সিভিল এভিয়েশন : সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃৃত কর্মচারি হাকিম ডিডি প্রশাসনের কথিত ভাগিনা : ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত ধামাচাপা : কেরানি হাফিজের প্রাইজ পোস্টিং : কর্মচারিদের ডিজিটাল হাজিরার দোহাইয়ে ওভারটাইম কর্তনের অভিযোগ : এডি-২-এর বদলি, পোস্টিং বাণিজ্য!

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে সদর দপ্তরে অডিট শাখায় কর্মরত কর্মচারি জাল নিরাপত্তা পাসে শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত হাকিম উপপরিচালক প্রশাসনের কথিত ভাগিনা। তবে উপপরিচালক প্রশাসন তা অস্বীকার করেছেন। হিসাব শাখায় কর্মরত থাকাবস্থায় হাকিমের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে সিএএবিতে চাউড় হয়ে আছে।
সিএএবির একাধিক কর্মচারি জানান, সোনা হাকিমের সাথে ডিডি প্রশাসনের গলায় গলায় ভাব। কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারে তারা দুজন আলাপচারিতায় মগ্ন থাকেন। তারা দুজন মামা- ভাগিনা। তাকে ডিডি প্রশাসন আগলে রেখেছেন।
বিষয়টি জানতে উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সেল ফোনে কল করলে তিনি জানান, ভাগিনা তো দূরের কথা- হাকিমের চৌদ্দগোষ্ঠি আমার কেউ না।
কেরানি হাফিজের প্রাইজ পোস্টিং : চাকরির শুরু থেকে অদ্যাবধি সিএএবির সদর দপ্তরে পিএগিরি করছেন কেরানি হাফিজ। একবার প্রশাসনে আবার ফাইন্যান্সে, এবার আবার প্রশাসনে, সদস্য প্রশাসনের পিএগিরি করছেন। শুধু তাই নয়- এই কেরানি হাফিজকে তার বেতনের পাশাপাশি পিএগিরি করার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা দিচ্ছে সিএএবি কর্তৃপক্ষ। গত ৭ এপ্রিল কেরানি হাফিজকে সদস্য ফাইন্যান্সের পিএ-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সদস্য প্রশাসনের পিএ হিসেবে দাপ্তরিকপত্র জারি করে বদলি করা হয়েছে। তার বদলির দাপ্তরিকপত্রে সই করেছেন সহকারি পরিচালক প্রশাসন-২ রফিকুল ইসলাম। এই কেরানি হাফিজের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট হলেও তিনি নিজেকে গোপালগনজের লোক বলে জাহির করে থাকেন। তার দপ্তরে বসে ঠিকাদারদের ই- টেন্ডারিং করেন বলেও শোনা যায়। তার খুটির জোর নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। খুটির জোর না থাকলে চাকরি শুরু থেকে অদ্যাবধি এক পোস্টিংয়ে থাকেন কিভাবে? তবে এই কেরানি হাফিক সহকারি পরিচালক প্রশাসন-২ কে ম্যানেজ করে চলেন, যার জন্য তার একই পোস্টিংয়ে প্রায় একযুগ কেটে যাচ্ছে ।
এ ব্যাপারে ডিডি প্রশাসন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, হাফিজের ফাইল তলব করে জানা যাবে।
বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বভাতার ব্যাপারে তিনি জানান, বিষয়টি ফিন্যান্স বলতে পারবে।
ওভারটাইম কর্তনের অভিযোগ : সিএএবির সদর দপ্তরে কর্মরত কর্মচারি- যারা রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন তাদের ওভারটাইম কর্তনের অভিযোগ ওঠেছে। ডিজিটাল হাজিরার দোহাই দিয়ে সহকারি পরিচালক প্রশাসন-২ এই ওভারটাইম কর্তন করছেন বলে কর্মচারিরা জানান। শুধু ওভারটাইম নয়- কর্মচারিদের বদলি, পোস্টিং, বদলি ঠেকানো, বদলির ভয়ভীতি দেখিয়ে এই এডি-২ প্রশাসন কর্মচারিদের হয়রানি করে থাকেন। যারা তাকে সুবিধা দেয় তাদেরকে তিনি আগলে রাখেন, আর যারা তার কথায় কর্নপাত করেন না তাদেরকে হয়রানি করে থাকেন।
এই এডি-২ প্রশাসন ম্যাট্রিক পাশ। তিনি ফাইল ড্রাফটিং থেকে শুরু করে কম্পিউটার অপারেট করতে দক্ষ নন- এমন কি তিনি তা অপারেট করতে জানেন না বলে কর্মচারিরা জানান। কিন্ত এরপরও তাকে সেই প্রধান প্রকৌশলীর পিএগিরি থেকে শুরু করে প্রশসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর তাকে সহকারি পরিচালক করে প্রশাসন-২- এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডিডি প্রশাসন আর এডি-২ প্রশাসন বাড়ি কুমিল্লায়্ আর সেই সুবাধে ডিডি প্রশাসন তাকে তার প্রশাসনিকসহ সব কাজে সহায়তা করে থাকেন। চাকরিজীবনে দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে তিনি কাওলার এলাকায় বহুতল বাড়ি করছেন। তিনি আগামি মে বা জুনে পিআরএল-এ যাবেন কিন্ত সিএএবিতে প্রশ্ন থেকে যাবে ম্যাট্রিক পাস কেরানি এডি হলো কিভাবে?