মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আ‘লীগ প্রতিনিধি দলের বৈঠক : আইনি লড়াই ছাড়া খালেদার মুক্তির কোন পথ নেই

একুশে বার্তা ডেক্স : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বাসায় বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।

৩০ এপ্রিল সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এতে অংশ নেন। বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক রাজনীতি ও রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা এটিকে সৌজন্যমূলক নৈশভোজ বলে দাবী করছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, নৈশভোজ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মার্নিকাটের পাঁচ মিনিট একান্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাম্বাসেডর মোঃ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং মার্কিন দূতাবাসের পলিটিকাল অ্যাফেয়াস সেকেন্ড সেক্রেটারি কাজী রহমান দস্তগীর ও জ্যাকব জে লেভিনসহ দূতাবাসের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যূ, যুক্তরাষ্ট্ররে সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং আসন্ন দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। সিটি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তাষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
তিনি জানান, মার্শিকাট আমাদের বলেছেন গাজীপুর সিটি করপোরশেন নির্বাচন দেখতে গিয়েছিলাম এবং প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচন পরিবেশ আমার কাছে সন্তোষ মনে হয়েছে।

আইনি লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো পথ নেই : কাদের

আইনি লড়াই ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে তো জেলে রাখছে না। রাখছেন আদালত। আদালতে তারা ফাইট করুক। তারা এখন আন্দোলন-আন্দোলন করছে। আন্দোলনে কেউ সাড়া দেবে না। আন্দোলনে সাড়া দেয়ার সময়ও নেই। সময় অনেক পেরিয়ে গেছে। জনগণ এখন নির্বাচনের মুডে আছে, আর তারা ডাক দিচ্ছে আন্দোলনের। খালেদা জিয়ার ব্যাপারটায় তারা আইনিভাবে গেলে ভালো করবে। আইনি লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।’ গত সোমবার  রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে দাবি করে কাদের বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে দেখেছেন। বিএনপি নেতারা যেভাবে কথা বলছেন ও চিৎকার করছেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে তারা বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও রাজনীতি করছে। এখানে চিকিৎসাটা দরকার, সে ব্যাপারে সরকারের কোনো গাফিলতি হবে না। তবে তারা মনে হয় রাজনীতি শুরু করছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক দল থেকে যদি সার্টিফাই করা হয়, তাহলে তো হবে না। এখানে চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তাদের যে দুজন বারবার সার্টিফাই করছেন, দুজনই কিন্তু তাদের দলীয় চিকিৎসক। রাজনীতির টোন অ্যান্ড টেননের সুরে তাদের কথাবার্তা আমরা বুঝতে পারছি।’

চিকিৎসার বিষয় বিএনপি বা আওয়ামী লীগের নয় জানিয়ে কাদের বলেন, ‘একজন কারাবন্দীর চিকিৎসা কোথায় হবে, এটা বিএনপি ঠিক করে দেবে? আমাদের নেত্রী যখন কারাগারে ছিলেন, তখন আমরা কিন্তু বলিনি এই হাসপাতালে নিয়ে আসুন, ওই হাসপাতালে নিয়ে আসুন। এটা চিকিৎসকরাই ঠিক করবেন। দরকার হলে মেডিক্যাল বোর্ড ঠিক করবে।’