৭৪ সালে হেলিকপ্টার ভোটে আর এখন রাতের ভোটে ক্ষমতায় আ’লীগ : প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অপমান করা হয়েছে, দেশবাসী বিব্রত: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গোপন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি আবারো খেলা দেখার নাম করে যে মর্যাদাহানির নজির স্থাপিত হলো তা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে দেশবাসী বিব্রত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা সফর করে আসলেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা খরচ করে। বলা হচ্ছে, তিনি নাকি সরকারি আমন্ত্রণে কলকাতা গিয়েছেন। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা লজ্জিত, বিস্মিত, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে কোন অভ্যর্থনা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী তো দূরের কথা কোন সিনিয়র সচিবকেও পাঠানো হয়নি। তাকে রীতিমতো অপমান করা হয়েছে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রিজভী আহমদের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য তুলে এ রিপোর্ট করেছে দৈনিক ইত্তেফাক।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার হরণ করে ভোটের আগের রাতের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি যখন দাম্ভিকতার সহিত জনসম্মুখে বক্তব্য রাখতে পারেন, তিনি তো একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও পার্শ্ববর্তী দেশের কোন প্রটোকল না পেলেও লজ্জিত না হয়ে যে উল্লসিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। এসব কর্মকাণ্ডে দেশবাসী লজ্জিত হয়, জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের মান সম্মানের হানী ঘটলেও প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ে না। তিনি বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, মান সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এখন কথায় কথায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নাকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আসলে অপ্রিয় হলেও বাস্তবতা এখন এমনি পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, শেখ হাসিনা এখন রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তথাকথিত উচ্চপর্যায়েই ঘুরছেন, উড়ছেন। কিন্তু নিচে যে স্বাধীন দেশের আঠারো কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত রয়েছে, সম্মান জড়িত রয়েছে, সেগুলো এখন নতজানুর চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত। ‘গরু চোর’ অপবাদ দিয়ে প্রায়শ:ই সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ প্রতিবাদ করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে বর্তমান সরকার। শিরদাঁড়া সোজা না থাকলে, শির উঁচু করে কথা না বলতে পারলে, বুকের পাটা না থাকলে এমনই হয়। গদিরক্ষা বিপজ্জনক হবে ভেবেই এই সরকার প্রতিবাদ করতে পারে না।

বিমানে চড়া পেঁয়াজ এখনও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বাজারে আসতে পারেনি: রিজভী বলেন, বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দাম। চালের দাম। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এখন স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আতঙ্কের। মাসের পর মাস পার হলেও নিত্য পণ্যের বাজারের কোন উন্নতি হয়নি। বাজারে পর্যাপ্ত শাক-সবজি সরবরাহ থাকলেও শুধুমাত্র সিন্ডিকেটের কারণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সবজির দাম। পেঁয়াজের জন্য হাহাকার চলছে। আজকেও গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে ৩৮ টাকায় পেঁয়াজ কিনে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা বিক্রি করছেন দুই’শ টাকার উপরে। ১৯৭৪ সালেও এমন হাহাকার ছিলো লবণের জন্য। তখনও হেলিকপ্টার ভোটে ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ, আর এখনও রাতের ভোটে ক্ষমতায় তারাই। তখন প্রতিদিন রেডিওতে লবণের বদলে কলাগাছের থোড় খাওয়ার উপদেশ দেয়া হতো আর এখন পেঁয়াজ ছাড়া ২২ পদের রান্নার রেসিপি দেয়া হচ্ছে, খোদ মন্ত্রী এসব রেসিপি দিচ্ছেন। এখন সরকারী ব্যর্থতায় ২৬০-২৭০ টাকার নীচে নামছে না পেঁয়াজ।

গত ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বললেন, পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, আর চিন্তা নাই। তারপরেও পেঁয়াজের এতো গগনচুম্বী মূল্য কেন। শেখ হাসিনার বিমানে চড়া পেঁয়াজ এখনও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বাজারে আসতে পারেনি। বলা হলো দেড় লাখ টন পেঁয়াজ আসছে। আজও এলো না সেই বিমান ভর্তি পেঁয়াজ। যতই বিমান দেখাক, আর অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কথা বলা হোক, সেটি আসলে কানাকে হাইকোর্ট দেখানোর মত! পেয়াজের দামের আগুনে পুড়ছে মানুষ। তার উপরে নতুন বিপদ হয়েছে-পাড়া মহল্লার মুদি দোকানগুলো পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ দোকানে দোকানে এমনকি কোথাও কোথাও বাড়িতে হানা দিয়েছে! ছোট দোকানিরা পুলিশী ঝামেলায় যেতে চায় না, তাই তারা পেঁয়াজ তুলছে না দোকানে! অথচ পেয়াজের সিন্ডিকেট ও মজুতদাররা সরকারের আশ্রয়েই যে জনগণের পকেট কাটছে তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও হিলির বেশ কয়েকজন পেঁয়াজ আমদানিকারককে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বলেছেন, বিদেশ থেকে গড়ে মাত্র ৩৮ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৬০ টাকায়। এই পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের গিলে খাওয়া সরীসৃপরা জড়িত। পেঁয়াজের জন্য মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে পুলিশের গুলি পর্যন্ত খেতে হয়। সরকার শুধু পেঁয়াজ বা চাল নয় বাজার নিয়ন্ত্রণেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আসলে তাদের সফলতা কোথায়? দেশের জনগণ সাক্ষী, সন্ত্রাস, দখল, রক্তপাত, গুম, জুলুম, জবরদস্তি, হামলা মামলা, দুর্নীতি ও উঞ্ছবৃত্তি চালিয়ে নিশিরাতের এই সরকার বিরোধী দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে অসমর্থ প্রমাণের মধ্যেই নিজেদের সাফল্য খুঁজে পেতে চায়। মানুষ হত্যা আর বন্দুকের জোরে কোনোভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পারাই যদি সাফল্যের মাপকাঠি হতো তাহলে বিশ্বের ইতিহাসে ফ্যাসিষ্ট-নাৎসী-সাভাকরা নিষিদ্ধ ও নিন্দিত নাম হতোনা। আওয়ামী লীগের ইতিহাস ‘ক্রাইম স্টোরি’ লেখার সমতুল্য।

তিনি বলেন, দেশ থেকে ৯ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলো, বালিশ, খাতা, কম্বল কেনার নাম করে শত শত কোটি টাকা লুটে নেয়া হয়েছে। লুটেরারা অধরাই থেকে গেল। অথচ মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে তাঁকে ধীরে ধীরে হত্যার চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্তের দায় কেউ এড়াতে পারবেনা।