এবার গরু নিয়ে শাহজালালে লঙ্কাকান্ড : আধঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ : ভুয়া ডিক্লারেশনে আমেরিকা থেকে আমদানি করা গরু রাতভর চষে বেড়ালো শাহজালালের রানওয়ে , তদন্ত কমিটি গঠিত

একুশে বার্তা রিপোর্ট : এবার শাহজালাল বিমানবন্দরে গরু নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটেছে। আমেরিকা থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত গরু শাহজালালের রানওয়েতে চষে বেড়ালো , ২৪ ঘন্টা গরুটিকে উদ্ধার করে সাভার প্রণিসম্পদ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  আমেরিকার টেক্সাস থেকে আনা ৩০টি গরু ভুয়া ডিক্লারেশনে আমদানি করা হয়, ঘোষণায় উল্লেখ করা এক জাত, শাহজালালৈ অবতরণের পর পরিক্ষার পর মিলে অন্যজাত।  জাত নিয়ে জালিয়াতিতে হুলুস্থূল কান্ড- ঘটে।

১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি কার্গো ফ্লাইটে গরুগুলো অবতরণ করে। আমদানির ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত জাতের সঙ্গে বাস্তবে মিল না পেয়ে গরুগুলো আটকে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি গরু ছুটে গিয়ে রানওয়েতে চলে গেলে আধঘণ্টা বন্ধ থাকে বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ। সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায় গতকাল শনিবার সকালে।

গরুগুলো আমদানি করে রাজধানীর খিলক্ষেতের সান ডেইরি ফার্ম নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ফিজিএম জাতের ঘোষণা দিয়ে ৭ মাস থেকে ৭ বছর বয়সী ১৭টি ষাঁড় ও ১৩টি গাভী আনে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিমানবন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টিন স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাচাই করে গরুগুলো ব্রাহমা প্রজাতির বলে জানালে সেগুলো আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের হ্যাঙ্গার গেট (৮ নম্বর) থেকে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। গরুগুলো মিথ্যা ঘোষণায় আনা হয়েছে বলে দোষ স্বীকার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকাও দেন ডেইরিটির স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদুল ইসলাম।

জাত নিয়ে এই হুজ্জোতির মধ্যেই আরেক বিপত্তি বাধায় একটি গরু। রাতে জব্দ গরুগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। অধিদপ্তর সেগুলোকে পাঠাবে সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে। কার্গো থেকে নামানোর সময় হঠাৎ বাঁধন ছিঁড়ে রানওয়ের দিকে পালিয়ে যায় বিশালাকার একটি গরু। দীর্ঘ সময়েও তাকে ধরতে না পেরে প্রায় আধঘণ্টা বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। রাতভর অভিযান শেষে গতকাল সকাল ৮টার দিকে এটিকে রানওয়ে এলাকার একটি ঝিল থেকে উদ্ধার করেন সংশ্লিষ্টরা। শাহজালালের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টিন স্টেশনের কোয়ারেন্টিন অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক জানান, উদ্ধারের পর গরুটিকে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে পাঠানো হয়েছে। বাকি গরুগুলোও বর্তমানে সেখানে রয়েছে। গরুগুলোর জাত নিরূপণে শুক্রবারই তদন্ত কমিটি করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

মুচলেকা অনুযায়ী, গরুগুলো বিমানবন্দর থেকে সাভার পর্যন্ত পরিবহন এবং পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবেন ডেইরি সানের স্বত্বাধিকারী মাসুদুল ইসলাম। এ ছাড়া দীর্ঘ পরিবহনজনিত ধকলের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা মৃত্যু হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দায়ী থাকবে না বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন মাসুদুল ইসলাম।

ঢাকা কাস্টমস হাউস কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ৩০টি গরু আটক করা হয়। পরে সেগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে একটি বিভাগীয় মামলা হয়েছে।