একুশে বার্তা ডেক্স : বাংলাদেশের বহুল বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, কেউ তার মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।১৪ জানুয়ারি রোববার ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকা আয়োজিত ‘লিট ফর লাইফ (২০১৮)’ প্রোগ্রামে ‘মিসটেরি স্পিকার’ হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। এ সময় দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারকে তিনি বলেন, বিরোধিতার অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া বাকস্বাধীনতার অধিকার কখনোই নিশ্চিত করা সম্ভব না। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ইসলামপন্থিদের আন্দোলনের মুখে ও হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন তসলিমা। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। মাঝে কিছুদিন বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন।
তিনি বলেছেন, ভারতে বসবাসকে তিনি উপভোগ করছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকার কেন বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে না? আমি কখনোই চুপ হয়ে যাবো না। সবচেয়ে বড় অবদমন হল নিজেকে দমিয়ে রাখা। আমি জানি আমাকে হয়তো মেরে ফেলা হতে পারে। তবে আমি এতে মোটেও ভীত নই। তসলিমা আরো বলেন, ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর উচিত ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে পৃথক করা। প্রসঙ্গত, তসলিমা নাসরিনের লেখা বেশ কয়েকটি বই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এবং বিতর্কিত। তার ধর্ম অবমাননাকর লেখনীর বিরোধী মুসলিম কট্টরপন্থীরা। নিজের ধর্ম অবমাননাকর লেখনীর ব্যাপারে তিনি একদম লজ্জিত নন উল্লেখ করে তসলিমা বলেন, দেশত্যাগের চেয়ে আমি বেশি কষ্ট পাই যখন আমাকে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বা মতামত ত্যাগ করতে বলা হয়। এ সময় সুহাসিনী হায়দার তাকে প্রশ্ন করেন: কোনটা বেশি উদ্বেগজনক- রাজনীতি না কি ধর্মের রাজনীতি? উত্তরে তিনি বলেন, পার্থক্যটা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম মৌলবাদ, যৌক্তিক বনাম অযৌক্তিক এবং পরিবর্তন বনাম ঐতিহ্যের। নারীবাদী মতের সঙ্গে যাদের বিরোধ রয়েছে, তাদের প্রতি আঙুল তুলে তিনি বলেন, নারীবাদী হওয়া ছাড়া আপনি একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পারেন না।মানব জমিন
