চারদিকে অস্বস্তিকর, অন্ধকার পরিবেশ : আলো কি নেই ?

একুশে বার্তা ডেক্স : সরকারের দমনপীড়নের প্রতি ইঙ্গিত করে দেশে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা যখন খবরের কাগজের পাতা উল্টাই, দেখি- আমাদের শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছে। আমরা দেখি আমাদের মায়েরা নির্যাতিত হচ্ছে, ভাইয়েরা নির্যাতিত হচ্ছে। তখন সত্যিকার অর্থে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হই, বিপর্যস্ত হই। বর্তমানে আমাদের চারদিকে কেমন যেন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকালে জিয়া শিশু একাডেমীর উদ্যোগে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এরকম মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কখনো কখনো মনে হয় আসলে কী চারিদিকে অন্ধকার? আলো কী নেই? অবশ্যই আলো আছে। এই আলোর সন্ধানেই তো আমরা এগোচ্ছি। আমাদের শিশুরা এই আলোর সন্ধানেই এগিয়ে যাবে। নিশ্চয় একদিন আমরা হাস্যেজ্জ্বল শিশুদের দেখতে পাবো, সত্যিকার অর্থে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে পারবো। শিশুদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সবাই জানি আমাদের যোদ্ধারা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশটা আমাদের সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। দেশটাকে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যেমন আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে শিশুদেরও তৈরী হওয়ার একটা দায়িত্ব রয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, শিশুদের বলব তোমারা পাখা বন্ধ করো না, তোমরা উড়ে যাও। একদিন না একদিন তোমরা তীরে পৌঁছাবেই। একটা ভালো বাংলাদেশ দেখতে পাব। মির্জা আলমগীর বলেন, জিয়া শিশু একাডেমি আজকে আমাকে একটি ভিন্ন জগতে নিয়ে এসেছে। যদিও এই জগৎটি আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের। আমি এই জগতেরই একজন মানুষ ছিলাম। আমার সামনে এখন বসে আছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ। সৌভাগ্য হয়েছিল, আমার তাঁর সঙ্গে নাট্যজগতে ঠাকুরগাঁওয়ে, যেখানে আমার জন্ম সেখানে অনেক নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছি। সেই জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আজ এখানে এসে মনে হয়েছে আমি সেই ভিন্ন জগত থেকে উপস্থিত হয়েছি। তিনি বলেন, আজকে এখানে শিশুরা যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে তাতে আমি অভিভূত হয়েছি। জিয়া শিশু একাডেমি, শাপলাকুঁড়ি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে। উদীয়মান শিশুদের খুঁজে বের করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের এ উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য। জিয়া শিশু একাডেমীর উদ্যোগে সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও অভিনয়ে শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলা কুঁড়ি’ অনুষ্ঠান হয়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৭৫জন ক্ষুদে শিল্পীকে নিয়ে ৩৬টি পর্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে শাপলাকুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন। জিয়া শিশু একাডেমীর সভাপতি হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, কন্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, জিনাত রেহানা, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও মেহবুবা মাহনুর চাঁদনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে শিশু শিল্পীদের মনোজ্ঞ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।