সিভিল এভিয়েশন : ইএম বিভাগের প্রকৌশলী সেলিমের জেষ্ঠতা জালিয়াতি! চাকরিতে যোগদানের তারিখ দুইরকম, ডিপিসি কমিটির বৈঠকে আলোচনা , ৯ মাসে চাকরি স্থায়ীকরন, প্রতারনা, অর্থ আত্মসাতের মামলায় জেল খাটার পরও পদোন্নতি! আবার মামলায় গ্রেফতার না হলেও আরেক প্রকৌশলীর পদোন্নতি আটকে দিয়েছে সিএএবির প্রশাসন

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনে ইএম বিভাগের  সিনিয়র উপসহকারি প্রকৌশলীর চাকরিতে জেষ্ঠতা জালিয়াতির অভিযোগ ওঠেছে।   গত ২৭  নভেম্বর ২০১৮  ডিপিসি কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি এড়িয়ে গেছে ডিপিসি কমিটির কর্মাদক্ষরা। চুলচেরা আলোচনা হলেও প্রকৌশলী সেলিমের প্রথম  যোগদানপত্রের তারিখ  দুই রকম। কিন্ত সিএএবির ডিপিসি কমিটি তা জিইয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ। কেন বিষয়টি দীর্ঘ ১৭ বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তা রহস্যজনক। ফলে ২টি শূণ্য পদে সহকারি প্রকৌশলী পদে কাউকে পদোন্নতি না দিয়েই ডিপিসি কমিটির বৈঠক ওই সময় সমাপ্ত করা হয়। কিন্ত এবার আবার তাকে চলতি দায়িত্বের সহকারি প্রকৌশল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং সৈয়দপুর-কক্সবাজার ঘুরিয়ে শাহজালালে আনা হয়েছে। তিনি প্রকৌশলী সেলিম, তার বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলা ,গ্রেফতার এবং জেল খাটার পরও  বরখাস্ত না করে পুরস্কার হিসেবে  তাকে এবার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

সিএএবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদ হাসান সেলিম গত ১৪-০৬-২০০১ খ্রি: তারিখে উপসহকারি প্রকৌশলী ইএম পদে তার অধীনস্থ প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করেন। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে তা যথাযথ জমা দেয়া হয়। যার ডায়েরী নং-২৬৩৭, তারিখ-১৪-০৬-২০০১ খ্রি:।

গত ২৭-১১-২০১৮ খ্রি: ডিপিসির কমিটির মিটিংয়েও এই জেষ্ঠতার তালিকা প্রনয়ণে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই মিটিং সমাপ্ত করা হয়েছে। এই ডিপিসি কমিটির সদস্যদের বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল : ‘২টি সহকারি প্রকৌশলীর শূন্য পদে পদোন্নতি এবং ১টি সিনিয়র এ্যারোড্রাম কর্মকর্তার শূন্য পদে পদোন্নতি’।
উক্ত ডিপিসি কমিটির সভায় জেষ্ঠতার তালিকা মোতাবেক ৬ জন সিনিয়র উপসহকারির নামের তালিকা উপস্থাপন করা হয়।  ৩ নম্বর ক্রমিকে মাহমুদ হাসান সেলিম, ১০ম গ্রেডে যোগদানের তারিখ-১৪-০৬-২০০১ খ্রি: । কিন্ত মন্তব্যের কলামে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকার এ.টি৩১/১২( নতুন),১২৬/০৯(পুরাতন) মামলার রায় মোতাবেক।

প্রকৌশলী সেলিম চাকরিতে যোগদানের পর ১ বছরের  শিক্ষানবিশকালে ৪ মাস অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্ত তারপরও তাকে ৯ মাসে চাকরিতে স্থায়ীকরন করা হয়। এই ৪ মাস কি তাকে ছুটি দেয়া হয়, নাকি তিনি অসুস্থ ছিলেন?
সহকারি প্রকৌশলীর ২টি শূন্য পদে   পদোন্নতির সিদ্ধান্ত ছাড়াই ডিপিসির কমিটির বৈঠক সমাপ্ত করা হয়।
সিএএবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চৌধুরি স্বাক্ষরিত গত ১১-০৭-২০০১ খ্রি: জেষ্ঠতার তালিকায় উপসহকারি প্রকৌশলী (ইএম) মাহমুদ হাসান সেলিমের নাম ২ নম্বর ক্রমিকে ১ম যোগদানের তারিখ: ১৪-০৬০২০০১ খ্রি: ।
আবার সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ স্বাক্ষরিত গত ০৫-১১-২০০৩ খ্রি: এর জেষ্ঠতার তালিকায়  প্রকৌশলী ইএম মাহমুদ হাসান সেলিমের ১ম যোগদানের তারিখ: ১৬-০৬-২০০১ খ্রি: ।
এ ব্যাপারে  প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সেলিম জানান, আমার জেষ্ঠতা জালিয়াতি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমি চাকরিতে যোগদান করেছি গত ১৪-০৬-২০০১ খ্রি: তারিখে কিন্ত জেষ্ঠতার তালিকায় সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ স্যার স্বাক্ষরিত আমার চাকরিতে ১ম যোগদানের তারিখ ১৬-০৬-২০০১ খ্রি: করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে সিনিয়র উপসহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম  জানান, মেধা তালিকা অনুসারে সিনিয়র- জুনিয়র নির্ধারণ করা হয়েছে। সেলিম মেধা তালিকায় প্রথম হওয়ার দাবি করলেও তা ভুয়া। তিনি আরো জানান, চাকরিতে শিক্ষানবিশকালে সেলিম প্রায় ৪ মাস অনুপস্থিত ছিলেন। পরে আবেদনের পর বিনা বেতনে তা সমন্বয় করা হয়। তার জুনিয়র হওয়ার এটাও একটা কারন। কিন্ত আমি সিনিয়র হবার পরও আমার পদোন্নতি আটকে আছে।