নিউজ ডেক্স : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আবদুল মালেক গ্রেপ্তারের পর ওই সিন্ডিকেটের আরও সদস্যের তথ্য সামনে আসে। তাদের অন্যতম শাহজাহান ফকির। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) একান্ত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে শাহজাহান ফকিরসহ সাতজনকে গত রোববার তাদের আগের কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়। তবে বদলি হলেও এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজির পাশেই রয়েছেন শাহজাহান। গতকাল মঙ্গলবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের একটি অনশন কর্মসূচিতে ডিজি আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পাশেই দেখা গেছে তাকে। ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনশন ভাঙান ডিজি।
বদলি হওয়ার পরও ডিজির পাশে মালেক সিন্ডিকেটের সদস্য শাহজাহান ফকিরকে দেখা যাওয়ায় অনেকে তার ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে নানা কথা বলছেন। তাদের মতে, বদলি হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শাহজাহানের প্রভাব কমেনি। শাহজাহান ফকির আছেন ক্ষমতার প্রভাব বলয়েই।
গ্রেপ্তারের পর স্বাস্থ্য খাতের আরও কয়েকজন দুর্নীতিবাজের নাম ফাঁস করেছেন মালেক। তাদের মধ্যে রয়েছেন শাহজাহান ফকির। বিভিন্ন সময় আরও একাধিক মহাপরিচালকের পিএ ছিলেন তিনি। নামে-বেনামে অনেক সম্পদ গড়েছেন। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে বহুতল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ফকিরের ব্যাপারে বিশদ অনুসন্ধান চলছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহজাহান ফকিরের মোবাইলে নম্বরে একাধিকবার ফোন করার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।
শাহজাহান ফকির মূলত প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি ডিজির ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তাকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) ব্যক্তিগত সহকারী আজিজুল হককে তার অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যের পরিচালকের (অর্থ) ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল হান্নানকে ডিজির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কৃষ্ণা কুন্ডু অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করবেন।
এদিকে পুলিশি রিমান্ড শেষে মালেক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গোয়েন্দাদের কাছে তিনি দাবি করেন, সব মিলিয়ে ১৫-২০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি- বেতন, গরুর খামারসহ তার প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা আয় রয়েছে। তবে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মালেকের দৃশ্যমান আয়ের সঙ্গে সম্পদের বিস্তর ফারাক রয়েছে। সম্পদের অনেক তথ্য গোপন করছেন তিনি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর র্যাব-১-এর একটি দল গাড়িচালক মালেককে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য এর আগেই তার অপকর্ম আর সম্পদের অনুসন্ধান চালাতে থাকেন গোয়েন্দারা। ওই তদন্তে সামান্য গাড়িচালক মালেকের একশ কোটি টাকার বেশি সম্পদের খোঁজ মিলেছে। অবৈধ অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় করা পৃথক দুই মামলায় মালেককে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তুরাগ থানা পুলিশ। বর্তমানে মালেক জেলহাজতে রয়েছেন।
মালেককে গ্রেপ্তারের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘিরে যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছিলেন, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের নামের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন তথ্য ও মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এই দুষ্টচক্রের খোঁজ মিলেছে। এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন শাহজাহান ফকির। সমকাল
