প্রেস বিজ্ঞপ্তি: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন কার্যক্রম, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, অনুমোদিত নথি, চুক্তিগত বিধান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আংশিক ও প্রেক্ষাপটবিহীন তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর পূর্বেই সম্পন্ন হলেও অপারেশনাল প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কারণে টার্মিনালটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এসব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রকল্প সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তুতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এ দাবি সঠিক নয় এবং প্রকল্পের অনুমোদিত নথি ও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃত তথ্য হলো— যে কোন প্রকল্পের ব্যয়ের ক্ষেত্রে PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক চুড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। উক্তরুপ সরকারী অনুমোদন ব্যতীত প্রকল্পের কোন অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই। বর্নিত প্রকল্পের ১ম ডিপিপির মূল্য ছিল ১৩,৬১০ কোটি টাকা, যা বিগত ২৪/১০/২০১৭ইং তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতার উদ্ধৃত দর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক উহা অনুমোদিত হয়। উক্ত অনুমোদিত দরকে ভিত্তি করে প্রণীত ২১,৩৯৯ কোটি টাকা মূল্যবিশিষ্ট ১ম সংশোধিত ডিপিপি সরকার কর্তৃক ১০/১২/২০১৯ইং তারিখে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের জন্য ৩,২৬৭ কোটি টাকা এবং কার্য সাইটের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের আইটেম ওয়ারী পরিমানের হ্রাস-বৃদ্ধি বিবেচনা করে মোট ৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে ২১,৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। যা PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ০৭/১২/২০২৫ইং তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অদ্যাবধি প্রকল্পের বিপরীতে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং, অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগটি সঠিক নয়।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো গাছের প্রতিটির মূল্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ লাগাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং পরিচর্যায় আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে ‘শোভাবর্ধনের নামে পুকুরচুরি’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো ঠিকাচুক্তিতে উল্লেখিত দরে প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ বাবদ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ঠিকাচুক্তির আওতায় প্রায় ১৪,৮২৪ (চৌদ্দ হাজার আটশত চব্বিশ) আইটেমের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে ঠিকাদার কোনো আইটেমে অপেক্ষাকৃত বেশি এবং কোনো আইটেমে অপেক্ষাকৃত কম দর উদ্ধৃত করে সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হন। উদাহরন স্বরুপ প্রকল্পের টানেল নির্মাণ কাজে রডের প্রতিটনের চুক্তিমূল্য ১৫,৬৫০ (পনের হাজার ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা অথচ পিডব্লিউডি সিডিউল-২০২২ (সংশোধিত) অনুযায়ী এ দর ১,২১,০০০ (এক লক্ষ একুশ হাজার) টাকা। ফলে চুক্তির কোন একটি আইটেমকে খন্ডিত আকারে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়ন এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর বর্ণিত ঠিকাচুক্তি ১৪-০১-২০২০ইং তারিখে সম্পাদিত হয়। ঠিকাচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমোদিত মূল্য ব্যতিরেকে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। অতএব, ঠিকাচুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে সম্পাদিত এ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, থার্ড টার্মিনালে পুকুর নির্মাণ বাবদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যদিও সেখানে পূর্ব থেকেই একটি জলাশয় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান জলাশয়ের কাদামাটি অপসারণ, পুকুরের নির্ধারিত আকৃতি (shape) প্রদানের জন্য ঢালে (slope) মাটি ভরাট, কংক্রিট ব্লক স্থাপনের দ্বারা পুকুরের পাড় বাঁধাই, পুকুরের উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ বাবদ বর্ণিত অর্থ ব্যয় হয়েছে। উল্লিখিত কাজসমূহের বিপরীতে ঠিকাচুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে এবং অনুমোদনের বাহিরে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। ফলে এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, মাটি অপসারণে কম দূরত্বে কাজ করেও বেশি দূরত্বের বিল দেখিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো ঠিকাচুক্তিতে swamp soil প্রকল্প সাইটেই জমা করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রকল্প সাইটে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প সাইট হতে সর্বোচ্চ ৬.৫ কিলোমিটার দূরে উহা অপসারণ করা হয়েছে। এটি একটি ভেরিয়েশন কাজ, প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক উক্ত ভেরিয়েশন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা (Instruction) প্রদান করা হয়েছে এবং কাজের দর অনুমোদন করা হয়েছে। সরকার এবং প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থার মধ্যে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইড লাইন অনুসারে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract মোতাবেক প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের আদেশ প্রদানসহ উহার মূল্য অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। ঠিকাচুক্তির বিধান এবং দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত দর অনুযায়ীই এ কাজের বিপরীতে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে এবং অনুমোদনের বাহিরে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। ফলে চুক্তি বহির্ভূত বা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগটি সঠিক নয়।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের জন্য চুক্তিবহির্ভূতভাবে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো অডিট আপত্তি মোতাবেক Amicable Settlement কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে ডিজেল পাম্প সরবরাহে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সিরামিক ডাক্ট সংক্রান্ত কাজের maintenance এর জন্য ডিজেল পাম্প, সেফটি ইকুইপমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, কেবল ফল্ট ডিটেক্টর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এ ব্যয়ের অন্তর্ভূক্ত। প্রকল্পের ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক এ ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে UPS বাবদ সাড়ে আটচল্লিশ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো ৩য় টার্মিনালে স্থাপিত ৮টি EDS Machine-এর জন্য UPS সরবরাহসংক্রান্ত এ কাজের আওতায় বিদেশ হতে আমদানিযোগ্য UPS সরবরাহ ও স্থাপন, UPS স্থাপনের স্থানে প্রয়োজনীয় পূর্ত, ই/এম, কমিউনিকেশন, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এ ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক এ ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে জ্বালানি তেল ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ৪১ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো নির্মাণ কাজ চলাকালীন সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্ধিত দরে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ফুয়েল ঠিকাদারকে ক্রয় করতে হয়েছে। চুক্তির বিধান অনুযায়ী চুক্তির সময়কালীন জ্বালানী তেলের মূল্যের অতিরিক্ত ব্যয় ঠিকাদারকে প্রদানের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার যুক্তিতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো কোভিড-১৯-জনিত কারণে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঠিকাদার কর্তৃক নির্মাণ সাইটে অতিরিক্ত শ্রমিক, ইকুইপমেন্ট, ম্যাটেরিয়াল, সাটারিংসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ ও জনবল মোতায়েন করা হয়। এটি একটি ভেরিয়েশন কাজ। ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের আদেশ প্রদান এবং উক্ত কাজের মূল্য অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। দ্য ইঞ্জিনিয়ারের অনুমোদনক্রমে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনও রয়েছে। সরকারের যথাযথ অনুমোদনের পরই উক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। উক্ত ব্যয় না করে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হলে ঠিকাদার delay demurrage charge এর দাবী পেশ করতো যাতে এ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
অতএব, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার অজুহাতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে এমন বক্তব্য সঠিক নয়।গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও অনিয়মের প্রমাণ অথচ প্রকৃত তথ্য হলো বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে FAPAD (Foreign Aided Projects Audit Department) কর্তৃক পরিচালিত অডিট প্রতিবেদনে ৬,৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অডিট আপত্তি উত্থাপনের বিষয়টি একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। যথাযথ জবাবের প্রেক্ষিতে উক্ত আপত্তি নিস্পত্তিযোগ্য। FAPAD কর্তৃক অডিট কার্যক্রম পরিচালনা কালে প্রকল্পের বিপরীতে ১২,৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়িত হয়। অডিট প্রতিবেদনে ৬,৩০০ কোটি টাকার ওভারপেমেন্ট সংক্রান্ত আপত্তি উত্থাপিত হয় যা উক্ত সময় পর্যন্ত ব্যয়ের প্রায় ৫০%। এত অধিক পরিমানের ওভারপেমেন্ট সংক্রান্ত অডিট আপত্তির বিষয়টি ডিসপুট বোর্ড কিংবা সিএএবি’র নিকট গ্রহণযোগ্য হয়নি। কেননা, এতে ১৪,৮২৪ টি BOQ আইটেমের সমন্বয়ে গঠিত প্রকল্প কাজ কিভাবে সঠিকভাবে সম্পন্ন হলো সে প্রশ্ন উঠে। বিষয়টি প্রকল্পের জন্য গঠিত Dispute Board-এ উত্থাপিত হলে Dispute Board ঠিকাচুক্তির বিধান পর্যালোচনা করে মতামত প্রদান করে যে, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে ঠিকাদারের বিল স্থগিত করা কিংবা অডিট আপত্তিকৃত অর্থ ঠিকাদারের বিল হতে Recovery করার কোন সুযোগ নেই। পরবর্তীতে ঠিকাচুক্তিতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকল্পের ডিসপুট নিরসনের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে Amicable Settlement-এর লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভায় ৬,৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১,০৭৭ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় হতে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রাপ্য হওয়ায় উক্ত অর্থের বিষয়ে অডিট আপত্তির জবাব প্রস্তুতির কার্যক্রম চলমান আছে। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে। অতএব, এ অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে অন্তত ৬০০ খাতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করা হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই। প্রকৃত তথ্য হলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই ৩,২০০ কোটি টাকার ভেরিয়েশন কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। গত ০৭/১২/২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপিতে ভেরিয়েশন কাজের ব্যয় বাবদ প্রায় ৩,২৬৭ কোটি টাকা অন্তর্ভূক্ত আছে।
প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর সঙ্গে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইডলাইন এবং ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের Instruction প্রদানসহ উক্ত কাজের মূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। সে অনুযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক ভেরিয়েশন কাজের মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। বিষয়টি ডিসপুট বোর্ডে উত্থাপিত হলে ডিসপুট বোর্ড চুক্তি অনুাযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ারের অনুমোদন সঠিক আছে মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। অতএব, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া উক্ত অর্থ ব্যয় বা বিল পরিশোধ করা হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, অতিরিক্ত কাজের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করে বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এ তথ্য মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর সঙ্গে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইডলাইন এবং ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের Instruction প্রদানসহ উক্ত কাজের মূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। সে অনুযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক ভেরিয়েশন কাজের মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ঠিকাচুক্তিতে অতিরিক্ত কাজের জন্য ১ (এক) শতাংশ ব্যয় করার যে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত কাজের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অতিরিক্ত ভেরিয়েশন কাজের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। ফলে উক্ত বিধানকে অতিরিক্ত ভেরিয়েশন কাজের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এতদ্ব্যতীত, এ বিষয়ে উত্থাপিত FAPAD-এর অডিট আপত্তি Dispute Board-এ উত্থাপিত হলে Dispute Board তার পর্যবেক্ষণে ঠিকাচুক্তির বিধি ৩.১-এর আলোকে উল্লেখ করে যে, “Engineer’s approval shall be deemed to have given approval by the Employer”। অর্থাৎ, Dispute Board-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত ভেরিয়েশন কাজের মূল্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায়, উক্ত ভেরিয়েশন কাজের অর্থ ব্যয় চুক্তি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পাদিত হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রকল্পের পরামর্শক অধ্যাপক শামসুল হক অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রকিউরমেন্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছেন এবং BRTC, BUET টিমের Team Leader হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রকিউরমেন্ট বিষয়ে কোনো মতামত প্রদান করেননি। প্রকল্পের ক্রয় কাজ ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর Procurement Guideline অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া, ৬,৩০০ কোটি টাকার কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়নি। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের মোট মূল্য ২১,৩৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অদ্যাবধি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা, যা প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। অতএব, ৬,৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ এবং বিধিবহির্ভূত ব্যয়ের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য, দুরভিসন্ধিমূলক ও মানহানিকর।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ হারুন-অর-রশিদ ৬০০টি ভেরিয়েশনকে অবৈধ উল্লেখ করে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—Contract Specialist জনাব হারুন-অর-রশীদের বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে সংবাদে উপস্থাপন করা হয়েছে। Dispute Board এর কাজে সিএএবিকে কারিগরি ও আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য BRTC, BUET-কে নিয়োগ করা হয়েছিল। জনাব হারুন-অর-রশীদ BRTC, BUET কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন Contract Specialist হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। Dispute Board-এ সিএএবির পক্ষে Referral প্রণয়ন এবং ঠিকাদার কর্তৃক দাখিলকৃত Referral-এর জবাব প্রণয়নের জন্য তিনি BUET-এর একজন সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল যে, Dispute Board-এ সিএএবির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি FAPAD-এর অডিট আপত্তির সঙ্গে একমত পোষণ করে ADC-এর Referral-এর জবাব প্রদান করেন। অপরদিকে, ঠিকাদার তাঁর পক্ষের বক্তব্য ডিসপুট বোর্ডে উস্থাপন করে। Dispute Board ঠিকাদারের পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ডিসপুট বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, প্রকল্পের দি ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত সকল ভেরিয়েশন কাজ চুক্তি অনুযায়ী বৈধ। সিএএবির বক্তব্য ঠিকাচুক্তির বিধান অনুযায়ী না হওয়ায় তা Dispute Board কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হয়নি। অতএব, জনাব হারুন-অর-রশীদের বক্তব্যকে খণ্ডিত আকারে উপস্থাপন করায় সংবাদটি সঠিক তথ্যভিত্তিক নয়।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর গঠিত ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো— প্রকল্পের বিষয়ে ঠিকাদার ADC এবং সিএএবির মধ্যে সৃষ্ট Dispute নিরসনের জন্য গঠিত Dispute Board-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী Dispute নিরসনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পূর্বে Prolongation cost, Financial Charge & detention/demurrages cost, maintenance cost, change in local index, Additional VAT by NBR, legal fee, ভেরিয়েশন কাজ প্রভৃতিসহ নির্মাণ কাজের মূল্য বাবদ ঠিকাদারের মূল claim ছিল ১৮,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বা ২০% বেশী। Claim সমূহ ডিবিতে উপস্থাপিত হলে ঠিকাদারের উক্ত অর্থ প্রাপ্তির সমূহ সম্ভাবনা ছিল। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় Amicable Settlement Committee ঠিকাদারের সাথে Negotiation করে উক্ত মূল্য কমিয়ে ১৬,২২৫ কোটি টাকায় (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) নির্ধারনের সুপারিশ করে যা চুক্তি মূল্য ১৫৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৬৬২ কোটি টাকা বা ৪.২৫% বেশী। এর মধ্যে ভেরিয়েশন এবং ঠিকাদারের claim সহ নির্মাণ কাজের মূল্য ১৫,৫৫৮ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা কম। অবশিষ্ট (১৬,২২৫ – ১৫৫৫৮) = ৬৬৭ কোটি টাকা প্রকল্পে স্থাপিত ইক্যুপমেন্টের ৩০ (ত্রিশ) মাসের maintenance বাবদ ব্যয়ের জন্য নির্ধারনের সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ৬৬২ কোটি টাকা সরকারের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে Amicable Settlement Committee গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের পূর্বের অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদান করা হয়নি; বরং সরকারের প্রায় (৩,০০০-৬৬২) = ২,৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে Amicable Settlement Committee-তে অন্তর্ভুক্ত সদস্যগণের কারো বিরুদ্ধেই এ প্রকল্পের অনিয়মের কোন বিষয়ে কোন অভিযোগ পূর্বেও ছিলনা এবং এখনও নেই। কমিটির সদস্যবৃন্দ বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা অর্থ পরবর্তীতে বৈধতা দিতে বিষয়টি একনেকের অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে মনগড়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। ফলে পরবর্তীতে একনেকের মাধ্যমে ব্যয়িত অর্থের বৈধতা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বাস্তবে, গত ০৭/১২/২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপির মূল্য ২১,৩৬৫ কোটি টাকা যার মধ্যে ভেরিয়েশন কাজ বাবদ ৩২৬৭ কোটি টাকা অন্তর্ভূক্ত আছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। অতএব, ব্যয়িত অর্থের বৈধতা প্রদানের জন্য একনেকের পরবর্তী অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদনের মাধ্যমে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগকে দুর্নীতির শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের কাজের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ প্রকল্পের সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপিতে অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। সুতরাং, প্রকল্পের ব্যয়িত অর্থের জন্য Post-facto বা ঘটনোত্তর অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। অতএব, অনিয়মকে পরবর্তীতে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়ম ভেঙে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং তা বৈধতা দিতে কমিটি গঠন ও একনেকের অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো— ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV)-এর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সময় মোতাবেক উক্ত অর্থ পরিশোধ না করা হলে চুক্তির বিধান অনুযায়ী ঠিকাদারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে প্রদান করতে হতো। উক্ত অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদানের জন্য Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়নি। প্রকল্পের বিষয়ে ঠিকাদার ADC এবং সিএএবির মধ্যে সৃষ্ট Dispute নিরসনের জন্য গঠিত Dispute Board-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী Dispute নিরসনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পূর্বে Prolongation cost, Financial Charge & detention/demurrages cost, maintenance cost, change in local index, Additional VAT by NBR, legal fee, ভেরিয়েশন কাজ প্রভৃতিসহ নির্মাণ কাজের মূল্য বাবদ ঠিকাদারের মূল claim ছিল ১৮,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বা ২০% বেশী। Claim সমূহ ডিবিতে উপস্থাপিত হলে ঠিকাদারের উক্ত অর্থ প্রাপ্তির সমূহ সম্ভাবনা ছিল। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় Amicable Settlement Committee ঠিকাদারের সাথে Negotiation করে উক্ত মূল্য কমিয়ে ১৬,২২৫ কোটি টাকায় (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) নির্ধারনের সুপারিশ করে যা চুক্তি মূল্য ১৫৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৬৬২ কোটি টাকা বা ৪.২৫% বেশী। এর মধ্যে ভেরিয়েশন এবং ঠিকাদারের claim সহ নির্মাণ কাজের মূল্য ১৫,৫৫৮ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা কম। অবশিষ্ট (১৬,২২৫ – ১৫৫৫৮) = ৬৬৭ কোটি টাকা প্রকল্পে স্থাপিত ইক্যুপমেন্টের ৩০ (ত্রিশ) মাসের maintenance বাবদ ব্যয়ের জন্য নির্ধারনের সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ৬৬২ কোটি টাকা সরকারের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে Amicable Settlement Committee গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের পূর্বের অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদান করা হয়নি; বরং সরকারের প্রায় (৩,০০০-৬৬২) = ২,৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থ সরকারের অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং ব্যয়িত অর্থের বৈধতা নেওয়ার জন্য একনেকের অনুমোদনেরও কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে প্রকাশিত সংবাদটি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের ১ম ডিপিপির মূল্য ছিল ১৩,৬১০ কোটি টাকা, যা বিগত ২৪/১০/২০১৭ইং তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতার উদ্ধৃত দর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক উহা অনুমোদিত হয়। উক্ত অনুমোদিত দরকে ভিত্তি করে প্রণীত ২১,৩৯৯ কোটি টাকা মূল্যবিশিষ্ট ১ম সংশোধিত ডিপিপি সরকার কর্তৃক ১০/১২/২০১৯ইং তারিখে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের জন্য ৩,২৬৭ কোটি টাকা এবং কার্য সাইটের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের আইটেম ওয়ারী পরিমানের হ্রাস-বৃদ্ধি বিবেচনা করে মোট ৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে ২১,৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। যা PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ০৭/১২/২০২৫ইং তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অতএব, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দর, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন এবং পরবর্তীতে ভেরিয়েশন কাজ অন্তর্ভূক্ত করে সংশোধিত ডিপিপির অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে। সুতরাং, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদিত প্রক্রিয়ারই অংশ এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিশ্বাস করে, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সকলের সচেতন ও দায়িত্বশীল সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
