর ফলে গত ১৫ বছর পদোন্নতি বন্ঞিত বৈষম্যের শিকার যারা তারা মানসিকভাবে মূষড়ে পড়েছেন।
আইনগত বিষয় হচ্ছে দুর্নীতির মামলার আসামীকে কিভাবে পদোন্নতি দেবে বেবিচক? স্বপদে রেখে ঊর্ধতন পদে রুটিন দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। যে ভাবে শহিদুল আফরোজকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ দিকে প্রকল্পের ওই ২ প্রকৌশলীর দুদক ক্লিয়ারেন্স-এর জন্য বেবিচক চেয়ারম্যান দুদকে দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছেন। প্রকৌশল বিভাগ থেকে আউট হওয়া এক প্রকৌশলীরও দুদক ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে। এদের দুদক ক্লিয়ারেন্স আসার পর কি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হবে? এটা কি গত ডিপিসি বৈঠকের সিদ্ধান্ত?
সিদ্ধান্তের হোতা মেম্বার এডমিন এখনও বেবিচকে বহাল। মেম্বার অপস এবং মেম্বার এফএসআর বদলি হয়ে চলে গেলেও মেম্বার এডমিন এবং মেম্বার অর্থ এখনও বেবিচকে বহাল।
এরমধ্যে মেম্বার অর্থকে এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। এরা আওয়ামী দোসর বলে বেবিচক কর্মচারিরা ব্যানার টাংগিয়ে দিয়েছে। এরমধ্যে মেম্বার এডমিন পালাতে গিয়ে বিমানবন্দরে ধরা খাওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের ঘনিষ্ঠ, বাড়ি একই এলাকায়, বৃহত্তর রাজশাহীতে।
অন্য দিকে মেম্বার অর্থ ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ এবং রাষ্ট্রপতির একান্ত সচি দিদারুল আলমের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা যায়।