এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছে :ফখরুল

একুশে বার্তা প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলার রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় পূর্ব নির্ধারিত। এই অবৈধ সরকার আগেই রায় লিখে রেখেছে। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন, তাই।’

২৫ জানুয়ারি  বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাই, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে দুইটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায় নিয়ে এসেছে। সপ্তাহে তিনদিন দেশনেত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নজিরবিহীন নির্যাতন, তারিখে তারিখে জামিন দেয়ার নজিরবিহীন আদেশ সমগ্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট এখন- নজিরবিহীন দ্রুততার সঙ্গে মামলা শেষ করার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে এই সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। ভয় পায় বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এহেন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বিচারাধীন মামলার রায়ের আগেই খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘তাদের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামীল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যিনি সরকারের বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ বলেছেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে।’ তাহলে দেশনেত্রীর মামলার রায় কি পূর্ব নির্ধারিত? এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছেন।’’

ফখরুল আরও বলেন, ‘কোন প্রয়োজন ছিলো না। দেশে যে আইনের শাসন নেই, ন্যায় বিচার সূদূর পরাহত- এটা প্রমাণিত হচ্ছে। বিচার হবে- প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই। এখন পর্যন্ত এরশাদ এই বক্তব্যের জন্য আদালত অবমাননার শামীল, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

নেতাকর্মীদের মামলা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেভাবে তারা বিরোধী দলকে নির্মূল করবার জন্যে, বিরোধী দলকে পুরোপুরি মাঠ থেকে সরিয়ে দেবার জন্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নেতা-কর্মীদের  গ্রেপ্তার করেছে, হত্যা করছে, গুম করেছে। একদিকে তারা নির্বাচনের কথা বলেছে, অন্যদিকে বিরোধী দলকে গুরুতরভাবে নিঃশেষ করে দেবার করার চক্রান্ত করছে। বিদ্যমান অবস্থায় নির্বাচনের সমান্তরাল মাঠ হতে পারে না। সুতরাং নির্বাচন করতে হলে, অবশ্যই মাঠকে সমান্তরাল করতে হলে বিরোধী দলের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ক্রস ফায়ার, হত্যা-গুম বন্ধ করতে বলছি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশের সকলকে জেগে উঠার আহবান জানাচ্ছি।