নিউজ ডেক্স : সচিব- সহকারি সচিবের পদ-পদবি ব্যবহার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। একবছরেও তা মিটছে না।মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের পরিপত্র মানছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এ নিয়ে এক তরুণীর সংসারও ভেংগে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সহকারী সচিব পরিচয় পেয়ে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন এক তরুণী। পরে তাদের বিয়েও হয়। বিয়ের পর তরুণীর পরিবার জানতে পারে ওই যুবক আসলে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নন। তার দপ্তরে নালিশ করে তরুণীর পরিবার। শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দিতে বাধ্য করা হয় যুবককে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ব্যবহৃত সরকারের বিভিন্ন পদ, নাম ও পদবিসমূহের বিধিবহির্ভূত এমন ব্যবহারে বহু বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে গত বছর একটি নির্দেশনাও জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না অনেক দপ্তরে।
কিছু দপ্তর তাদের নিজস্ব সৃষ্ট পদে সচিব পদ-পদবি ব্যবহার করছে। মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনার পরও সেগুলো সংশোধন হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের সিনিয়র সচিব-সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব ও সহকারী সচিব পদসমূহের যথেচ্ছার ব্যবহারের কারণে তাদেরও অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।
সম্প্রতি এক নির্বাচনে কমিশনের (ইসি) একজন কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব পরিচয়ে একটি জেলা শহরে সফরে যান। সেখানে তিনি প্রশাসন ও পুলিশের কাছে প্রটোকল গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইসির ওই কর্মকর্তার প্রকৃত পদ জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন বিব্রত হয়। কর্মকর্তারা আরো জানান, কিছু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সচিব পদ আছে। তারা প্রকৃতভাবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নন। বিভিন্ন সভা কিংবা অনুষ্ঠানে তারা সচিব পদের পরিচয় দিলে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিব্রত হতে হয়। নির্বাচন কমিশন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারের না হওয়া সত্ত্বেও যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব ও সহকারী সচিব পদ-নাম ব্যবহার করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রামেই পদগুলো এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এই অর্গানোগ্রাম সংশোধনের জন্য গত বছরের অক্টোবর মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। কিন্তু এক বছর পার হলেও সেই অর্গানোগ্রাম সংশোধন করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(৬)-এর আলোকে প্রণীত রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬, সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০১৪ এবং অন্য বিধি দ্বারা সরকারের বিভিন্ন পদ-নাম ও পদবি সংজ্ঞায়িত। সরকারের সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব ও সহকারী সচিব পদসমূহে ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি ‘সরকারের উপ-সচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
পরিপত্রে আরো বলা হয়, সরকারের পদ-নামসমূহ বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা-সংগঠন, অধস্তন অফিস ও সংযুক্ত দপ্তরসমূহ এবং বেসরকারি অফিসসমূহে ব্যবহৃত হচ্ছে। উপরোল্লিখিত বিধিমালা দ্বারা নিয়োগ বা পদোন্নতিপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তি সরকারের পদ-নামসমূহ অননুমোদিত ব্যবহারের ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিধিবহির্ভূতভাবে বা আংশিক পরিবর্তন করে উল্লিখিত সরকারি পদ-নামসমূহের ব্যবহার নৈতিকতা পরিপন্থি এবং ‘দণ্ডবিধি-১৮৬০’ ও ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনা প্রদান করে যে, মন্ত্রণালয়-বিভাগের অধীন অফিসগুলোয় পদনাম ও পদবি সৃজনের ক্ষেত্রে সরকারি পদনাম ও পদবি ‘সহকারী সচিব’, ‘উপসচিব’, ‘যুগ্ম সচিব’, ‘অতিরিক্ত সচিব’, ‘সচিব’, ও ‘সিনিয়র সচিব’ যেন ব্যবহৃত না হয় এবং ইতিপূর্বে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোতে বিদ্যমান ত্রুটি-বিভ্রান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারের মন্ত্রণালয়-বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর ও অধীন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামোতে অনুমোদিত পদনাম ও পদবি পূর্ণাঙ্গ ও সঠিকভাবে তাদের দাপ্তরিক সিলমোহর, নেমকার্ড, নেমপ্লেট, নথি ও ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে হবে। রাষ্ট্রীয়-জাতীয় অনুষ্ঠানসমূহে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রক্ষিত কর্মকর্তাদের তালিকা অনুসরণেরও পরামর্শ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘বিধি ও সেবা অধিশাখা এবং আইন অধিশাখা’-এর যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত তাদের অর্গানোগ্রাম সংশোধন করেনি তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সরকারি পদনাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।মানব জমিন
