স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী দোসর কর্মচারি-কর্মকর্তাদের নিয়ে ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন । এতে কলকাঠি নাড়ছেন ইডি ও একজন ডিডি। তাদের নেক আর্শীবাদে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এতে দু’ভাই সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্ধন্ধী। এদের মধ্যে একজন যুবলীগ নেতা এবং মামলার আসামি। এ নিয়ে ‘একুশে বার্ত’ার অনলাইনে একটি সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্ত কর্তৃপক্ষ অনড়। কারণ তারাও তো আওয়ামী দোসর। ইতিপূর্বে একজন ভারতীয় দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। আরেকজন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন।
শাহজালালের ওয়েলফেয়ার কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদটি লোভনীয়। এ পদে থেকে অনেকে কোটিপতি বনে গেছেন। এদের মধ্যে শাহাদতের নাম সবার মুখে মুখে। এই শাহাদতের নেতৃত্বে বেবিচকের কাওলায় ও আশকোনা হজ ক্যাম্পের অপজিটে নামকাওয়াস্তে বেবিচকের সম্পত্তি লিজের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে দোকানপাট গড়ে একেকটি দোকান ১৫/২০ লাখ টাকা সেলামি নিয়ে মুখ চিনে চিনে দোকানপাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই আবার আওয়ামী দোসর। দুটোর নেতৃত্বেই সেই শাহাদত।
এ সব করে শাহাদত এখন কোটিপতি। বেবিচকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলে। মাঠ পর্যায়ের দুদকও ম্যানেজেজ। দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলেই কেচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসবে। কিন্ত শাহাদতের টিকিটিও এখন পর্যন্ত কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ ম্যানেজ মাস্টার শাহাদত সবাইকেই ম্যানেজ করে চলে। আওয়ামী আমলে তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে আওয়ামী নেতাদের দিয়ে তদবির করাতো।
এখন শাহাদত নব্য বিএনপি সেজে গেছে। বিএনপি নেতাদের দ্বারে ঘেষছেন। গণমাধ্যমের কতিপয় কর্মীদেরও ম্যানেজ করে ফেলেছেন- যেন তার বিরুদ্ধে কোন রিপোর্ট না হয়।
গত কয়েক বছর শাহাদত সিন্ডিকেড লুপাট করে খাবার পর কর্তৃপক্ষ তাকে বাদ দিয়ে নতুন করে ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। আর সেখানে আওয়ামী দোসরদেরই জয়জয়কার। অনেকে মনে করেন শাহজালাল বিমানবন্দর কি আওয়ামী দোসর পরিবেস্টিত। এ সব বিষয়গুলো গোয়েন্দা সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত বলে অনেকে মনে করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে দুই ভাই : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মন্তব্য করেন শাহজালালের ওয়েলফেয়ার কমিটিতে আপন দুই ভাই প্রতিদ্ধন্ধী। এদের মধ্যে এক ভাই প্রভাবশালী, যুবলীগের নেতা। মামলার আসামি। অন্য ভাই কোন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করে না বলে জানা গেছে।
ছাত্রলীগ নেতাও ওয়েলফেয়ারে! ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাও নাকি ওয়েলফেয়ার কমিটিতে ঠাই পেতে যাচ্ছেন। তিনি শাহজালালের অধীনেই কর্মরত। সরকার পতনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে। কারণ তার বস আবার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। এখানে এক সাবেক ছাত্রদল করা একজন কোণঠাসা।
ঈদ পার্বণে: বছরে দুই ঈদ পার্বণে কয়েকটি গরু জবাই দেয়া হয়ে থাকে ওয়েলফেয়ার কমিটির নেতৃত্ব। আর এসব গরুর মাংশ বিতরণ করা হয় কমিটির নেতাসহ সব সদস্যের বাসায় বাসায়। এ প্রথা চলমান।
