সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী : তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করা হবে

একুশে বার্তা ডেক্স : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেকের নাম উচ্চারণ না করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করা হবে। রোহিংগা প্রসংগে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পাঠাতে আমরা চুক্তি করেছি। সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের (মিয়ানমার সরকার) সঙ্গে যোগাযোগও আছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয়।’

ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে  ৯ জুন রোববার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  তিনি এসব কথা বলেন ।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলছি, জাপানের সঙ্গে কথা বলছি, অন্যদের সঙ্গে কথা বলছি– সবাই বলছে, হ্যাঁ তারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।’

সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী এবং আমরা এটাই মেনে চলি। এ কারণে পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক স্থাপনের একটাই উদ্দেশ্য দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় সব ফোরামে একটি কথা বলার চেষ্টা করি, আমাদের সবার একটা কমন এনিমি (অভিন্ন শত্রু) আছে। সেটা হলো দারিদ্র্য। তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাই, আসুন, আমরা সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করি। সাধারণ মানুষকে একটা সুন্দর জীবন দিই।

তিনি বলেন, আমাদের বড় দুশমন হলো দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটাকে আন্তর্জাতিক রুটের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। এখানে জ্বালানি নেবে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো। শুধু জ্বালানিই নেবে না, সুযোগ পেলে ঘুরবেও।

তিনি বলেন, যদি আমরা সেভাবে সি-বিচটাকে দেখাতে পারি। কিছু কিছু এলাকা বিদেশি পর্যটকদের জন্য ডেডিকেটেড (তাদের উপযোগী) করে দেবো। এটা করতে পারলে আমরা পর্যটনে আরও এগিয়ে যাব।

শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ওআইসির ১৪তম ইসলামিক সম্মেলনে এশিয়ার পক্ষ থেকে আমি বক্তব্য দিয়েছি। সম্মেলনে জঙ্গিবাদ, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। ভালোভাবে তুলে ধরি এসব বিষয়। মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে কথা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি , ভিভিআইপি সবার পাসপোর্ট চেক  করতে হবে।

মক্কায় ওমরাহ পালন এবং মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা জিয়ারতের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী গত ২৮ মে থেকে ৭ জুন জাপান, সৌদি আরব এবং ফিনল্যান্ড সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী সফরের শুরুতে গত ২৮ মে জাপানের রাজধানী টোকিও যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।