সিভিল এভিয়েশন : দুই কেরানির দাপট, হাফিজের দাপট প্রশাসনে, তদন্ত ভেস্তে গেছে

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে প্রায় দুইযুগ ধরে সদর দপ্তরে কর্মরত এক মহিলা কেরানি এবং এক পুরুষ কেরানির দাপটে কুপোকাত নীরিহ কর্মচারিরা। এরমধ্যে কেরানি উম্মে হাবিবা ব্লাকবল পোস্টে কর্মরত ( যোগদানের পর থেকে কোন বদলি নেই, এই পোস্টে বসে চাকরি শেষ করবেন, পদোন্নাতি হলে পরিচালক প্রশাসন হবেন, নতুন অর্গানোগ্রামেও ডিডি প্রশাসনের বদলির শর্তারূপ করা হয়নি) ডিডি প্রশাসনের দাপট দেখায়, ডিডি প্রশাসনের সাংবিধানিক কোন পিএ না থাকলেও উম্মে হাবিবা অলিখিতভাবে ডিডি প্রশাসনের পিএগিরি করছেন বলে কর্মচারীরা জানান। ডিডি প্রশাসনের নামে ফাইল আটকে ঘুষ আদায় করে থাকেন বলে কর্মচারিরা অভিযোগ করেন। নীরিহ কর্মচারিরা পেনশনের ফাইলের ব্যাপারে কেরানি হাবিবার টেবিলে খোজখবর নিতে হাজির হলে তিনি তাদের সাথে চরম খারাপ আচরণ করে থাকেন। কোন ফাইলই ঘুষ ছাড়া নড়েচড়ে না বলে কর্মচারিরা জানান। উম্মে হাবিবার নামে কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা বরাদ্দ থাকলেও তিনি থাকেন উত্তরার অভিজাত এলাকায়, প্রাডো গাড়িতে চড়ে অফিসে আসেন বলে কর্মচারীরা জানান। এবার কেরানি উম্মে হাবিবা নতুন করে ডিডি প্রশাসনের নিয়োগ বাণিজ্যের ফসলস্বরূপ জনবল নিয়োগের ছক কষছেন, লাখ লাখ টাকার ঘুষের ডাক ওঠেছে বলে অনেকে বলে বেড়াচ্ছেন। কাওলার কবরস্থানের পাশে ডিডি প্রশাসনের ১০ তলা বাড়ির নির্মাণকাজ চলছে বলে কর্মচারিরা জানান। ডিডি প্রশাসনের কথিত ভাগিনা সেই হাকিম স্বর্নসহ হাতেনাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রেফতার হলেও চাকরিচ্যুত করা হয়নি। যদিও ডিডি প্রশাসন হাকিমকে ভাগিনা বলে স্বীকার করেন না।
কেরানি শাহীন : আরেক পুরুষ কেরানি শাহীনের রাজত্ব সিভিল এভিয়েশনে সবার মুখে মুখে। কাওলার স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা বাসা বরাদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতির সাথে কেরানি শাহীন দীর্ঘদিন জড়িয়ে থাকলেও তিনি প্রশাসনেরই কিপয়েন্টে বসা পরিচালক প্রশাসনের পিএগিরি করছেন। পরিচালকের ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এখনও বাসা বরাদ্ধে অনিয়ম- দুর্ণিিত করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। নীরিহ কর্মচরিরা জানান, কেরানি শাহীনের হাতে নজরানা তুলে না দিলে কপালে বাসা-বাড়ি বরাদ্ধ হয় না। আগে স্টেটে বসে বাসা বরাদ্ধে অনিয়ম -দুর্ণীতি করলেও তার বিন্দুপরিমাণও কমেনি এখন আরো তার ক্ষমতা বেড়ে গেছে দ্বিগুণ, কারণ পরিচালক প্রশাসনের পিএ বলে কথা। পরিচালকের দপ্তরে কোন ফাইল- ই কেরানি শাহীনকে নজরানা না দিলে ভিতরে ঢুকে না, অনেক সময় ফাইল গায়েবে করার মতো কান্ড নাকি ঘটে থাকে।
কেরানি হাফিজ :‘ ফাইল রেডি, ঘুষ নিয়ে আসেন’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিকে কেরানি হাফিজকে নিয়ে শিরোনাম হলেও এখনও কেরানি হাফিজ বহাল, প্রশাসনেরই মাথায় বসে আসেন, চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করার পরও তা তদন্তে ভেস্তে গেছে। পরিচালক প্রশাসন, সদস্য ফাইন্যান্স এবং সদস্য প্রশানের পিএগিরি করছেন, সিএএবি থেকে তাকে দায়িত্ব ভাতাও দেয়া হয়।