একুশে বার্তা ডেক্স : বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, আগামি ১১তম সংসদ নির্বাচন, সরকারের ইচ্ছা, বিরোধী রাজনীতি, খালেদা জিয়ার জেল- এ সব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঝানু কুটনীতিকদের মতামতভিত্তিতে ‘একুশে বার্তা’র পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো : অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসঙ্ঘ সুষ্ঠু, অবাধ ও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ক্রমান্বয়ে সোচ্চার হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা দেয়ার জন্য বিদেশীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সরকার। এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোকে আমন্ত্রণও জানানো হচ্ছে।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান কতটা গুরুত্ব বহন করে- জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির গত সোমবার বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের সাথে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, এটা বিদেশীদের চেয়ে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়। জনগণের বিভিন্ন অংশ নানা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তারা অংশগ্রহণের যথেষ্ট সুযোগ না পেলে নির্বাচন জনভিত্তি পায় না। গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাইলে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এটা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতিসঙ্ঘের তৎকালীন রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একজোট হয়েছিল। কিন্তু সে সময় মূলত ভারতের একচ্ছত্র প্রভাবে সরকার একতরফা নির্বাচন করেও আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে পেরেছিল। এবার পরিস্থিতি কী হতে পারে- জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, পরিস্থিতি কী হবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল। তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবাই প্রত্যাশা করে। আর তা না হলে শাসনব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দেয়। এ ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ধরনের দুর্বল শাসনব্যবস্থা ক্ষমতাসীন দলসহ কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।
গণতন্ত্রের জন্যই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা করাটা আমাদের গর্ব ছিল। এটার ব্যত্যয় ঘটলে আমাদের মৌলিক অবস্থানটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস গত রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে সাক্ষাতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারও সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে স্বাগত জানানো হবে।
এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্ল্যাক রাজধানীতে পৃথক দুইটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে বার্নিকাট বলেছেন, কেবল নির্বাচনী দিনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাপকাঠি নয়। এ জন্য নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিতে হয়। সমাবেশ, প্রতিবাদ বা ভোটারদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেয়ার অধিকারটা মৌলিক। কোনো দল এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। কোনো ধরনের দমন-পীড়ন ছাড়াই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রচারণার সুযোগ পাওয়া উচিত।
একই দিন বারিধারা ব্রিটিশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যালিসন ব্ল্যাক বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে এ বার্তা পরিষ্কারভাবে সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ইউএস ট্রেড শো উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে বলেন, সরকারও চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে তা হবে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই। এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন সহায়তা করতে পারে।
এ দিকে গত শুক্রবার ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে আলোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক প্রধান ফেদারিকা মোঘারিনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান জেইন ল্যাম্বার্ড ঢাকা সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হওয়ায় ইইউ কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করবে- এটাই আমরা দেখতে চাই। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এ মুহূর্তটি একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপো বলেছেন, জাতিসঙ্ঘ নিশ্চিতভাবেই আশা করে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। আগের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। তবে আগামীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি।েএ দিকে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতিতে ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ফলে রাজপথে জনস্রোত, আন্দোলনে গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে না। সরকার এক তরফাভাবে ১১তম সংসদ নির্বাচনের চিন্তাভাবনা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রাজপথে ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের অভাবে জনস্রোত নেই : কোন পথে বিরোধী শক্তির রাজনীতি : রাজপথে গণজোয়ার সৃষ্টির মতো নেতৃত্ব নেই : এ দেশের কালযাত্রায় প্রতিটি সন্ধিক্ষণে আন্দোলন-সংগ্রামের লড়াকু ইতিহাস উজ্জ্বল হয়ে আছে। অনন্য সাধারণ প্রতিভাধর নেতৃত্বের কারণে অনেক আন্দোলন রূপ নিয়েছে গণঅভ্যুত্থানে। রাজপথ জেগে উঠেছে উত্তাল জনস্রোতে। অসম নেতৃত্ব কখনো কখনো হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সম্মোহন তৈরি করেছে জনতার মাঝে। একাত্তরে বিশ্বকাঁপানো মুক্তিযুদ্ধে গোটা দেশ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে। তার আগে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে রাজপথে নেমেছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারককেও জনরোষের মুখে পালিয়ে যেতে হয়েছিলো। এসবই সম্ভব হয়েছিলো ক্যারিশম্যাটিক বা সম্মোহনী শক্তিধর নেতৃত্বের কারণে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। সরকারবিরোধী শক্তির রাজপথের আন্দোলনে আপামর জনগনের তেমন সাড়া দেখা যায় না। কারণ হিসাবে ইতিহাসবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ, গবেষকরা গণমানুষের সর্বজনীন দাবি, আকর্ষণীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, সম্মেহনকারী বাগ্মিতার অভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, হাল আমলে রাজনৈতিক দলগুলোতে ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব না থাকায় তাদের আন্দোলন-সংগ্রামে আর ’জনস্রোত’ তৈরি হয় না।
বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী শক্তির দাবি আদায়ের আন্দোলনগুলোতে জনগনের ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহন কমই দেখা গেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বড় দুটি আন্দোলন করেছে বিএনপি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে টানা ৯৪ দিন হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে দলটি। তবে এই আন্দোলনে রাজপথে নেতা-কর্মীদের ঢল নামার বদলে জ্বালাও-পোড়াও-নাশকতা হয়েছে বেশি। এতে নেমে মামলা-গ্রেফতার-হুলিয়ার শিকার হয়ে দলের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তারপর আর রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। বিভিন্ন ইস্যুতে তারা যে সব কর্মসূচি পালন করে আসছে তাতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো নয়। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সামপ্রতিক সময়ে যেসব বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে সেসবও দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে পালিত হচ্ছে না। তার কারাবন্দিত্ব নিয়ে যাদের মধ্যে সহানুভুতি কাজ করছে, তারাও রাস্তায় নামছেন না।
অভিজ্ঞজনরা বলছেন, সরকারি দল এবং প্রশাসন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও প্রতিবাদের জন্য বিরোধী শক্তির নেতা-কর্মীরা নামছে না। এই দশার মধ্যে বিশ্লেষকরা অনেকে মনে করছেন, জনস্রোত রাস্তায় নামাতে না পারলে বিরোধী শক্তি তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে অভাবনীয় কিছুর প্রত্যাশা করা ছাড়া তাদের গত্যন্তর কী।
এই প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের এক প্রভাবশালী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির জনসমর্থন আছে। কিন্তু আন্দোলনে জনজোয়ার সৃষ্টি করার মতো নেতৃত্ব নেই। তাদের সমস্যা এখন দুটি। প্রথমত নেতৃত্ব, দ্বিতীয়ত সাংগঠনিক দুর্বলতা। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। যা জনগন প্রত্যখ্যান করেছে। বর্তমানে বা আগামীতে এই ধরনের ‘জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন’ করার শক্তি-সামর্থ তাদের নেই। তারা দাবি আদায় করার জন্য আন্দোলন করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া। কিন্তু জনজোয়ার বা জনস্রোত দেখা যাচ্ছে না। শেষ সময়ে আন্দোলনে নামতে চান তারা। তাতে বিপ্লব সৃষ্টির মতো জনস্রোত ঘটবে না। এ ক্ষেত্রে বিএনপি স্বাভাবিকভাবেই অভাবনীয় কিছুর প্রত্যাশা করতে পারে হয়তো।
আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী। জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত উপাধি ছিলো ’বঙ্গবন্ধু’। তার ক্যারিশমাটিক লিডারশিপ জনগনকে মোহিত করে রেখেছিলো। ছয় দফা আন্দোলনে অন্যসব নেতাকে ছাড়িয়ে জনগনের মধ্যে পৌঁছান তিনি। মানুষের জন্য তার দরদ ছিলো। আকর্ষণীয় বাগ্মিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিলো। তার আহবানে একেবারে স্রোতের মতো মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়তো রাজপথে। বঙ্গবন্ধুর পরে সেই রকম নেতৃত্বের আবহ আর পাচ্ছি না।
আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে কোন নেতা-নেত্রীর আহবানে রাজপথে জনস্রোত নামছে না। তার অন্যতম কারণ হলো ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপের অভাব এবং জনগনের সর্বজনীন দাবিতে কোন কর্মসূচি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অনন্য সাধারণ প্রতিভার অধিকারী। তার ছয় দফা ছিলো ছিলো সাত কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। তার আহবানে স্রোতের মতো মানুষ নেমে এসেছিলো। সেই নেতৃত্ব দুর্লভ। তিনি বলেন, বিএনপির দাবিগুলো সর্বজনীন মনে হয় না। তাদের আন্দোলনে রাজপথে তেমন লোকজন নামছে না। জনস্রোত না নামলে সামান্য আন্দোলনে তাদের দাবি আদায় সম্ভব নয়। এই অবস্থায় অস্বাভাবিক বা অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশা করতে পারে বিএনপি। তা ছাড়া তাদের কর্মকাণ্ড যা দেখছি তাতে দাবি পূরণ করে ক্ষমতায় আসা দুরূহ। আবুল কাশেম বলেন, বিএনপির ওপর দমন-পীড়ন চলছে। খালেদা জিয়া জেলে। এতে বিএনপি এবং বেগম জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কাজ করছে। তবে তারা এটা দিয়ে তো গণজোয়ার তৈরি করতে পারবে না। শেখ হাসিনা অনেক শক্তিশালী। তার নেতৃত্বও শক্তিশালী। তাকে নাড়ানোর মতো গণজাগরণ সৃষ্টি করা বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষে সম্ভব নয়।
নেহাল করিম বলেন, সরকারবিরোধী পক্ষে এমন নেতৃত্ব নেই যে তার কথায় জনস্রোত নেমে পড়বে আর দাবি আদায় হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়বে না। তারা হয়তো বিএনপির সাথে আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব দিতে পারে। তিনি বলেন, পরাশক্তিগুলো এখানে এসে দেন-দরবার করছে। তবে কিছু হবে না। বছর শেষের দিকে বিএনপি মরণ কামড় দিতে পারে। তবে জনস্রোত-গণজোয়ার নামাতে না পারলে কিছু হবে না। যেটা বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিএনপি হয়তো প্রত্যাশা করছে অভাবনীয় কিছু ঘটবে। আমার মনে হয় সে রকম কিছুই হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব সমপ্রদায়ের কতটুকু মাথাব্যথা আছে বা আদৌ আছে কিনা সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাইরের দুনিয়া মনে নেবে না, চাপের মুখে সরকার দ্রুত একটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বলে যারা মনে করেছিলেন তারা কিন্তু হতাশ হয়েছেন। সেই নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হলো সে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে দেশি-বিদেশি কারো কোনো সমস্যা হয়নি।
