স্টাফ রিপোর্টার : এবার মাদ্রাসা শিক্ষকরা দাবি আদায়ে রাজপথে। তারা দাবি আদায়ে ৯ জানুয়ারি থেকে অনশনে বসছেন। নিবন্ধন পাওয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে শৈত্যপ্রবাহের প্রচন্ড শীতের মধ্যে ৮ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন এসব মাদরাসার শিক্ষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লেও দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের ফুটপাথের উপরই দিনরাত কাটাচ্ছেন তারা। তবে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। টানা ৮দিন অবস্থান কর্মসূচির পর ৯ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে অনশনে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমীন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে ১০ হাজার মাদরাসা রয়েছে, এতে ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক শিক্ষাদান করছেন। কিন্তু আমরা কোনো বেতন পাই না। এবার আমাদের যদি জাতীয়করণ না করে, তাহলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমাদের দাবি সরকার মেনে না নিলে ৯ জানুয়ারি বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশনে যাবো। তিনি আরো বলেন, আমরা ৮ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি কিন্তু সরকাররের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। তারা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিও মেনে নেবেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, একই পরিপত্রে ১৯৯৪ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণির কার্যক্রম একই হলেও ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সরকার। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি মাসে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন হলেও ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা সরকার থেকে কোনো বেতন পান না। তবুও তারা শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক দুই হাজার ৫০০ টাকা, সহকারী শিক্ষক দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি মাদরাসা শিক্ষকরা এত বছর ধরে বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত। এটা অমানবিক এবং শিক্ষকদের অবমাননা ছাড়া কিছুই না।
জাতীয়করণের দাবিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পর আমরণ অনশনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির আশ্বাস নিয়ে ঘরে ফেরেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, সমিতির কার্যনির্বাহী সভায় ৯ জানুয়ারি থেকে আমারণ অনশন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে রোববার বেলা একটার দিকে সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের নতুন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে স্মারকলিপি দেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও উপস্থিত ছিলেন। সমিতির দপ্তর সম্পাদক ও প্রতিনিধিদলের সদস্য ইনতান বিন হাকিম বলেন, স্মারকলিপি দেয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান। একই সঙ্গে আন্দোলন বন্ধ করে আমাদের বাড়ি যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। তবে আমরা কোনো কথা দিয়ে আসিনি। তিনি আরো জানান, অবস্থান কর্মসূচিস্থলে এসে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। তাতে যদি মৃত্যু হয়, হোক।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
