একুশে বার্তা প্রতিবেদন ; অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদিতে জাতির পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ফুল দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিদেশি কূটনীতিকরা। আরও শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনীর প্রধানরাসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে ফুলেল ভালোবাসা জানাতে সর্বস্তরের জনতার পদভারে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতির মিনার। বাহারি ফুল দিয়ে সাজানো পুষ্পার্ঘ্য অপর্ণে বেদিমূলে ভিড় করেন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি…।
এদিকে হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা ও পরম মমতায় ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে পুরো জাতি। রাত ১২টা ১ মিনিট বাজতেই সাধারণ মানুষ ভিড় জমায় দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার শহীদ মিনারগুলোতে।
নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা
আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শহীদ মিনার এলাকার চারপাশে চারটি ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল সীমিত করে দেয় পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পোশাক ও সাদা পোশাকে সর্বক্ষণ পাহারায় রয়েছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। পুরো এলাকা ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় আনা ছাড়াও বসানো হয়েছে র্যাব ও পুলিশের আর্চওয়ে মেশিন। প্রতিনিয়ত র্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও সুইপিং টিম পর্যবেক্ষণ ও সুইপিং করছে পুরো শহীদ মিনার এলাকা। পুলিশ, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষও বসানো হয়েছে কয়েক স্থানে।
এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারিতে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদী কার্যক্রম যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এর আগের দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও জানিয়েছিলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৪ স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। সব মিলেয়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা।
গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জমান শহীদ মিনার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে যাতায়াতের সাময়িক অসুবিধা হলেও আপাতত এ ছাড়া আর তেমন কিছু করার নেই। ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসটিকে স্বগৌরবে এবং স্বমহিমায় উদযাপনের জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে র্যাব যে কোনো দায়িত্ব পালন করে থাকে। তবে জঙ্গি দমনই র্যাবের প্রধান লক্ষ্য, যা থেকে আমরা কখনই বিচ্যুত হব না। কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পেসিফিক কোনো থ্রেট নেই। তবে সবসময় আমরা বিষয়টা মাথায় রাখি। আর সেগুলো মাথায় রেখেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সবসময় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দারাও প্রতিনিয়ত জঙ্গিদের গতিবিধির প্রতি নজর রেখে চলেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি ভাগে ভাগ হয়ে র্যাব দায়িত্ব পালন করবে।
র্যাব প্রধান বলেন, রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারা দেশের যেসব স্থানে শহীদ মিনার আছে সেসব জায়গায়ই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে র্যাব। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ৫টি সেক্টরে বিভক্ত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া থাকবে সাদা পোশাকে র্যাব টহল ও মেডিক্যাল টিম।
বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ইউনিটও প্রস্তুত থাকবে। পোশাকধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে শহীদ মিনার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই শহীদ মিনার এলাকার চারপাশে চারটি ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল সীমিত করে পুলিশ। টিএসসি থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে ঢুকতে একটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের গাড়ি ছাড়া আর কিছুই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে দোয়েল চত্বর, মেডিক্যাল গেট ও শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে একটি ব্যারিকেড দিয়ে যে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
