বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
শাহজালালে বিমানে আগুন নেভানোর মহড়া : সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ, হ্যাংগার গেট দিয়ে প্রবেশে বাধা : কালবেলার দু:খ প্রকাশ

একুশে বার্তা ডেক্স : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে আগুন নেভানোর মহড়া নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের আমন্ত্রণ করে ৮নং হ্যাংগার গেট  দিয়ে প্রবেশে বাধা দেয়া, সাংবাদিকদের জুতা মুজা খোলে শরীর তল্লাশি করা হয়েছ। এ জন্য সিএএবির এক কর্মকর্তা ক্ষমাও চেয়েছেন। দৈনিক কালবেলায় ‘বিমানে আগুন লেগেছে’ সংবাদ শিরোনাম করে দু:খ প্রকাশ করেছে।

২ জুন রোববার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের রানওয়েতে ডামি উড়োজাহাজ তৈরি করে ৫০ জন ডামি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীসহ জাহানারা ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মীরাও মহড়ায় অংশ নেন।

আগুন লাগা উড়োজাহাজ থেকে কীভাবে যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার ও বাঁচানো যায়, সে বিষয়ে বিমানবন্দর কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে এ মহড়ার আয়োজন করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পরপর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া করতে হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান এ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। বেবিচক সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর এ এফ এম আতিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে মহড়ায় আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ মহড়া অন্যান্য বছর শীতকালে অনুষ্ঠিত হলৈও এার তার উল্টো, গরমকালে অনুষ্ঠিত হলো।

এদিকে বেবিচকের আমন্ত্রণে মহড়া অনুষ্ঠানে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে প্রবেশকালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও এভসেক সদস্যরা তাদের হয়রানি করেন।

তবে আনসার সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বেবিচক ও এভসেক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আছে, সাংবাদিক প্রবেশে তাদের জুতা, মোজা, ঘড়ি, চশমা, মানিব্যাগ, আইডি কার্ড পরীক্ষাসহ পুরো শরীর তল্লাশি করতে হবে। সে জন্য তারা সাংবাদিকদের সময় নিয়ে তল্লাশি করেছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তল্লাশির বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।

গণমাধ্যমে আমন্ত্রণ সীমিত, মিডিয়া কভারেজও সীমিত : সিএএবির পিআরও’র দায়িত্বে থাকা-যিনি আবার চেয়ারম্যানের পিএসও বটে- তিনি এ মহড়ায় সব গণমাধ্যমে আমন্ত্রণ পত্র পাঠাননি বলে জানা যায়। ফলে সাংবাদিকরা এ সংবাদ কভার করতে আসেননি। যারাও এসেছেন তাদেরকে প্রবেশে বাধা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। পিআরকেও এ জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার বলে অনেকে মনে করেন।

এই পিআরওকে চেয়ারম্যান নাইম হাসানের আমলে পিএস-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়, নিয়োগ দেয়া হয় বিমান বাহিনী থেকে একজন স্টাফ অফিসারকে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর  তা রদবদল করা হয়। সে থেকেই বর্তমানের এই ডবল স্টান্ডার্ড পিআরও-পিএস সিএএবিতে জেকে বসেছেন, পদোন্নতিও পেয়েছেন। তিনি আবার কোন এক সাংবাদিকের সাথে ঠিকাদারি ব্যবসাও করছেন।দুপুরে  তার পছন্দের সাংবাদিকদের নিয়ে নাকি প্রায়ই ভুরিভোজ করে থাকেন।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।