নিউজ ডেক্স : গত মার্চের ৩১ তারিখ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় বিমান চলাচল। দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয় বিমান চলাচল জুন মাস থেকে। এছাড়া, নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে ইউএসবাংলা চীনে যাতায়াত করছে সপ্তাহে একদিন। চায়না সাউর্দান ও চায়না ইস্টার্ন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতো। কিন্তু চায়না সাউর্দানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের কেউ কেউ কোভিড-১৯ ধরা পরলে এয়ারলাইন্সটিকে চার সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয় চীনা সিভিল এভিয়েশন।
এমন ঘটনা বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গেও ঘটেছে। জাপানে তাদের যাত্রীদের করোনা ধরা পরায় বিশেষ ফ্লাইট বাতিল করেছে তারা। এই অবস্থায় ইতালী যাওয়া যাত্রীদের মধ্যেও কোভিড-১৯ ধরা পরায় আন্তর্জাতিক ভাবেই বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এস এম তৌহিদ উল আহসান বলেন, জর মাপার দ্বায়িত্ব আমাদের না। যাত্রীর কোভিড আছে কি না তাও দেখভাল করবে সংশ্লীষ্ট এয়ারলাইন্স ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তারপরও আমরা যথেষ্ট করছি। এদিকে, আমাদের এখানো কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। সেটা থাকলে হয়তো সাময়িক ভাবে কিছু বোঝা যেতো।
কোভিড কালে শুধু দেশ থেকে যাত্রীরা যাচ্ছেই না ফিরেও আসছে। তাদের দেখভালেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাত্রীদের স্ক্রীনিং করছে, সার্টিফিকেট দেখছে কোভিড-১৯ নেগেটিভ আছে কি না? টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ থাকলেই বাসায় কোয়ারেন্টাইনে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই লোকগুলোর কোভিড আছে কি না তা ইনভেস্টিগেশন করার সুযোগ এয়ারপোর্টে নেই।
বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহযোগি পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের টেস্ট আমরা করতে পারি না। তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারছি না। এটা চিন্তার বিষয়। আবার যারা যাচ্ছেন তারা টেস্ট করানোর ৭ থেকে ১০ দিন পর রেজাল্ট পাচ্ছে। নমুন দেয়ার পর এই সময়ের মধ্যে সে সংক্রমিত হতে পারে। নেগেটিভ রেজাল্ট পাওয়ার পর সে বিদেশ চলে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে ধরা পরছেন। দ্রুত টেস্ট রেজাল্ট দেয়ার পাশাপশি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে বলে জনান তিনি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এতে বিশ্বে বিমানবন্দরের ইমেজ সংকট হতে পারে। যারা আসছেন তাদের ও যারা যাচ্ছেন তাদের প্রতি আরো সতর্ক হতে হবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। তবে বিশে^ নিজেদেরকে ধরে রাখতে হলে অবশ্যই বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরো উন্নতি প্রয়োজন।
