আন্তর্জাতিক ডেক্স : পাকিস্তানে আজ ২৫ জুলাই বুধবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির চারটি প্রদেশেও নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ চলবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে গতকালই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রধান বিচারপতি সরদার মোহাম্মদ রেজা গতকাল এক ভিডিওবার্তায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেন। ওই ভিডিওবার্তায় জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। খবর ডনের।
নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। গতকাল প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, উভয় দল প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাবের সিদ্ধান্তহীন ১২ শতাংশ ভোটার নির্বাচনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তানজুড়ে জরিপটি করেছে মার্কিন জরিপ সংস্থা গ্যালাপের পাকিস্তান শাখা। এতে যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে দেখা যায়, পাঞ্জাবে এগিয়ে রয়েছে নওয়াজ শরিফের দল। অন্যদিকে পাকিস্তানজুড়ে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের পিটিআই। তবে এক পাঞ্জাবেই গোটা দেশের অর্ধেকের বেশি আসনে নির্বাচন হয়ে থাকে। এ কারণে নির্বাচনে পাঞ্জাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১০৫.৯৫ মিলিয়ন। ৮৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮ থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন তা নিয়ে কয়েক দিন ধরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। পাকিস্তানে নির্বাচন নির্বিঘœ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা যে কোনো স্থানে রয়েছে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন সে জন্য প্রায় ৮ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকালই নির্বাচনের কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা অবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই নানাভাবে বলা হচ্ছেÑ এবার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জয়ী হবে। বহু বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে ইমরান হতে পারেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী; কিন্তু দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে জেলজীবন অতিবাহিত করছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ইমরানের পথের অন্যতম বাধা। নওয়াজ জেলে থাকলেও তার জনপ্রিয়তা খুব বেশি কমেছে বলা যাবে না। গতকালের গ্যালাপের জরিপেও এটি স্পষ্ট হয়েছে। নওয়াজ গতকালও জেল থেকে ভিডিওবার্তায় জনগণের সমর্থন কামনা করেছেন। তার এই আর্তির মূল্য জনগণ কতটা দেয়, সেটাই দেখার বিষয়। যদিও লন্ডন থেকে পালিয়ে না গিয়ে স্বেচ্ছা কারাবরণ করায় জনগণ তার সাহসের তারিফ করেছে। তাই ইমরানকে জিততে হলে নওয়াজের ঘাঁটি পাঞ্জাবে ফল ভালো করতে হবে।
এ ছাড়া সিন্ধু প্রদেশে রয়েছে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি শক্তিশালী অবস্থানে; কিন্তু প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে পিপিপি নিজের জায়গা করতে পারবে না বলে রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মত। তবে পিপিপির আসনগুলো সরকার গঠনের সময় জোটবাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জোটে পিপিপি কোন দিকে সমর্থন দেয়, সেটি মুখ্য বিষয়। আপতত ইমরান খানকে সমর্থন দেবে না বলে দলটি নির্বাচনী প্রচারে বলছে।
তবে এবারের নির্বাচনে আরেকটি বিষয় আলোচিত হচ্ছে। সেটা হলোÑ সেনাবাহিনী ইমরান খানকে সমর্থন দিচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচনে সেনা হস্তক্ষেপ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বলা হচ্ছেÑ এখন আর সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করে না; কিন্তু তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় বসাতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে। সেই ক্ষেত্রে বলা যায়, ইমরানের পাল্লাই ভারী; কিন্তু জরিপ বলছেÑ কয়েক দিন আগের পরিস্থিতির বদল হয়েছে। এখন লড়াই হবে শেয়ানে-শেয়ানে।
