একুশে বার্তা ডেক্স : স্বাধীনতার ৪৭ বছর চলছে। এর মধ্যে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে ঐক্যের মাধ্যমেই। ষড়যন্ত্র করে ঐক্য ধ্বংস করা যাবে না। এমন মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরামের কার্যালয়ে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, সবাইকে নিয়ে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল সবার মৌলিক অধিকার ভোগ করার সবই সুন্দরভাবে সংবিধানে লেখা আছে। লেখা থাকলেই তো হয় না।
ভোগ করতে হলে শক্তি লাগে। রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে সে শক্তির সৃষ্টি হয়। যখন বলতে পারি এটা আমার অধিকার, এটা দিতে হবে। এভাবে আমাদের ৪৭ বছর কেটেছে। সামনের তিন বছর আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য, জনগণের ঐক্যের ভিত্তিতে যে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জন হয়েছিল সেটা নানা আক্রমণের মধ্য দিয়ে আমরা ধরে রেখেছি। এই ঐক্যের মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষা করেছি। এই জেল হত্যা। এটা তো সেরকম একটা জঘন্য আক্রমণ ছিল। যারাই আক্রমণ করেছে তারা ভেবেছে এবার তো বাংলাদেশ শেষ। বাংলাদেশ আর দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু আমরা সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি। ষড়যন্ত্র করে ঐক্য ধ্বংস করা যাবে না। যে ঐক্য আমাদের ভেতর গড়ে উঠেছে সেটা স্বাধীনতার স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।
গণফোরাম সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল এদেশ হবে সবার। থাকবে না কোনো ভেদাভেদ, থাকবে না কোনো বৈষম্য আর ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে ভাবতে হচ্ছে, জনগণ কী পেল। যারা অগ্রগতির কথা বলেন, তারাই বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, আবার কেউ নিঃস্ব হয়েছে। তাই নতুন করে বাঁচতে জনগণের স্বার্থেই জাতীয় ঐক্য তৈরি করা হয়েছে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা ঐক্যের উপর আঘাত হানে তাদের শিক্ষা দেয়া যায়। ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব সম্ভব। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করেছি। সেটা অর্জন সম্ভব হয়েছে ঐক্যের ফলে। সবাই বলতো এতবড় শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর (পাকিস্তান) বিরুদ্ধে কীভাবে তোমরা লড়বে। সেটা বাঙালি দেখিয়ে দিয়েছে। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কেউ দমাতে পারেনি। এরপর যত ষড়যন্ত্র হয়েছে সবই আমরা রুখে দিয়েছি।
স্মরণসভায় ১ নভেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, আমরা গণভবনে তাদের ঐক্যের কথা জানালাম। দেশ গড়ার কথা বললাম। ইতিহাসের কথা স্মরণ করালাম যে, আমরা ঐকবদ্ধ ছিলাম জনগণের স্বার্থ, জনগণের অধিকার সংবিধানকে কেন্দ্র করে। সে সংবিধান এখনো আছে। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধান। সেটাই আমাদের প্রেরণার উৎস হওয়া উচিত। বঙ্গবন্ধু চলে গেলেন। কিন্তু এটা উনার স্বাক্ষরিত দলিল। সংবিধান হলো মৌলিক আইন। আমরা সেসবই বলেছি।
তিনি আরো বলেন, ঐক্যের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, সংবিধানকে সামনে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান সম্ভব। ঐক্যবদ্ধভাবে বসলে মন খুলে আলোচনা করে সব সমাধান করা সম্ভব। সংবিধানে যে লক্ষ্যগুলো আছে সেগুলো সামনে আনতে হবে, এগুলো অর্জন করবো। এখানে কোনো ব্যক্তি স্বার্থ, গোষ্ঠীর স্বার্থ নেই। জনগণের স্বার্থেই, জাতীয় স্বার্থেই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা ঐক্য করে যে দাবিগুলো নিয়ে গিয়েছি সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কালকেই গেলাম কালকেই সব নিয়ে এলাম বিষয়টা তো এমন নয়।
