বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
৪ মে সপরিবারে সিঙ্গাপুর চলে যান বেনজীর , ব্যাংক খালি করে টাকা উত্তোলন, দুদকে লড়তে আইনজীবী প্যানেল গঠন

ডেক্স রিপোর্ট : বেনজীরসহ পরিবারের সদস্যদের  আগামি ৪ ও ৬ জুন  দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্য তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে গেছেন সিঙ্গাপুরে।  ৪ মে  রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তিনি দেশত্যাগ করেন বলেন পুলিশের একটি সূত্র  নিশ্চিত করেছে।

ওই সূত্র বলেছে, স্ত্রীর চিকিৎসার কথা বলেই তিনি দেশের বাহিরে যাচ্ছেন বলে তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলেছেন। তবে প্রভাবশালী মহলের একাংশ দেশ ত্যাগের বিষয়টি অবহিত করেই তিনি দেশ ছেড়েছেন।

দুদকে তলব করাসহ সবকিছুর বিষয়ে তিনি আগাম ওয়াকিবহাল ছিলেন। প্রভাবশালী একটি মহল তাকে আগাম সবকিছু বলে দিয়েছিল। তবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুবই বিব্রত।
সব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি একটি আইনজীবী প্যানেল ঠিক করেছেন। সরকারের শীর্ষ মহলকেও বুঝানোর চেষ্টা করছেন যেভাবে বলা হচ্ছে সেইভাবে তিনি কোন অপরাধ করেননি। দুদকের তলব করার বিষয়ে তিনি সময় চাইতে পারেন । হয়তো তার আইনজীবী দুদকে আবেদন করতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তিনি দেশে আসবেন। আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

জানা গেছে, আগামী ৬ জুন বেনজীর আহমেদকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। আর ৯ জুন তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ডেকেছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ ওঠার পর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক স্বজনের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি ক্রোক বা জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই দিন বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়। তা ছাড়া জীশান মীর্জার নামে থাকা মাদারীপুরে ২৭৬ বিঘা (৯১ একর) জমি এবং বেনজীর পরিবারের নামে থাকা গুলশানের চারটি ফ্ল্যাটও জব্দের আদেশ দেয় আদালত। বেনজীর পরিবারের নামে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও তিনটি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসা করার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়। সাভারে তাদের কিছু জমিও পড়েছে একই আদেশের মধ্যে। ইতিমধ্যে সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।ইতিমধ্যেই ব্যাংক থেকে সব টাকা  তুলে নেয়ার খবর বেরিয়েছে।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি   ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। ওই সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক আইজিপি কমপ্লেইন সেল চালু করার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে বেশি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তারাও অনেকটা বিব্রত। এই নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের অপরাধ রুখতে প্রতিটি জেলায় গোয়েন্দাদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে বৈঠকে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপাররা টিম গঠনের কাজ শুরু করেছেন।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।