বিশেষ সংবাদদাতা : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা লন্ডন ফ্লাইটে ‘ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’যুক্ত নিরাপত্তা স্ট্রীকার ল্যাগেজে লাগানো ঘটনায় মূল নায়ক নিরাপত্তা সুপার সালেহা বেগম লাভলী, আদম পাচারের সহযোগি আনসার উল্লাহ জসিমসহ ৮ জনকে সাসয়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্ত ঘটনার দিন খলিলুর রহমান নামে একজন নিরাপত্তা সুপার ‘জিয়া বিমানবন্দর’যুক্ত নিরাপত্তা স্ট্রীকার ল্যাগেজে সরাসরি লাগালেও এবং কর্তৃপক্ষ তা উৎঘাটন করলেও তাকে সাসপেন্ড না করার বিষয়ে ব্যাপক গুনজন শুরু হযেছে। বলাবলি করা হচ্ছে যে ছুটিতে ছিল তাকে সাসপেন্ড করা হলো আর যে স্ট্রীকার লাগলো তাকে পুরস্কৃত করা হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৪ সালে জিয়া বিমানবন্দরের নামে ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ মনোগ্রাম খচিত এই নিরাপত্তা স্ট্রীকার সরবরাহ করা হয় বলে তদন্ত সংশিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন। আর যে লকবুকে তা এন্ট্রি করা হয়েছে তাও জব্দ করা হয়েছে। এর সূত্র ধরেই তদন্ত সংশ্লিষ্ট টিম তদন্ত কাজে অগ্রসর হচ্ছে। ২০০৪ সালের ‘জিয়া বিমানবন্দর’ মনোগ্রাম খচিত নিরাপত্তা স্ট্রীকার দীর্ঘ ১৪ বছর পর কিভাবে বিমানবন্দরে এলো, আর কিভাবে তা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে লন্ডন ফ্লাইটে প্রকাশ্যে যাত্রী ল্যাগেজে লাগানো হলো- তা ভাবিয়ে তুলছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। আর যে মহিলা নিরাপত্তা সুপার লাভলী নিষেধাঙ্ঘা সত্বেও লন্ডন ফ্লাইটে যাত্রী ল্যাগেজে নিরাপত্তা স্ট্রীকার রেনডাম লাগাতো- যা ভিডিও ফুটেজে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখতে পেয়েছেন- তা কিভাবে সম্ভব হলো ? তা হলে এতোদিন নিরাপত্তা সুপার লাভলীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে নিরাপত্তা সুপার সালেহা বেগম লাভলী সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) রাশিদা সুলতানার খুব কাছের লোক। রাশিদা সুলতানা যখন সিএসও’র দায়িত্ব পালন করতেন তখন থেকেই রাশিদা-লাভলী গলায় গলায় ভাব ছিল? রাশিদা সুলতানা বর্তমান সরকার প্রধানের নাম ভাংগিয়ে প্রভাব বিস্তার করায় উর্ধতন কর্মকর্তারা রাশিদাকে সমীহ করে চলেন বলে শোনা যায়। যার কারণে ৭টি কারণ দর্শানো নোটিশ, ১টি কৈফিয়ত তলব করে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজি ইকবাল করিমকে চলে যেতে হলেও রাশিদা শাহজালালেই বহাল, তাকে বিমানবন্দর থেকে সরায় এমন সাধ্য কার? বরং রাশিদাকে চলতি দায়িত্বের ডিডির ( প্রশিক্ষন) পদোন্নতি দিয়ে শাহজালালেই পোস্টিং করে রাখা হয়েছে। অথচ রাশিদা সুলতানার খাতিরের লোকরাই একের পর এক বিভিন্ন অপরাধে ধরা খাচ্ছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ইয়াবা কেলেংকারিতে যাদেরকে তিনি আগলে রেখেছেন তারা ধরা খেয়েছে। রাশিদা সুলতানার কাছের লোক বলে জনশ্রুতি এক নিরাপত্তা অপারেটর- যা গণ মাধ্যমে স্বচিত্র প্রচার করা হয়েছে, শাহজালালে ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত নিারাপত্তা গার্ড বেলায়েত হোসেন সেলিমের মামা। অর্থাৎ – বেলায়েত মামা-ভাগিনা। লন্ডন ফ্লাইটে ‘জিয়া বিমানবন্দরের” নামে নিরাপত্তা স্ট্রীকর লাগানো এবং ইয়াবাসহ বেলায়েতের ধরা খাওয়া- দুটো ঘটনাই ২/৩ দিন আগে-পরের ঘটনা। দুটো ঘটনায়ই কর্তৃপক্ষের ভাবর্মর্তি ক্ষুন্ন করার মতো। এসব ঘটনা কি কর্তৃৃপক্ষকে খাটো করার জন্যই করা হচ্ছে নাকি প্রশাসনের কি-পয়েন্টে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন বসে বসে এসব ঘটনার জন্ম দিচ্ছে -তাও ভাবিয়ে তুলছে কর্তৃৃপক্ষকে।
‘জিয়াার নামে নিরাপত্তা স্ট্রীকার’ লাগানোর ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও ইয়াবা পাচারের ঘটনায় কোন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। ১৩ হাজার পিচ ইয়াবা পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে নিরাপত্তা গার্ড বেলায়েত হোসেন সেলিম রিমান্ড শেষে জেলে অন্তরীন হলেও তার সহযোগি যারা দীর্ঘদিন যাবত শাহজালাল কেন্দ্রিক আদম পাচারসহ বিভিন্ন পাচারে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সেই সাখাওয়াত হোসেন তুহিন, কেএম সাইফুজ্জামান হিরন Ñ( মা কাশিয়ানি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় বলে বিমানবন্দরে বলাবলি করা হচ্ছে) , স্বঘোষিত কর্মচারি নেতা বনে যাওয়া প্রযুক্তি সহকারি যিনি ১০০০ ইউএস ডলার চুরির নায়ক- সেই ফরিদ গ্রুপের সদস্য ঈদ্রিস মোল্যা, ব্রোর্ডিং ব্রীজ অপারেটর স্টোরম্যান পদে পদায়নকৃত রায়হান, ‘ডি’ শিফটের নিরাপত্ত গার্ড আমিনুল, মানিক, মতিন, রাকিব, জাহাংগির, খলিল, রবিউল, মিঠু, সাইফুল, গনি, কাওসারসহ প্রায় শতাধিক সিএএবির কর্মচারি যারা শাহজালালে কর্মরত মানব পাচারের সহযোগি বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখছে। এদের মধ্যে কয়েকজন গার্ড, ক্লিনার সুপার সোনা পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে, জব্দ করা হয়েছে সোনা। বিমানবন্দরের সাবেক এক পরিচালক মানব পাচার সংশ্লিষ্টতার জন্য ইমিগ্রেশন গেটসহ বিভিন্ন গেট থেকে সিএএবির নিরাপত্তা গার্ডদের ডিউটি বন্ধও করেছিলেন। কিন্ত তিনি বেশি দিন শাহজালালে থাকতে পারেননি, তাকে চলে যেতে হয়েছে। গুনজন রয়েছে- সিএসও রাশিদাকে সরাতে গিয়ে তিনি নিজেই সরে গেলেন বা যেতে হলো।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
