একুশে বার্তা রিপোর্ট : একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের বিজয়ী দুই প্রার্থীসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো বিজয়ী প্রার্থী শপথ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তারা বলছেন, শপথ নেয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ড. কামাল হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে তা সঠিক নয়। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান।
বৈঠক শেষে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু কথা বলেন। আ স ম আবদুর রব বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কেউ এই সংসদে শপথ নিতে যাচ্ছেন না, যাবেন না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট ভাঙার যে খবর বেরিয়েছে সেটি সঠিক নয়। আমাদের ঐক্য ছিল, এখনো আছে এবং থাকবে। আমরা একসঙ্গে মিটিং করছি, আগামীতেও একসঙ্গেই থাকবো। অন্যদিকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলা হয়, শনিবার বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে এবং রোববার ছাপা পত্রিকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় ড. কামাল হোসেনের একটি বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ভিত্তিতে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। ড. কামাল হোসেন কোনোভাবেই বলেননি গণফোরাম থেকে নির্বাচিতরা শপথ নেবেন। বরং এটা নিয়ে কেউ বাণিজ্য করতে চাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তার মানে শপথ নিচ্ছে- এটা নয়। গণমাধ্যমে শপথ নেয়ার খবরটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আশা করি এই প্রশ্নে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার হবে না। মন্টু বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনৈক্য নেই। বরং গত ৩০শে ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচনের পর জনগণের ভোটের অধিকার এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগের চাইতে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচন নামের প্রহসনটি ঐক্যফ্রন্ট সেদিনই প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রহসনের নির্বাচন আরো প্রমাণ করেছে- এই দেশে দলীয়সরকারের অধীনে কোনোদিন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। বরং জনগণের ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ফের নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তার কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
