সংবাদদাতা : ১৪ দিন পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুর থেকে আইসিইউএর চারটি বেড চালু করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাদিকুর রহমান বলেন, ‘দুপুর থেকে হাসপাতালের আইসিইউ আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। চারটি বেডে রোগী ভর্তি হতে পারবে। বাকি ছয়টা চালু করতেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা থেকে টেকনোলজিস্ট এসে কাজ করার পর চালু হবে। এখন এসি ব্যবহার করা যাবে না। জানালা খোলা রাখতে হবে। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সবগুলো এক সঙ্গে ব্যবহার করতে চাচ্ছি না। দুর্ঘটনা এড়াতে ৬-৮ ঘণ্টা পরপর হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহার করতে চাচ্ছি। এছাড়াও বাইপ্যাপের ব্যবহার শিখিনি। ব্যবহার শিখলে বাইপ্যাপগুলো চালু করা যাবে। অতিরিক্ত অক্সিজেনের কারণে পূণরায় যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য এসি বন্ধ রাখা হবে।’
গত ১৫ জুলাই টাঙ্গাইলের জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ওই দিনই আইসিইউ অকেজো হয়ে যায়। ওই দিনই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানায়, আইসিইউতে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন ব্যবহার না করার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশও করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের কথা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণনালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা টানা ব্যবহার না করে কিছুটা সময় বিরতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে বিরতিহীনভাবে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহার হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত গরম হয়ে এতে আগুন ধরে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে— আইসিইউয়ের ভিতর অতিরিক্ত অক্সিজেন সব সময় থাকে। আইসিইউ মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ কারিগরী জনবলের অভাব রয়েছে। তাই ব্যবহার নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন পরিচালনা করা হয়নি। এখানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত আটটি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিন প্রতিস্থাপনে দীর্ঘসূত্রতাকে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বৈদ্যুতিক কোনো ত্রুটি, ভোল্টেজের হ্রাস-বৃদ্ধি কিংবা শর্ট সার্কিটজনিত কারণে, এ ছাড়াও বাহ্যিক কোনো দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
