স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের নিজব শর্তাবলি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রঙাপন আদেশ লংঘন করে চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেনকে ইএম-১/২-এর আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পরিচালক অর্থ-এর স্বাক্ষরে এ ব্যাপারে ৫ মে/২৫ প্রঙাপন জারি করা হয়েছে।
প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেন ইএম-১/২-এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। তাকে চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপপরিচালক প্রশাসন আবিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত গত ০৭.০৪.২০২৫ তারিখের প্রঙাপনে কতিপয় শর্তাবলি জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘চলতি দায়িত্ব পদোন্নতি হিসেবে দাবি করা যাবে না।চলতি দায়িত্ব পালনকারি কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব পালনের কারণে চলতি দায়িত্বের পদে বা অন্য কোন পদে পদায়ন, বদলি বা পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনরূপ অগ্রগণ্যতা বা অধিকার অর্জন করবেন না।’
কিন্ত এ সব শর্তাবলি লংঘন করে চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী জাকারিয়াকে ইএম-১/২-এর আয়র-ব্যয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে ইএম-১/২-এর নির্বাহী প্রকৌশীদের লুজনোটে শাহজালাল বিমানবন্দরে উন্নয়ন ও মেরামত কাজে স্থবিরতা চলছে। ‘ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদটি শূন্য রয়েছে’– মন্তব্য করে নির্বাহী প্রকৌশলীরা এ লুজনোট জারি করেছেন।
ইএম-১-এ চলতি দায়িত্বের নির্বাহী প্রকৌশলী খোরশেদুল ইসলাম লুজনোট জারি করে এক দাপ্তরিক চিঠিতে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্নিত কাজগুলি বার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং হশাবির জরুরী অপারেশন কাজের স্বার্থে সংযুক্তকৃত কাজগুলি প্রাক্কলন বর্ণিত প্রতিবেদন অনুযায়ী অতীব জরুরি। উক্ত কাজগুলি হযরত শাহজালাল আর্ন্ত্জাতিক বিমানবন্দরের সুষ্ঠু অপারেশন ও যাত্রী সেবার মান সমুন্নত রাখার প্রয়োজনে সম্পাদন করা প্রয়োজন।
এরপরও বেবিচক কর্তৃপক্ষ ‘কম্ভুকর্ন’। ইএম-১/২-এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদটি গত প্রায় দেড়মাস যাবত শূণ্য পড়ে থাকলেও ২০২৩ সালের একটি প্রঙাপনের দোহাই দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সদস্য প্রশাসন এ ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন বলে অনেকে জানান। আর তাই পরিচালক অর্থ মোয়াজ্জেম হোসেন তার জারিকৃত দাপ্তরিক চিঠিতে স্বীকার করেছেন যে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনায় চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলীকে ইএম-১/২-এর আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি তার জারিকৃত প্রঙাপনে আরো স্বীকার করেছেন যে, ইএম-১/২-এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদটি শূন্য থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করণে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে–যেখানে বলা হয়েছে কর্মচারিরা বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ইএম-১/২-এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর শূন্য পদে জনবল পদায়ন নিয়ে প্রভাব শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু এক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ডবল দায়িত্ব/ এক মাথায় দুই টুপি পরানোরও পায়তারা করা হচ্ছে। ওই প্রকৌশলীকে এর আগে প্রধান প্রকৌশলী করার প্রস্তাবনা করে মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক চিঠিও পাঠানো হয়।
বেবিচকের প্রশাসন ঢেলে সাজানো দরকার : বেবিচকের প্রশাসনের আওয়ামী দোসররা বসে আছেন। প্রশাসনের কি-পয়েন্টে বসা কর্মকর্তাও নাকি আওয়ামী দোসর। এক উপপরিচালক ১৫ বছর যাবত এ দপ্তরে। আওয়ামী দোসর কেরানিরাও জেকে বসে আছেন প্রশাসনে। সরকার পরিবর্তন হলেও ্এদেরকে বদলি করা হয় না।এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা-ক্যাডারদের পদোন্নতি দিচ্ছে, প্রাইজ পোস্টিং দিচ্ছে। বদলির পরও এরা আগের দপ্তরেই বসে আছেন। আর যারা দীর্ঘদিন যাবত বৈষম্যের শিকার তারা আরো বৈষম্যের শিকারে পরিণত হচ্ছেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
