স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে একুশ শতকের কাগজ ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করণে গত ১৫ জুন/২৬ প্রকাশিত রিপোর্ট সত্য হলো। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ফুল মন্ত্রী করা হলো। ইতিমধ্যেই তিনি ২১ আগস্ট নয়া প্রেসিডেন্টের কাছে শপথ নিয়েছেন। তাকে বিমান মন্ত্রণালয়ের পুর্ণাঙগ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর বর্তমান বিমানমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করণে ‘আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার: বিএনপিপন্থীরা কোণঠাসা: ৪ আওয়ামী দোসর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন: বিমানমন্ত্রীকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফুল দায়িত্ব পেতে পারেন: উপদেষ্টাদের ম্যানেজের পায়তারা’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়।
এর ঠিক ২ মাস ৯ দিনের মাথায় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ফুল মন্ত্রী করা হলো। দায়িত্ব দেয়া তার পুরনো মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা। আর উপদেষ্টা লন্ডন প্রবাসী হুমায়ুন কবীরকে বিমান উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
কিন্ত বেবিচকে আওয়ামী দোসররা এখনও বহাল। তারা আওয়ামী আমল, অর্ন্তবর্তী সরকারের আমল, বিএনপির আমলে ৬ মাস ধরে বহাল।
এদেরকে ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে ফেইজবুকে সচিত্র খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে একুশে বার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল:
বেবিচক : আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার: বিএনপিপন্থীরা কোণঠাসা: ৪ আওয়ামী দোসর সরি ঘুরাচ্ছেন: বিমানমন্ত্রীকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফুল দায়িত্ব পেতে পারেন: উপদেষ্টাদের ম্যানেজের পায়তারা!
স্টাফ রিপোর্টার : সরকার পতন, অর্ন্তবর্তী সরকারের ১৮ মাস পার , নতুন সরকার ক্ষমতায়- কিন্ত বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকে এখনও আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার, বিএনপিপন্থীরা কোণঠাসা। পুরো বেবিচক প্রশাসন, শাহজালাল বিমানবন্দর চালাচ্ছেন আওয়ামীপন্থীরা। এরাই সরি ঘুরাচ্ছেন , বেবিচকের ৪ প্রভাবশালী কর্মকর্তার মধ্যে কেউ অবার প্রয়াত গোলাম আজমের ছেলের বন্ধু বটে। একজন ছিলেন ইন্ডিয়ান দূতাবাসে। একজন আবার বর্তমান রাষ্ট্রপতির পিএস’র কাছের লোক। এরা ৩ সরকারের আমল ধরে বেবিচকে বহাল।
এ দিকে গুনজন শোনা যাচ্ছে, বিমানমন্ত্রীকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে ফুল বিমানমন্ত্রী করার প্রক্রিয়া চলছে। উপদেষ্টাদের ম্যানেজ করা হচ্ছে বলেও গুনজন শোনা যায়। এই ষোলকলা পূর্ণ হলে আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার আরও বেড়ে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। ‘হাওয়া ভবনে’র লোক বলে পরিচিত বিমান প্রতিমন্ত্রী।
দেওয়ানগঞ্জের রাজনীতি থেকে মিল্লাত এখন ‘পূর্ণ মন্ত্রী’

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছেন বিএনপির রাজনীতিবিদ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এদিন তার সঙ্গে আরও তিনজন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
বাবার শূন্যস্থানে তরুণ বয়সে এমপি, এবার প্রতিমন্ত্রী লিংকনবাবার শূন্যস্থানে তরুণ বয়সে এমপি, এবার প্রতিমন্ত্রী লিংকন
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই স্থানে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালিকাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত নবাব আলী প্রধান এবং মা প্রয়াত রোকেয়া বেগম। তিনি ছিলেন তাদের একমাত্র সন্তান। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেওয়ানগঞ্জেই।
রাজপরিবার থেকে রাজনীতিতে, এবার মন্ত্রী হলেন । দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন মিল্লাত। পরে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক এবং ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। নেতৃত্ব ও সুশাসন বিষয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি।
ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ট্রেডিং, ইন্ডেন্টিং, উৎপাদন এবং বৈদ্যুতিক ও নির্মাণসামগ্রী বিপণনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে শওরভ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ, প্রকৌশল, মৎস্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রিসভায় হুমায়ুন কবিরপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রিসভায় হুমায়ুন কবির
১৯৮৬ সালে বিএনপির রাজনীতিতে তার সক্রিয় পথচলা শুরু হয়। দলের তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও পরবর্তী সময়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি।
সংসদ ও দলীয় দায়িত্ব
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মিল্লাত। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। এর আগে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিল্লাত। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয় পান।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে, চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় মঈন খানশিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে, চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় মঈন খান
প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ এলাকায় শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেন বলে তার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক ও সেতু নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় একশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জকে নদীভাঙনমুক্ত করে আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তার। পাশাপাশি এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ছয় মাস সেই দায়িত্ব পালনের পর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।
শপথ নেওয়া চার পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাতই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি আগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মন্ত্রী হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে।
