খেলা ডেক্স : এ যেন অন্য এক বাংলাদেশ! অবিশ্বাস্য জয়। জয় নামক সোনার হরিণকে যখন মুঠোবন্দি করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল টাইগাররা, তখনই যেন মরুভূমির বুকে নামল এক পশলা বৃষ্টি। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লিটন, তামিম, মুশফিকের ব্যাটে নামা সেই বৃষ্টিতে সিক্ত হলেন ১৬ কোটি মানুষ?
কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে শ্রীলংকার দেওয়া রেকর্ড ২১৪/৬ রান টপকানো সহজসাধ্য কাজ ছিল না। তার ওপর দলের বর্তমান পারফরম্যান্স যখন শ্রীহীন। সাকিবহীন বাংলাদেশের সুর, তাল, লয়ে ছেদ পড়েছে। নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার দেওয়া পাহাড়সম লক্ষ্যটি টপকাতে পারবে তো? সমর্থকদের মনে যখন এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখনই পূর্ব আকাশে দেখা মিলল নতুন এক ঊষার! সে ঊষায় রং লাগালেন লিটন দাস। ভালো সঙ্গ দিলেন তামিম ইকবালও। তুলির শেষ আঁচড়টিও দিলেন মুশফিকুর রহিম। তাতে বাংলাদেশ গড়ল ইতিহাস। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের (১৯.৪ ওভারে ২১৫/৫) রেকর্ড তো গড়লই, সেই সঙ্গে তুলে নিল শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫ উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয়।
বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন ওপেনিংয়ে নামা লিটন দাস। ব্যাট হেসেছে তামিম ইকবালেরও। তবে দক্ষ নাবিকের মতো দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে বড় অবদান রেখেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের সাবেক এ টেস্ট অধিনায়ক এবার আর কোনো রকম ভুল করেননি। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যাটিং করে দলকে জয়ী করে মাঠ ছাড়েন। ৩৫ বলে পাঁচ চার ও চার ছক্কার সাহায্যে খেলা অপরাজিত ৭২ রান, মুশফিকের টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।
শুরু থেকেই অ্যাগ্রেসিভ মুডে ছিলেন লিটন দাস। তামিমও হাত খুলে খেলেছেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৫ বলে এ জুটি দলীয় স্কোরকার্ডে ৭৪ রান জমা করেন। মূলত এ জুটির দৃঢতায় বাংলাদেশকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা লিটনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন ফার্নান্দো। ডানহাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের ইনিংসে ছিল দুই চার ও পাঁচ ছক্কার নিপুণ প্রদর্শনী। তামিম ইকবাল মাত্র তিন রানের জন্য ফিফটি করতে পারেননি। ড্যাশিং এ ওপেনার ২৯ বলে ৪৭ (ছয়টি চার, একটি ছয়) রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দলীয় ১০০ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
লিটন ও তামিমের উইকেট হারালেও দলকে কক্ষপথেই রাখেন মুশফিক। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ওয়ান-ডাউনে নামা সৌম্য সরকার (২২ বলে ২৪ রান) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১১ বলে ২০ রান)। জয় থেকে সামান্য দূরে থাকার সময় সাব্বির দৃষ্টিকটুভাবে রানআউটে কাটা পড়েন। অবশ্য ম্যাচসেরা মুশফিকের ব্যাটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
শ্রীলংকা ২১৪/৬ রানের পুঁজি পেয়েছে কুশল মেন্ডিস, পেরেরা ও থারাঙ্গার ব্যাটে। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে বেশ অ্যাগ্রেসিভ ছিলেন লংকান ওপেনার গুনাথিলাকা ও মেন্ডিস। উদ্বোধনী জুটিতে স্কোরকার্ডে জমা করেন ৫৬ রান। ১৯ বলে ২৬ (তিন চার, এক ছক্কা) রান করা গুনাথিলাকাকে আউট করে জুটি ভাঙেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
৪.৩ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে রানের চাকায় লাগাম দেওয়া সম্ভব হয়নি। কুশল পেরেরাকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন কুশল মেন্ডিস। ৩০ বলে ৫৭ রান করে আউট হন। তিনে নামা পেরেরা খেলেছেন ৪৮ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। এ ছাড়া ছয়ে নামা উপল থারাঙ্গার ১৫ বলে অপরাজিত ৩২ রানের সুবাদে দুশ রানের ঘর পেরিয়ে যান লংকানরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। মোস্তাফিজ ৪৮ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পান।
টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো দুশ রানের দেখা পেল বাংলাদেশ। দুশ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের কৃতিত্বও দেখাল টাইগাররা। এর আগে সর্বোচ্চ ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিলেন লাল-সবুজরা। সেটি ২০১৬ সালে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে করা ৫ উইকেটে ১৯৩ রান ছিল এর আগে টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
