বাণিজ্য ডেক্স : ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমে দরপত্র আহ্বানে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো ই-জিপিতে আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল রোববার ই-জিপিতে আহ্বানকৃত দরপত্রের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩৮টি। আহ্বান করা দরপত্রের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। গত ১ আগস্ট/২১ সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সংকটময় কভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে ই-জিপি। এতে ক্রয়কারী ও দরপত্রদাতাদের কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টার ই-জিপি হেল্পডেস্কও চালু রয়েছে।
ফলে ক্রয়কারী ও দরপত্রদাতাসহ সব পক্ষের অংশগ্রহণে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বানে নতুন মাইলফলকে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সিপিটিইউর চালুকৃত ই-জিপি সিস্টেমের একটি বড় সাফল্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে, গত বছরের ২২ জুলাই ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্র আহ্বানের সংখ্যা চার লাখের মাইলফলক স্পর্শ করে। এছাড়া ওই দিন ই-জিপিতে আহ্বান করা দরপত্রের মোট মূল্য দাঁড়ায় চার লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশই ব্যয় হয় সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থ সরকারি ক্রয়ে ব্যয় হয়।
সরকারি সেবা ডিজিটাইজেশনের অংশ হিসেবে ২০১১ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-জিপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই বছরই চারটি বড় ক্রয়কারী সংস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন টেন্ডারিং প্রক্রিয়া চালু হয়। পরীক্ষামূলক অনলাইন টেন্ডারিংয়ে সফলতা অর্জনের পর ২০১২ সাল থেকে সরকারি বিভিন্ন ক্রয়কারী সংস্থা সিপিটিইউর উদ্ভাবিত ই-জিপি বাস্তবায়ন শুরু করে। সরকারি ক্রয়ের এই ডিজিটাইজিংয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।
সিপিটিইউর তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত মোট ১৩৬৫টি সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার মধ্যে ১৩৬২টি ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। অন্যদিকে ই-জিপিতে নিবন্ধিত দরদাতার সংখ্যা ৮৮ হাজার ২৯৪। ক্রয়কারী সংস্থা ও দরপত্রদাতা উভয়পক্ষই তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এই সেবার সুফল পাচ্ছে। এর মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত হয়েছে দরপত্র প্রক্রিয়া। পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।
