বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
১১ আগস্ট থেকে ‘এয়ার বাবল’ চালু করতে দৌড়ঝাপ

ডেক্স রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত থাকা বিশেষ ব্যবস্থায় বিমান চলাচল আগামী ১১ আগস্ট থেকে আবার শুরু করতে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ভারত এ তারিখে ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির আওতায় বিমান চলাচলে সম্মতি দিলেই এটি কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে ‘এয়ার বাবল’ শুরুর জন্য বাংলাদেশ তিনটি শর্ত দিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব শর্তসহ ‘এয়ার বাবল’ চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ভারতের সিভিল অ্যাভিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেলকে চিঠি দিয়েছে বেবিচক।

এদিকে মেডিক্যালসহ সব ধরনের ভিসা দিতে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন প্রস্তুত বলে জানা গেছে। ভারতের তরফ থেকে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা শর্ত দেওয়া হয়নি। তবে গতকাল বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখনই পর্যটকদের জন্য ভারতের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে এখন শুধু মেডিক্যাল, স্টুডেন্ট, বিজনেস ও কূটনৈতিক ভিসাধারীরা ‘এয়ার বাবল’ সুবিধা নিয়ে ভারত যেতে পারবেন। গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শর্ত ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ অনুযায়ী চলাচল করতে পারবে। একইভাবে ভারতের স্পাইস জেট, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, গো এয়ার এবং ভিসতারা এয়ার চালাতে পারবে স্পেশাল ফ্লাইট। এ ক্ষেত্রে ছোট বিমান

সর্বোচ্চ ১৪০ জন ও বড় বিমান ২০০ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। যাত্রীদের বসানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সিটের পাশে একটি আসন ফাঁকা রাখতে হবে। এ ছাড়া যারা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসবেন তারা করোনার টিকা নেওয়া থাকলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। আর যারা টিকা গ্রহণ করেননি তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচল করবে বলেও গতকালের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ‘এয়ার বাবল’ চালুর অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিটি সিভিল অ্যাভিয়েশনে গেলে তারা সুুপারিশ পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বলা হয়, সে দেশে করোনার প্রকোপ কমেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কিছুসংখ্যক স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল এখনো শুরু না হওয়ায় কূটনীতিকসহ অন্যান্য যাত্রীর সমস্যা হচ্ছে। এ সময় পাল্টা চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোয়ারেন্টিনসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।

সিএএবি  চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ভারত একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় পুরনো চুক্তি কার্যকরের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আশা করছি ১১ আগস্ট থেকে এটি (এয়ার বাবল) চালু হবে।

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারীর মধ্যেও ২০২০ সালে মেডিক্যালসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তারা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভিসা প্রদান করেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নানা ধরনের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও প্রায় এক লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৬ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে দুই দেশের মধ্যে তিন মাসের জন্য ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির অধীনে বিমান চলাচল শুরু হয়েছিল। তবে গত বছরের শেষ দিকে উভয় দেশেই করোনার প্রকোপ কমে গেলে আন্তর্জাতিক শিডিউলভুক্ত ফ্লাইট আবার চালু হয়। কিন্তু চলতি বছর দুই দেশেই সংক্রমণ আবার বাড়ায় ফের বন্ধ হয়ে যায় শিডিউল ফ্লাইট। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব অনুযায়ী, চিকিৎসা, সরকারি কাজ, জরুরি প্রয়োজনেই এয়ার বাবল ট্রাভেল চুক্তি হয়।

জানা গেছে, ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ ও ভারত ২৮টি করে মোট ৫৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এতে সপ্তাহে পাঁচ হাজার জনের মতো যাত্রী উভয় দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। ভারতের স্পাইস জেট, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, গোএয়ার, ভিস্তারা এয়ারলাইন্স দিল্লি-কলকাতা-চেন্নাই-মুম্বাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ২৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দিল্লি, দিল্লি-ঢাকা, ঢাকা-কলকাতা ও কলকাতা-ঢাকা রুটে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা-কলকাতা, কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-চেন্নাই, চেন্নাই-ঢাকা রুটে এবং নভোএয়ার ঢাকা-কলকাতা ও কলকাতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।