বিএনপি নেতা সোহেল কি আত্মগোপনে : তার খোঁজে শান্তিনগরের বাসায় পুলিশি অভিযান

একুশে বার্তা ডেক্স : বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের আগের দিন দলটির ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের খোঁজে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের কথা স্বীকার করে রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেশ কয়েকটি মামলায় ওনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তার বাসায় তল্লাশি হয়েছে।”

তবে তল্লাশি চালালেও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেলকে পাওয়া যায়নি বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ভোরের দিকে গোয়েন্দা পুলিশ মালিবাগের একটি বাসা থেকে সোহেলকে আটক করে নিয়ে যায় বলে বিএনপির অভিযোগ করলেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেনি বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন।

গত ৩০ জানুয়ারি হাই কোর্ট মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলারই আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল।

৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সিলেট সফরে সঙ্গী ছিলেন সোহেল। ওই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় ফেরেন খালেদা জিয়া। আর পরদিন ভোরের দিকে গোয়েন্দা পুলিশ মালিবাগের একটি বাসা থেকে সোহেলকে আটক করে নিয়ে যায় বলে বিএনপির অভিযোগ। সোহেল হয়ত আত্মগোপনে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাবিবউন নবী খান সোহেলের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিএনপির অভিযোগের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেনি।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “হাবিব-উন নবী খান সোহেল… আমরা কনফার্ম, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাকে অ্যারেস্ট করেনি। আমি কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত খবর নিয়েছি, আমাদের পুলিশ বাহিনী, কিংবা আমাদের র‌্যাব বাহিনী- কেউ তাকে অ্যারেস্ট করেনি।

“এটা হতে পারে, সে নিজেই আত্মগোপন করেছে, এটা তিনি নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে অ্যারেস্ট করেনি।”

গত ৩০ জানুয়ারি হাই কোর্ট মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলারই আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল। সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট সফরে সোহেলও তার সঙ্গে ছিলেন ।

সিলেটে দুই আউলিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় ফেরেন খালেদা জিয়া। আর ভোরের দিকে গোয়েন্দা পুলিশ মালিবাগের একটি বাসা থেকে সোহেলকে আটক করে নিয়ে যায় বলে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন রিজভী।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সোহেলের মত একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা কী অবস্থায় আছেন, আমরা জানতে চাই। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি, তারাও সংশয়ের মধ্যে, তার বন্ধু-বান্ধবরা সংশয়ের মধ্যে। আমরা জানতে চাই।”

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও এ বিষয়ে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, পুলিশের কোনো ইউনিট সোহেলকে গ্রেপ্তার করেনি।