বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান উঠা-নামা বন্ধ নেপথ্যে ২০ বছরের পুরনো ৩০টি ক্যাবল নষ্ট: তদন্ত কমিটি, ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকী দিনভর সৈয়দপুরে

একুশে বার্তা রিপোর্ট : সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান উঠা-নামা বন্ধের নেপথ্যে মাটির নীচের ক্যাবল কাটা পড়ে নষ্ট- অকেজো হয়ে পড়ে। রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে বিমান উঠা-নামা বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ১৩ মে সোমবার দিনভর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবস্থান করে ক্যাবল নষ্ট মেরামতসহ সার্বিক তদারকি করেন। ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় নিয়ে ক্যাবল জোরাতালি দিয়ে ঠিকঠাক করার পর ১৩ মে সোমবার  সন্ধ্যার পর বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নানা সমস্যা চলছে। ২০ বছরের ক্যাবলগুলো প্রায় অকেজো। প্রায়ই বিমানবন্দরের চারপাশে বিদ্যুৎ থাকে না। অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। তার মধ্যেই সরকারি-বেসরকারি ফ্লাইট ওঠানামা করছে। সর্বশেষ গত রবিবার হঠাৎ করেই বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং আশপাশের আলোকসজ্জা নষ্ট হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট চলাচল।

মাটির নিচে ক্যাবল নষ্ট হওয়ার কারণে লাইট জ্বলে না। ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি। দ্রুত সময়ে লাইন মেরামত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ২০ মিনিটের কাজ ৪৮ ঘণ্টায়ও কেন শেষ হলো না, তার রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান ‘ক্যাবল লাইন মেরামত করতে  দেরি হওয়ায় ক্ষুব্দ কৈফিয়ত চাওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টরাসূত্র  জানায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে অ্যাভিয়েশন সেক্টরে শুরু হয় তোলপাড়। বেবিচক কর্মকর্তারা এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকের কাছে জানতে চান কী কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হলো। মাটির নিচে ক্যাবল নষ্ট হওয়ায় ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করছে না বলে জানানো হয়। প্রায় ২০ বছর আগে বিমানবন্দরের চারপাশে ৬০টি পয়েন্টে ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩০টিই অকেজো হয়ে পড়েছে। এতগুলো পয়েন্টের ক্যাবল নষ্ট হয়ে গেলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এমনকি বিষয়টি বেবিচকের সদর দপ্তরকেও অবহিত করা হয়নি। হঠাৎ করে দুদিন আগে বিমানবন্দরে নাইট ল্যান্ডিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে। এতে করে বিমানবন্দরে দুই শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে বিমানবন্দরে রানওয়ের উন্নয়নের কাজ চলছিল। সে সময় অসতর্কতায় কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটা পড়েছে। প্রকৌশল বিভাগ বিষয়টি জানার পর থেকে সমস্যা খুঁজে দেখছে। রানওয়ের বাতিগুলো না জ¦লায় ভুতুরে পরিবেশ তৈরি হয় পুরো বিমানবন্দরে। নাইট ল্যান্ডিং সিস্টেম কাজ না করায় রবিবার সন্ধ্যার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি করে ফ্লাইট যাত্রীসেবা দিতে পারেনি। ফলে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে দুই শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে। রাতের সব ফ্লাইট বাতিল করে এয়ারলাইনসগুলো।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার জানান , ‘রানওয়েতে আলো না জ¦লার কারণে ফ্লাইট চলাচল করছে না। জরুরি ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট সরেজমিনে কাজ করছে। ১৩ মে সোমবার  আংশিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। রবিবার বাতিল হওয়া তিনটি ফ্লাইটের স্থানীয় যাত্রীরা বাড়ি ফিরে যান এবং দূরবর্তী যাত্রীদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছিল।

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।