বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনের সদর দপ্তর নয়া ভবন নির্মাণ প্রকল্প গত ৯ বছরেও শেষ হয়নি। তিনবার পিডি পরিবর্তন করা হয়েছে, তিন দফায় নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, ঠিকাদারের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে, কিন্ত এখনও ভবন ব্যবহার উপযোগি হয়নি, ফার্নিচার কাজ মুখথুবড়ে পড়ে আছে। এ ভবনের জন্য টেন্ডারে আসবাবপত্র ধরা হয়নি। নতুন করে আসবাবপত্রের টেন্ডারও হয়নি। এখনও বৈদ্যুতিক কাজ অসম্পন্ন রয়ে গেছে। ভবন নির্মাণ কাজ মোটেও সন্তোষজনক নয় বলে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সাথে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রনণালয় গত ৫ সেপ্টেম্বর তিরস্কার করে জবাব চেয়ে দাপ্তরিক চিঠি জারি করেছে সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে- ঘোষণা দেয়ার এক সপ্তাহ পর বিস্তারিত প্রতিবেদন এখানে তুলে ধরা হলো।
৩২ মাসের সময় বেধে দিয়ে সিভিল এভিয়েশনের সিডি-১-এর অধীনে সিএএবির নয়াভবন নির্মাণের টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারে কাজ পায় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী ‘তমা কন্সট্রাকশন এন্ড কোং লিং’’। টেন্ডারে সিডিউল সময় ৩২ মাসের বদলে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে আর প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে আর তিন তিনজন পিডি পরিবর্তন করে ৯ বছর গত হলেও এখনও পর্যন্ত সিএএবির সদর দপ্তরের নয়া ভবনটি ব্যবহার উপযোগি হয়নি। কন্সট্রাকশন কাজ কোনরকমে শেষ হলেও এখনও ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি, ফার্নিচারের টেন্ডার আহবান করা হয়নি। এর মধ্যে সময়মত কাজ না করায় ঠিকাদার তমা কন্সট্রাকশনকে সিএএবি কর্তৃপক্ষ আর্থিক জরিমানা করলেও পরবর্তীতে তা মওকুফ করা হয়েছে। সাবেক পিডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোকাব্বর আলির স্বাক্ষরে এই জরিমানা মওকুফ করা হয়।
সিএএবির নয়া ভবন প্রকল্প ৩২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধারিত টেন্ডার সিডিউলে সময় বেধে দেয়া হলেও তা ৯ বছরেও তা শেষ হয়নি। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় তিরস্কার করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর এক দাপ্তরিক পত্র জারি করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে দাপ্তরিক পত্র জারির পর নড়েচড়ে বসেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ভবনে ফার্নিচার টেন্ডার কাজ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়ে ব্যবহার উপযোগি করার পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- এ ভবন নির্মাণে পলে পলে অদক্ষতার কথা বলা হয়েছে। এর সাথে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির কথা বলা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ৬১৪০.৯০ লক্ষ টাকা থেকে দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ১৪৭৯৫.৪৯ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। আসবাবপত্র না থাকায় ভবনটি আরো ১-১.৫ বছরেও ব্যবহার উপযোগি হবে না বলে আশংকা করা হয়েছে।
এ নিয়ে বর্তমান পিডি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(ইএম) মো. আব্দুল মালেকের সাথে কথা বলতে তার সেল ফোনে কল করলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় নয়াভবন প্রকল্পের ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
