৬ মাসে  জব্দ ১ হাজার ৪২৪টি   : শাহজালালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল পাচার অব্যাহত :  কমিশনার বললেন, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে:  কুরিয়ারে  পাচার বাণিজ্য জমজমাট

নিউজ ডেক্স : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ফোন পাচার প্রবণতা বাড়ছে। এক শ্রেণির দেশি-বিদেশি যাত্রী বিদেশ থেকে আনা মোবাইল নানা কৌশলে বিমানবন্দরের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কাস্টমসের দেওয়া তথ্যমতে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাইরে নেওয়ার চেষ্টার সময় গত ৬ মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে ১৪২৪ পিস মোবাইল ফোন। জব্দ করা এই মোবাইলগুলোর বেশিরভাগই আই ফোন ও স্যামসং ব্রান্ডের।

বিমানবন্দর কাস্টমসের প্রিভেনটিভ টিমের উপ-কমিশনার ইফতেখার আলম ভূঁইয়া জানান , মোবাইল  শুল্কায়ন পণ্য। কোনও যাত্রী ৩ টি মোবাইল নিয়ে আসতে পারবেন, কিন্ত কোন কোন দেশি ওবিদেশি যাত্রী ১০-২০টি  ফোন নিয়ে আসেন,  তিনি কাস্টমসের হলে এসে ঘোষণা দিয়ে সেগুলোর শুল্কায়ন করে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু এক শ্রেণির যাত্রী তা না-করে নানা কৌশলে সেগুলো বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমরা যখন যাত্রীর লাগেজ সার্চ করি, স্ক্যানিং মেশিনে সেগুলো শনাক্ত হয়। পরে শুল্কায়ন শেষে এসব মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়।

চীনা নাগরিকের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন যাত্রী যদি বিটিআরসি’র অনুমতি নিয়ে আসতে পারেন এবং  ট্যাক্স পরিশোধ করেন, তা হলে জব্দ করা মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় বিটিআরসি অনুমতি দেয় না। ফলে ধরা পড়া মোবাইল জব্দই করে ডিএম করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টিমের কর্মকর্তা বরুণ দাস জানান, গত অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৪২৪ পিস মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ১৬৭ পিস, ফেব্রুয়ারিতে ৮৩, জানুয়ারিতে ১৮৬, ডিসেম্বরে ৩০৩, নভেম্বরে ২২০ এবং অক্টোবরে ৪৬৫ পিস মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা জানান, কোনও যাত্রী যখন তিনটির বেশি মোবাইল নিয়ে আসেন, তখন তারা নানা কৌশল ব্যবহার করেন। শরীরের নানা স্থান ছাড়াও লাগেজ, এমনকি ক্রোকারিজ পণ্যের ভেতরে অভিনব কায়দায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশি যাত্রীদের পাশাপাশি কিছু চায়নিজ যাত্রীও এ কাজে জড়িত।

গত ১৮ এপ্রিল একজন চীনা নাগরিকের শরীর তল্লাশি করে ১০টি মোবাইল জব্দ করা হয়। স্কচটেপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোবাইলগুলো মোড়ানো ছিল। সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি  অস্বীকার করেন। পরে শরীর তল্লাশি করে মোবাইলগুলো পাওয়া যায়।

কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলেন, জব্দ হওয়া মোবাইলগুলো বেশিরভাগ আইফোন ও স্যামসং ব্রান্ডের। বাংলাদেশের বাজারে প্রতিটি ফোনের দাম লাখ টাকার ওপরে।

 

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার জাকির হোসেন জানান, ‘বিমানবন্দরের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে অ্যারাইভাল বা ডিপারচার দুক্ষেত্রেই কাস্টমসের কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘     আমরা ঘোষণা দিয়েছি, চোরাচালানের ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। অবৈধ্য পণ্য আনার কোনও সুযোগ নেই। পাশাপাশি শুল্কায়নযোগ্য পণ্যও শুল্ক ছাড়া বিমানবন্দরে থেকে বের হতে পারবে না। সেভাবেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ‘অবৈধ কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য না আনার জন্য আমরা যাত্রীদের সবসময় নিরুৎসাহিত করি ।’ এ বিষয়ে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালিয়ে থাকি বলে জানান কাস্টমস হাউজের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

এ দিকে হাউজের আমদানি শাখা ফ্রেইট ও কুরিয়ার শুল্কায়ন দিয়ে পণ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। কিন্ত বেড়ায় ক্ষেত খায়। কিভাবে পণ্য পাচার করা হবে—তার দিকনির্শনা ভাইরাল হবার পরও ডিপিএক্স এককালের কর্ধার নাজির ধরাছোয়ার বাইরে। ১৯ জন নিষিদ্ধ ব্যবসায়ী এখনও কুরিয়ারে বহাল। কিন্ত তাদের সরাতে গিয়ে নিজেই  রোষানলে পড়ে চলে গেছেন অতি. কমিশনার মাহবুবুর রহমান। ২০ সিন্ডিকেড সদস্য আমদানি শাখায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের টিকিটিও  ছুতে পারছে না প্রশাসন। প্রশাসন চেয়ে চেয়ে দেখছে। ২০ জনের মধ্যে একজন পলাতক রয়েছে। কাবির নামের একজনকে  বিমানবন্দর থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে। জীবন ঘুরে বেড়াচ্ছে।