বিশেষ সংবাদদাতা : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এ্যারাইভাল এবং ডিপারচার লাউন্ঞে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রভাবে গজে ওঠা মানি এক্সচেন্ঞগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশকে ‘থোরাইকেয়ার’ করে অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসাসহ হুন্ডি ব্যবসার সথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে । আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন টিম রয়েছে অন্ধকারে।
সরেজমিন পরিদর্শন এবং একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ডিপারচার এবং এ্যারাইভাল লাউন্ঞে অবস্থিত জেনি, ইমপেরিয়াল , রিলেবল, রামাদা, এভিক মানি এক্সচেন্ঞ রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রভাবে গড়ে ওঠেছে। এর মধ্যে ইমপেরিয়াল মানি এক্সচেন্ঞটি সাবেক একজন রাষ্ট্রপতির মেয়ের নাম বিক্রি করে অবাধে প্রভাব বিস্তার করছে। এসব মানি এক্সচেন্ঞকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র ‘টিএম’ ফরম পূরণ করে ‘ডলার’ কেনা-বেচার অনুমোদন দিলেও এ সব মানি এক্সচেন্্ঞ শুধুমাত্র ভাউচার দিয়ে ডলারের পাশাপাশি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার রেট সাটিয়ে দিয়ে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দেদারচ্ছে ক্রয়-বিক্রয় করছে। কিন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন যখন এ সব মানি এক্সচেন্ঞ সরেজমিন পরিদর্শনে আসে তখন তাদের বোর্ড পাল্টে শুধুমাত্র ‘ডলার’ বেচা-কেনার রেট সাটিয়ে পরিদর্শন টিমের নজর কাড়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন টিম শাহজালাল বিমানবন্দরে আসার আগেই পরিচালকের দ্প্তর থেকে নিরাপত্তা পাস নেয়ার সময় বিষয়টি পরিচালকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট মানি এক্সচেন্ঞগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ সুযোগে মানি এক্সচেন্ঞগুলো তাদের মুদ্রা বেচা-কেনার বোর্ড থেকে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি বেচা-কেনার রেট সম্বলিত বোর্ড পরিবর্তন করে শুধুমাত্র ‘ডলার’ বেচা-কেনার রেট দেয়া হয়ে থাকে। আর বিভিন্ন দেশের কারেন্সি কেনার ভাউচারগুলো গায়েব করে দেয়। এর পুরস্কারন হিসেবে পরিচালকের দপ্তরের সংশ্লিষ্টরা মানি এক্সচেন্ঞগুলোর অফিস থেকে রীতিমতো মাসোহারা পেয়ে থাকেন। এতে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন টিম থাকছে অন্ধকারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন টিম বিষয়টি আচ করতে পারলেও তারা থাকে নীরব, নজরানা নিয়ে কেটে পড়ে।
অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি কিনে এ সব মানি এক্সচেন্ঞ কারেন্সি বস্তায় বস্তায় ভরে কোন রমক স্ক্যান না করেই গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগায় ভিভিআইপি, ভিআইপি গেটসহ বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে কর্তব্যরতদের ম্যানেজ করে তাদের নিজস্ব গাড়িতে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে পাচার করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এ দৃশ্য নিত্যদিনের। কিন্ত এ ব্যাপারে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবস্থিত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কার্যকর ভুমিকা পালন করছে না।
এ রকম অবৈধভাবে ওমান রিয়ের কেনার একটি ভাউচার আমাদের হাতে এসেছে। উক্ত ভাউচারে দেখা যায় ওমান রিয়েল কেনা হয়েছে ২২৫ টাকা দিয়ে। ওমান রিয়েলের বাংলাদেশ ব্যাংকের রেট ২১৮ টাকা। কিন্ত ৭ টাকা বেশি দিয়ে এই ওমান রিয়েল কিনেছে ‘এভিক’ মানি চেন্ঞার। গত ২৬ এপ্রিল ২২৫ টাকা রেটে ওমান রিয়েল কেনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে এভিক মানিচেন্ঞারের সেল ফোনে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
শাহজালালে অবস্থিত মানি এক্সচেন্ঞগুলোর এই অবৈধ ভাবে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি বেচা-কেনা এবং হুন্ডি আকারে দেশের বাইরে পাচার হওয়ায় দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শাহজালালে অবস্থিত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের শাখা , বুথগুলো। আর আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এই মানি এক্সচেন্ঞগুলোর কর্নধাররা। এখনই এদের লাগাম টেনে না ধরলে দেশের বারোটা বাজবে। চলবে
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
