বিশেষ সংবাদদাতা : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার মো. আব্দুল মালেক এখনও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে বহাল। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়সহ দুদকে আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল না থাকা এবং আয়কর বিবরণীতে দেয়া সম্পদের সাথে বর্তমান সম্পদের অমিল থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি এখনও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে বহাল থেকে ১৪শ’ হজ্ব এজেন্সির থেকে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। তিনি রাজধানী ও তার নিজস্ব এলাকা বরিশালের শায়েস্তাবাদ, চর আইচা তালতলীতে সম্পদের পাহাড় করেছেন বলে অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সরকারিভাবে বাসা বাড়ার টাকা পেলেও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ডরমেটরিতে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছেন। মর্ধ মন্ত্রণালয় হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি থেকে আবাসিকদের উচ্ছেদের জন্য আদেশ দিলেও তা কার্যকর করছে না পরিচালক হজ্ব। বরং আবাসিক বাসিন্দাদের আগলে রেখেছেন পরিচারক হজ্ব।
দুদক ও মন্ত্রী/সচিব বরাবর অভিযোগ থেকে জানা যায়, সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক যখন এখানে যোগদান করেন তখন তিনি ছিলেন সীমিত সম্পদের অধিকারি আর গত ৯ বছরের ব্যবধানে তিনি সম্পদের পাহাড় করেছেন। বরিশালে তালতলি ব্রীজের কাছে ৬ তলা বিল্ডিংয়ের প্লান করে ৬ রুম বিশিষ্ট একতলা সম্পন্ন করেছেন, বিঘায় বিঘায় সম্পদ করেছেন। এ সব সম্পদ তিনি নামে-বেনামে সৎ শাশুড়ির নামে করেছেন। প্রশ্ন ওঠেছে এতো সম্পদের টাকা তিনি পেলেন কোথায়? তার কাছে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ রয়েছে? এর নেপথ্য কারন হিসেবে তার বিরুদ্ধে দুদক ও মন্ত্রী/সচিব বরাবর অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, হজ্ব ক্যাম্পে ১৪শ হজ্ব এজেন্ট থেকে প্রশাসনিক ফাইল চালাচালির মাধ্যমে অনেকটা বাধ্যতামুলকভাবে প্রতি বছর হজ্ব মওসুমে প্রতি হজ্ব এজেন্ট থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে আজ তিনি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তাছাড়া ভিসা প্রসেজিং, হজ্ব লাইসেন্স করা, নবায়ন করা সমস্যা হলে তার সমাধান করার বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে সরকার ৯শ’র অধিক হজ্ব লাইসেন্স প্রদান করেছেন। তিনি এই লাইসেন্স করে দেয়ার নামে তদবির করে লাইসেন্স প্রতি ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মেসার্স শুভ ইন্টারন্যাশনাল ( হজ্ব লাইসেন্স নম্বর-১৩৭১), ১১৫/২৩ ইনার সার্কুলার রোড, ঢাকা এর সত্বাধিকারি মমিন খান যার মোবাইল নম্বর ০১৭১৫৯৩৭৩৪১ থেকে ১০ লাখ টাকা লাইসেন্স বাবদ ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন দেশ ভ্রমণ ট্রাভেলস -এর মালিক আবু তাহেরের মধ্যস্থতার মাধ্যমে। হজা¦ এটেজন্টগণ হজ্ব যাত্রীদের ভিসা ইস্যুর জন্য ডিও লেটার জারির নথি চলাচলে সহকারি হজ্ব অফিসারের হাতে ১০/১৫ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে ফাইল চলাচল থমকে থাকে। বাধ্য হয়ে হজ্ব এজেন্টগণ হজ্ব যাত্রীদের ভিসার জন্য ফাইল চালাচালির জন্য হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের হাতে ১০/১৫ হাজার টাকা কওে তুলে দিচ্ছেন। এভাবে হজ্ব এজেন্টদের অনেকটা জিম্মি করে সহকারি হজ্ব অফিসার আজ কোটিপতিতে রূপান্তর হয়েছেন, গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।্ তবে তিনি যখন বিপদে তখন তিনি কথায় কথায় আল্লাহর কছম এবং হাতে-পায়ে ধরতে দ্ধিধা করেন না এবং চোখের পানি ফেরতে সময় লাগে না।
অভিযোগনামা থেকে আরো জানা যায়, তার সর্বসাকবুল্যে মাসিক বেতন ৪৪ হাজার টাকা। কিন্ত তিনি কোটিপতি! ইসলামি ব্যাংক আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প শাখায় তার একটি হিসাবে ১০/১৫ লাখ টাকা গচ্ছিত রয়েছে, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-২৬১১০৩৮৭৪৩৯১৭, মোবাইল নম্বর-০১৭২-০০১৭৩৭৭, পাসপোর্ট নম্বর-ওসি-৭১৪১৪৬৫, তার বাবার নাম মৃতমেনাজ উদ্দিন, গ্রাম-দক্ষিণ চরআইচা, ডাক- শায়েস্তাবাদ, সদর বরিশাল।
দুর্নীতির দায়ে সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেককে কয়েকবার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প থেকে বদলি করা হয়। কিন্ত তিনি বার বারই তদবির করে আবার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ফিরে আসেন। তিনি নাকি ঘুষ বাণিজ্যের জন্যই বার বার বদলির পরও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ফিরে আসেন। তার সৎ শ্বশুড়বাড়ির নামে বরিশালের কাশিপুর গ্রামের হাতেসা মাাজারের পাশে ৪০ লাখ টাকা খরচ করে সম্পদ ক্রয় করেন। পরে তা তার স্ত্রী রাশিদা ইয়াসমিন টুলির নামে হস্তান্তর করেছেন। তার স্ত্রী টুলির মোবাইল নম্বর-০১৭১৮-১০৯২৬২।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প অফিসে গিয়ে এবং মোবাইলে কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
