স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের অধীন হযরত শাহজালাল রা. ডবমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর উত্তরপাশে অবস্থিত সৌদি মসজিদে বৈদ্যুতিক হিটার থেকে আগুন ধরে যায়, পুরো মসজিদ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফলে আগুন আর পুরো বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে অনাকাংক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে বেচে যায় পুরো বিমানবন্দর।
খোজখবর নিয়ে এবং মুসুল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদের মোয়াজ্জেম সাইফুল ঘটনার সময় গত সোমবার রাত আনুমানিক পৌণে আটটার দিকে মসজিদের দু’তলায় বৈদ্যুতিক হিটারে কড়াইয়ে ডাল রান্না বসিয়ে নীচে এসে দোকানদারি শুরু করেন। সময়ের ব্যবধানে প্রায় আধাঘন্টা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক হিটার চলতে থাকে, কড়াই ডাল পানি পুড়ে শেষ হয়ে কড়াইতে আগুন ধরে যায়, পুরো মসজিদ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়, মসজিদের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, মুসুল্লিারা নামাজ পড়তে এসে বিপাকে পড়ে যান। খবর পেয়ে বেবিচকের বৈদ্যুতিক টেকনিশিয়ানরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আপ্রাণ চেষ্টা করে এই অনাকাংক্ষত দুঘর্টনা থেকে পুরো বিমানবন্দরকে রক্ষা করেন।
এ ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এ নিয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি, মোয়াজ্জেম সাইফুলকে কারণ দর্শানো হয়নি, জবাব চাওয়া হয়নি।
ওয়েলফেয়ার অফিসার, মসজিদের ক্যাশিয়ার সেলিম নাকি নাকি মোয়াজ্জেমকে মাফ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার বাদ আসর মোয়াজ্জেম সাইফুলের সাথে কথা বলতে সৌদি মসজিদে গেলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান, তবে তাকে দোকানদারি করতে ব্যস্ত দেখা গেছে।
মসজিদের ইমাম আরাফাত রহমানকেও পাওয়া যায়নি।
ইমাম- মোয়াজ্জেমের দোকানদারি ব্যবসা জমজমাট : বিমানবন্দরের সৌদি মসজিদের বাইরে দুই প্রবেশ পথের সামনে ইমাম আরাফাত এবং মোয়াজ্জেম সাইফুল ২টি টুপি-আতরের দোকান গড়ে তুলেছেন। এই দুই দোকানে ইমাম-মোয়াজ্জেমকে নামাজের পর দোকানদারি করতে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়। দেশের এবং বিদেশগামি যাত্রী ও তাদের রিসিভারদের টুপি কিনতে গেল চড়া দামে টুপি-আতর বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। অনেক সময় নাকি মুসুল্লিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এই দোকানকে কেন্দ্র করে ইমাম-মোয়াজ্জেমের মাসে লাখ টাকার ওপরে নাকি ইনকাম। এই টাকার ভাগ নাকি মসজিদের ক্যাশিয়ার সিনিয়র অফিসার সেলিম সাব পেয়ে থাকেন।
দান বাক্স ফেলে চাদা আদায়: সৌদি মসজিদে প্রতি শুক্রবার দান বাক্স ফেলে নাকি চাদা আদায় করা হয়। এই চাদার টাকা ইমাম আরাফাত রহমান, মোয়াজ্জেম সাইফুল, খাদেম আহসান উল্লাহ ও জাকারিয়া এবং ক্যাশিয়ারের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে।
মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেম- খাদেমদ্বয় সরকারি কর্মচারি, এরা সরকারি বেতনভাতা পান। তারপরও মসজিদের সামনে দোকানদারি, দান বাক্স ফেলে চাদাবাজি করছেন। এতে করে দেশে-বিদেশে দেশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আর এ সবই হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তপক্ষ তথা সিনিয়র অফিসার ক্যাশিয়ার সেলিমের নেকনজড়ে। এতে করে ইমাম-মোয়াজ্জেম, খাদেমরা পার পেয়ে যাচ্ছেন।
আগের ইমাম আকতারুজ্জামানও মসজিদে দানবাক্স ফেলে চাদা আদায় করতো। গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশি হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে- দান বাক্স ফেলা বন্ধ হয়ে যায়।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
