বিশেষ সংবাদদাতা : অবশেষে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের (সিএএবি) সদস্য (প্রশাসন), সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেনকে (৪৫৩৯) বিঙ্ঘান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সরকারের আরেক অতিরিক্ত সচিব, সদস্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড , অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশাধীন মো. ইয়াকুব আলি পাটোয়ারীকে (৫২৩৯) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। গত ০৪ অক্টোবর এই রদবদল করা হয়। বদলি আদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তরিকুল ইসলাম খান। যার স্মারকনং-০৫.০০.০০০০.১৩০১২.০০২১৮-৬১৬ তারিখ-০৪.১০.২০১৮ খ্রি:।
উল্লেখ্য, সিএএবিতে সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত সরকারের এই অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেনের নাম উল্লেখ না করে প্রশাসনের কি-পয়েন্টে বসে থাক কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে গত ১৫ আগস্ট জাতির জনকের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে গোপালগন্ঞে তার সমাধিস্থল পরিদর্শনের নামে সরকারি টাকা খরচ করে সারাদেশব্যাপি ভ্রমণ এবং ভ্রমণে অংশ নেয়া সদস্যদের টিএ/ডিএ প্রদান এবং এ সংক্রান্ত সরকারের একটি আদশকে বাতিল করে আরেকটি মন্ঞুরি আদেশ জারি করার সংক্রান্ত একুশ শতকের কাগজ “একুশে বার্তা” অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দুই কিস্তিতে প্রকাশিত সংবাদে সিএএবিতে কর্মরত ফারজানা নামের একজন হিসাবরক্ষককে বিশেষ কোটায় নিয়োগ, চাকরির বয়স তিনমাস অতিক্রান্ত না হতেই তার চাকরি স্থায়ীকরন, অফিসারদের সমতুল্য স্টাফ কোয়ার্টার সিএএবির কাওলার কোয়ার্টারের ডরমেটরি-১ বরাদ্দকরনসহ অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একুশে বার্তার অনলাইন সংস্করণে এ সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের টনকনড়ে, সিএএবিতে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয় এ প্রতিবেদন।
ফরিদের তদবির বাণিজ্য : ফরিদ নামের নামের এক প্রযুক্তি সহকারি, যার সম্পর্কে নানা অনিযমের কথা সিএএবিতে আলোচিত-সমালোচিত, আদম পাচার সংক্রান্ত তদন্তে তাকে শাহজালাল থেকে সেমমুতে বদলি, আবার শাহজালালে বদলি, সিএএবিতে কর্মচারি সংগঠনের কোন অনুমোদন না থাকলেও কর্মচারিদের স্বঘোষিত নেতা সেজে বসা , তার চাকরির কর্মস্থলে হাজিরা দিয়ে প্রায় সারাক্ষণ সিএএবির সদর দপ্তরে চাকরি-বদলির তদবির, কর্মচারিদের জুতা কেনার টেন্ডার বাগিয়ে নেয়ার তদবির ক্যান্টিবিল সংক্রান্ত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিকরনের কথা বলে বিভিন্ন বিমানবন্দরের কর্মচারিদের থেকে সুবিধা হাতিয়ে নেয়াসহ কর্মচারিদের মুখে মুখে নানা অনিয়মের কথা শোনা যায়। এই ফরিদ উদ্দিনের বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসনের) নাম ভাংগিয়ে চলার কথাও জনশ্রুতি রয়েছে। আর এ জন্যই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে একবার স্বাক্ষর করে আবার স্বাক্ষর না করে পদবিসহ দুটি প্রতিবাদ ইমেইলে পাঠান এই ফরিদ উদ্দিন।
প্রকাশিত সংবাদের দ্বিতীয় কিস্তিতে সিএএবির পরিচালক (প্রশাসন)-এর পিএ হানিফের সম্পর্কে চাকরি দেয়ার নামে পরিচালকের দোহাই দিয়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নোট আকারে প্রকাশের পর তাকে সিএএবির সদর দপ্তর থেকে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে বদলি করা হয়। তাকে চট্রগ্রামে বদলি করে সেইভ করা হয়েছে বলে সিএএবির অনেকে মন্তব্য করেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাকে বদলি করে লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে বলেও সিএএবির একাধিক কর্তাব্যক্তি মনে করেন। সিএএবির অনেকের ছেলেমেয়ের বা আত্মীয়স্বজনের চাকরি দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই হানিফ- অনেককে চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে পার পেয়ে গেছে, কাউকে ব্যাংকের চেকও নাকি দিয়েছে, কিন্ত তারা চেক ক্যাশ করতে পারেনি বলে জানা যায়।
ভান্ডাররক্ষকে বাচানোর খেলা: এবার সিএএবিতে আমির হোসেন নামের এক ভান্ডাররক্ষককে বাচানোর খেলা চলছে। কিন্ত সদস্য ( প্রশাসন)কে বদলি করায় ভান্ডাররক্ষককে বাচানো যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ভান্ডাররক্ষককে বাচানোর এই খেলায় মত্ত সিএএবির যোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা-যিনি সিএটিসিতে কর্মরত। ভান্ডাররক্ষককের বিরুদ্ধে পাচার অভিযোগে তদন্তে দোষী হওয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে শাস্তি কার্যকর না করে তাকে ব্যক্তিগত শুনানির নামে আবার তদন্ত করছেন ওই কর্মকর্তা। আগামি সপ্তাহে রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে জানা গেছে। কিন্ত সদস্য (প্রশাসন) বদলি হওয়ায় ভান্ডাররক্ষককে শেষ পর্যন্ত বাচানো যাবে কিনা- তা নিয়ে সন্দিহান দেখা দিয়েছে।
ভান্ডাররক্ষককে বাচানোর এই খেলায় মত্ত ওই যোগাযোগ কর্মকর্তার জামায়াত কানেকশন রয়েছে বলে শোনা যায়। শাহজালালে কর্মরত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অপরাধের ফিরিস্তি ওঠায় তাকে লঘু শাস্তি দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বদলি করা হয়। শেয়ার মার্কেটে তার একাধিক বিও একাউন্ট থাকার কথা ফাস হয়ে যায়। উত্তরার ৭ নং সেক্টরে বিএনএস সেন্টারের পাশে তার ফ্লাট রয়েছে বলে শোনা যায়।এনামুল হক নামের একজন কর্মচারি তার ডানহাত হিসেবে কাজ করতো। সে একজন ইজারাদারের আত্মীয়। ক্রমশ–
