বিশেষ সংবাদদাতা : নেপাল ট্র্যাজেডির পর পরইএকুশ শতকের কাগজ ‘ একুশে বার্তা’ অন লাইন সংস্করনে ‘ ১৭ বছরের পরনো এয়ার ক্রাফটটে সনদ দেয় সিভিল এভিয়েশন :ইউএস বাংলার পক্ষে সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যানের সাফাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দেশের সবচেয়ে পুরনো দৈনিক ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ ১৭ মার্চ অন লাইন সংস্করনে রিপোর্টার সাইদুল ইসলাম শিরোনাম করেছেন- ‘সিভিল এভিয়েশনে বিশেষ খাতির পায় ইউএস বাংলা : নানা ছাড়পত্র মিলেছে অবিশ্বাস্য গতিতে : বার বার যান্ত্রিক ত্রুটি ওপেক্ষিত’।
এই শিরোনাম সম্বলিত খবরে বলা হয়েছে, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল এভিয়েশনের বিশেষ আনুকূল্য পেয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশেষ ‘খাতির’ প্রাপ্তির মূলে রয়েছেন সংস্থার একজন পদস্থ কর্মকর্তা। ফ্লাইট নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে বিভিন্ন বেসরকারি দেশি বিদেশি এয়ারলাইন্সকে গলদঘর্ম পেতে হতে হলেও ইউএস বাংলার কাজ হতো অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে।
জানা গেছে, সিভিল এভিয়েশনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নিজের সুবিধার বিনিময়ে সবসময়ে এই এয়ারলাইন্সকে সব কাজে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যে কারণে বেশ কয়েকবার যান্ত্রিক ত্রুটি হলেও এয়ারলাইন্সটি কখনো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়নি। গত কয়েকদিন সিভিল এভিয়েশন এবং এয়ারলাইন্স ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, সিভিল এভিয়েশনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ইউএস বাংলার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়া থেকে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। ওই প্রশিক্ষণের পর ঢাকায় এসে তিনি থেমে থাকেননি। প্রায়শই তিনি ইউএস বাংলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে কো-পাইলট হিসেবে উড়াল দিয়ে থাকেন। এয়ারলাইন্সটির যাত্রীরাও বিভিন্ন সময় বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।
এদিকে, কো-পাইলট হিসেবে যাওয়া সিভিল এভিয়েশনের ওই কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড চাপা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ইউএস বাংলার সকল কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ওই কর্মকর্তার যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রগুলো সরিয়ে ফেলা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ফ্লাইট পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পাওয়া একটি জটিল প্রক্রিয়া। আভ্যন্তরীণ রুটে এটি কিছুটা সহজে পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক রুটে এটি ভীষণ কষ্টকর। কারণ এর সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিদেশি দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট দেশের সিভিল এভিয়েশন জড়িত। এসব জায়গায় চিঠি চালাচালির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে হয়। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনে আবেদন জমা দিলে সেগুলো মাসের পর মাস পড়ে থাকে। কিন্তু ইউএস বাংলার আবেদনে কখনোই ধুলো জমতে পারেনি। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এসব কাজ সম্পাদন করেছেন সিভিল এভিয়েশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আর এসব কাজ তদারকি করতেন তার একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী বন্ধু। তিনি সবসময় বিভিন্ন বেসরকারি দেশি বিদেশি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিতেন।
শুধু ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নয়, এয়ারক্রাফট এর নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাবার ক্ষেত্রেও ইউএস বাংলা বিশেষ সুনজর পেয়েছে সিভিল এভিয়েশনের।
জানা যায়, একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স যখন বাংলাদেশে ব্যবসা করতে যায় তখন সিভিল এভিয়েশন থেকে এয়ার অপারেটিং সার্টিফিকেট নিতে হয়। এরপর তারা যে উড়োজাহাজটি নিয়ে আসবে সেটির কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সিভিল এভিয়েশন এরপর সংশ্লিষ্ট এয়ারক্র্যাফটটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ইন্সপেকশন টিম পাঠায়। উড়োজাহাজটি আনা যাবে কিনা তা তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। রুট পারমিটের বিষয়েও সিভিল এভিয়েশন দায়িত্ব পালন করে থাকে। এয়ারলাইন্সের ব্যবসার সাথে জড়িতরা জানিয়েছেন, ইউএস বাংলাকে এসব কাজে কখনোই বেগ পেতে হয়নি। গত ১২ মার্চ সোমবার ‘একুশে বার্তা’ অন লাইন সংস্করনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
১৭ বছরের পুরনো এয়ার ক্রাফটকে ফিটনেস সনদ দেয় সিএএবি : ইউএস বাংলার পক্ষে চেয়ারম্যানের সাফাই : পাইলট ও উড়োজাহাজ ভালো ছিল : গত সোমবার দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা’র উড়োজাহাজাটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ত্রুসহ ৭১ জন ছিল। নিহত হয় ৪৯ জন। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম নাইম হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো সমস্যা ছিল না। বিধ্বস্ত বিমানটির ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও পাইলট হিসেবে ভালো ছিলেন।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনা পুরো দেশের জন্য একটা মর্মাহত হওয়ার মতো ঘটনা। তাই আমরা অবশ্যই এই ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপও নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, উড়োজাহাজটি ঠিক ছিল বলেই ছাড়পত্র পেয়েছিল এটি। সিভিল এভিয়েশন থেকে এয়ারওয়ার্দি সার্টিফিকেট না পেলে কেউ ফ্লাই করতে পারবে না।
তিনি জানান, এই এয়ারক্রাফটের ব্যাপারে বলতে পারি এটা সকালে দুটো সর্টিং করে এসেছে। অলরেডি এটা তো টেস্টেড। সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুবার যাবার পর এটা ছিল তার তৃতীয় ফ্লাইট। উড়োজাহাজটি ভালো ছিল, এটা তো নিঃসন্দেহে প্রমাণিত।
সিএএবির সূত্রে জানা গেছে, ইউএস বাংলার এয়ার ক্রাফটি ছিল ১৭ বছরের পুরনো। এটা একবার সৈয়দপুরে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। আর পাইলট আবিদ ছিল দক্ষ –এটা হলফ করে বলা যায়। কিন্ত সিএএবি কর্তৃপক্ষ একটি ১৭ বছরের পুরনো এয়ার ক্রাফটকে ফিটনেস সনদ দিয়ে ব্যাখ্যা করছে- এয়ার ক্রাফটটি ভলো ছিল।
