নৌ পরিবহনমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী : ক্ষমা চাওয়া ও মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করছে শিক্ষার্থীরা

একুশে বার্তা ডেক্স : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের লাঘামহীন বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে ডেকে নিয়ে সরকার বিব্রত হয় এমন যেকোনও মন্তব্য পরিহার করে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক ঠৈকের পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে ডেকে নিয়ে তিনি এই নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রীর সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

গত রোববার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলার বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন নৌমন্ত্রী। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহতের ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে তুলনা করেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এতে বিব্রত হয়েছে সরকার।

নিজ দফতরে ডেকে নিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার বিব্রত হয় এমন যেকোনও মন্তব্য পরিহার করতে হবে। কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে মহারাষ্ট্রের সড়ক দুর্ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি।

ওইদিন সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মোংলা বন্দরের জন্য একটি মোবাইল হারবার ক্রেন ক্রয়ের বিষয়ে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শাজাহান খান বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছে, তা নিয়ে কোনও হইচই নেই। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কোনও ঘটনা ঘটলেই হইচই শুরু হয়ে যায়। মহারাষ্ট্রের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে কুর্মিটোলার সড়ক দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, আগে চুক্তিটা হোক, তারপর বলছি। চুক্তি শেষে তিনি এ বিষয়ে আর কোনও কথা না বলে বেরিয়ে যান।

নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: এদিকে এই ঘটনায় আপত্তিজনক মন্তব্য করায় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সচিবালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি বলেন, পদত্যাগ সমাধান নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ। সরকার সেটাই করবে। বিমানবন্দর সড়কে সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রয়েছে- নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের ক্ষমাপ্রার্থনা, বাসচালকদের গ্রেফতার, লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ ইত্যাদি। এসব দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত. রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিম সজীব নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিকের বেশি বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।