বেবিচকে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বদলির  গুঞ্জন : তোপের মুখে মেম্বার অপস

নিউজ ডেক্স : প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ১৫ দিনেও থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে কোনও অগ্রগতি নেই। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেনা ১৬৫০ কোটি টাকার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আর এই টাকা পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও  বেবিচক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার সিদ্ধান্ত চাইবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশনকে থার্ড টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা করার জন্য মেইল করে বেবিচক। তবে ফিরতি মেইলে তারা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে বেবিচকের প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বদলির গুঞ্জনে এমন অবস্থা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বেবিচক পরিদর্শনে করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য থার্ড টার্মিনালও ঘুরে দেখেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থার্ড টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি)  সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভব থার্ড টার্মিনাল চালুরও নির্দেশ দেন তিনি।

ওই বৈঠক শেষে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বিশেষ করে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অংশ নেওয়া জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথভাবে ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’ নামে একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দেনা-পাওনা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ছিল চরমে। এমনকি মেগা এই প্রজেক্টকে বিতর্কিত করতেও তারা ছিলেন মরিয়া। এ কারণে অন্যতম এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শেষ হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। শুধু তাদের কারণে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) দেনা পাওনা পরিশোধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায়। যা দেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করে। ওই রায় তাদের পক্ষে যায়­—যার কারণে ১৬৫০ কোটি টাকা বেবিচককে  দিতেই হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বেবিচক থেকে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করা হলে বর্তমান প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে আবারও চিঠি চালাচালি মানেই এটিকে আরও দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল। আসলে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে থার্ড টার্মিনাল চালু তো দূরের কথা, আলোচনায় অগ্রগতি করতে পারবে না বলেও যথেষ্ট সন্দেহ করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেবিচকের কাজে এক ধরনের স্থবিরতা চলে আসছে। শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের বেবিচকের ঊর্ধ্বতন ২/৩ জন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার গুঞ্জনে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অতি সম্প্রতি চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে এক ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়েন মেম্বার অপারেশনস মেহবুব খান। ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার কারণে তিনি সেখানে নাজেহাল হন।

কর্মকর্তারা বলেন, তাদের বদলির ব্যাপারে বেবিচকজুড়েই আলোচনা হচ্ছে। এ কারণে তারাও কাজে মনোযোগী না। কোনও ফাইল গেলে সেটি আটকে রাখছেন।

এদিকে এমন অবস্থার মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেবিচক পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরেজমিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এছাড়া দ্রুত টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার  সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তারা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালও পরিদর্শন করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বিশেঙ্ঘক মতামত, ‘‘সরকার যদি আন্ত:মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে, সেখানে দক্ষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে, সেক্ষেত্রে একটি পজিটিভ রেজাল্ট আসতে পারে।’’

‘জাপান ও কোরিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো রেজাল্ট আনতে পারতাম। কিন্তু অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা সেটা পারিনি।’’

এ দিকে চেয়ারম্যান, ৩ মেম্বারের বদলির গুনজন ডালাপালা গজাচ্ছে। সমস্ত ফাইল আটকে আছে। জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন কাজও আলোরমুখ দেখছে না। গুনজন শোনা  যায় সংস্থার চেয়ারম্যান ,৩ মেম্বার, শাহজালালের ইডি কবে যাচ্ছেন। নতুন প্রশাসন ঢেলে সাজানোর অপেক্ষায় বেবিচক। আর বর্তমান সরকারের গুডবুকেও এরা নেই। এরা আওয়ামী দোসর বলে চাউড়। এদের মধ্যে ছাত্রলীগের ক্যাডারও রয়েছেন।