হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার জিগা গাছ

ডেস্ক রিপোর্ট: একসময় গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে দেখা মিলত জিগা গাছের। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গ্রামীণ ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব না থাকায় ঐতিহ্যবাহী ও অতি দীর্ঘজীবী এ বৃক্ষটি আজ গ্রামবাংলা থেকেও বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি রংপুর মহানগরীর শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় বা টিটি কলেজ রোড পেরিয়ে ধাপ পাশারীপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দেখা মিলল গাছটির। আঞ্চলিকভেদে এটি জিকা, জিওল, ভাদি, কমিলা বা কাফিলা নামেও পরিচিত।

‘জিওল’ শব্দের অর্থ ‘যে সহজে মরে না’। বৈজ্ঞানিক কোনো নির্দিষ্ট আয়ুসীমা না থাকলেও অনুকূল পরিবেশে এ গাছ অনায়াসে শত বছরেরও বেশি সময় টিকে থাকে। এ বৈশিষ্টের কারণেই গাছটিকে অনেকে জিওল নামে ডাকে। গাছটির ডালে প্রচুর শ্বেতসার বা স্টার্চ থাকায় এর কাটা ডাল মাটিতে পুঁতলেই সহজে গজিয়ে উঠত। এ কারণে গ্রামগঞ্জে বাড়ির সীমানা ও রাস্তার ধারে ‘জীবন্ত বেড়া’ হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কর্মকর্তা আবিদ করিম মুন্না জানান, জিগার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ল্যানিয়া করোম্যান্ডেলিকা। এটি আম, আমড়া ও বৈলামের মতো একই পরিবারভুক্ত। পাতাহীন ডালের শীর্ষে মিষ্টি গন্ধযুক্ত হলদে-সবুজ ফুল ফোটে। জিগা গাছের কাণ্ড থেকে নিঃসৃত আঠা দিয়ে একসময় গ্রামের শিশুরা ঘুড়ি বানাত। এ ছাড়া লোকজ চিকিৎসায় এর পাতা ও ছালের রস আলসার, মুখের ঘা ও বাতের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। বহুমুখী ব্যবহার ও প্রাচীন ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের এ দীর্ঘজীবী বন্ধু।