নিউজ ডেক্স : জুলাই। ২০২৬ সালের এই দিনে পূর্ণ হলো ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও আলোচিত দিনের দুই বছর। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিলে কার্যত বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আন্দোলনের ইতিহাসে জুলাই হয়ে ওঠে এক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দিন।
পুরো মাস জুড়েই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয় উত্তরায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আন্দোলনকারীরা।
.
সেদিনই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ এবং দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মেহেদি হাসান। মুগ্ধ ও ফাইয়াজ পরে আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হন।
.
রাজধানীর মহাখালী, মিরপুর, ধানমন্ডি, রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সেতু ভবন, পুলিশ বক্স ও বিটিভি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্তত ৪৭ জেলায়। বিভিন্ন সূত্রে সেদিন নিহতের সংখ্যা ২৭ থেকে ৩১ জন এবং আহত হন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
দেশব্যাপী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে মোবাইল ইন্টারনেটও কার্যত অচল হয়ে পড়ে। টানা পাঁচ দিন ব্রডব্যান্ড এবং আট দিন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হিসেবে আলোচিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কোটা সংস্কারের বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানালেও আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য ছিল—‘গুলি আর আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।’
দুই বছর পরও জুলাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রক্ত, প্রতিরোধ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরে যাওয়ার এক স্মরণীয় দিন।
